
এ আর সাইফুল ইসলাম,বিশেষ প্রতিনিধি: ৯ জানুয়ারির গেজেট বাস্তবায়নের দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবে শিক্ষক সমাজের অবস্থান।
বাংলাদেশ বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সাধারণ শিক্ষক ঐক্য পরিষদ জাতীয়করণ বঞ্চিত বিদ্যালয়গুলোর দাবিতে রাজধানীতে জাতীয় প্রেসক্লাবে সামনে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে। ৯ জানুয়ারি ২০১৩ সালের গেজেটের আলোকে জাতীয়করণ বঞ্চিত বেসরকারি বিদ্যালয়গুলোকে জাতীয়করণের দাবিতে তারা প্রধান উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
সংগঠনের নেতৃবৃন্দ জানান, ২০১৩ সালে তৎকালীন সরকার দেশে থাকা বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের ঘোষণা দিলেও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে অনেক বিদ্যালয় বঞ্চিত করা হয় । সারাদেশে ৩০ হাজারেরও বেশি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকলেও মাত্র ২৬ হাজার ১৯৩টি জাতীয়করণ করা হয়। বাকিগুলো আজও বঞ্চিত রয়েছে।
সরকারি নির্দেশনা থাকলেও বাস্তবায়ন হয়নি, শিক্ষক ঐক্য পরিষদ দাবি করে বলেন, ২০১৬, ২০১৮, ২০২০ এবং ২০২৫ সালে বিভিন্ন সময় সরকারি নির্দেশনা, মন্ত্রণালয়ের চিঠি এবং জাতীয় বাজেটে উল্লেখ থাকলেও তা কার্যকর হয়নি। ২০২৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারিতে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার জন্য চিঠি পাঠানো হলেও এখনও কোনও বাস্তবায়ন দেখা যায়নি।
প্রেসক্লাবে সমাবেশে পুলিশের জলকামান ও লাঠিচার্জ গত ১৫ সেপ্টেম্বর জাতীয় প্রেসক্লাবে প্রায় দশ হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকার সমাবেশের পর স্মারকলিপি দিতে গেলে পুলিশ জলকামান, লাঠিচার্জ ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করে। এতে বহু শিক্ষক আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন।
এক শিক্ষক বলেন, “আমরা বারবার আশ্বাস পেয়েছি। কিন্তু কোনও সিদ্ধান্ত বাস্তবে দেখা যাচ্ছে না। দাবি পূরণ না হলে আমরণ অনশন ছাড়া আমাদের সামনে আর পথ নেই।”
টানা অবস্থান কর্মসূচি, অনশনের ঘোষণা,
আন্দোলনকারীরা জানান, টানা ৩০ দিনের অধিক সময় ধরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। দাবি আদায় না হলে আমরণ অনশনে যাওয়ারও ঘোষণা দেয়া হয়েছে। যতদিন দাবি পূরণ না হবে তারা ঘরে ফিরবেন না বলে সংগঠনের নেতারা হুঁশিয়ারি দেন।
তারা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে দ্রুত জাতীয়করণ বঞ্চিত বিদ্যালয়গুলোর সমস্যা সমাধান এবং শিক্ষক সমাজের ন্যায্য দাবি বাস্তবায়নের দাবি জানান।
সাধারণ শিক্ষক ঐক্য পরিষদের পক্ষে সোহেল রানা,জুয়েল মিয়া,মো. নিজাম উদ্দিন,কামরুন নাহার নুপুর।