
গাজীপুর প্রতিনিধি: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচারের শিকার তোফাজ্জল হোসেনের দাবি- “আমাকে হেয় করার ষড়যন্ত্র চলছে”। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য প্রচারের প্রতিবাদে গাজীপুরের শ্রীপুরে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার মাওনা ইউনিয়নের ফুলানীরসিট গ্রামে ভুক্তভোগী তোফাজ্জল হোসেনের বাড়ির পাশে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
এ সময় এলাকাবাসী এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী অপপ্রচারের ঘটনায় গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তোফাজ্জল হোসেন বলেন, “সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমার নামে মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য প্রচার করা হয়েছে। তারা দাবি করেছে, আমি নাকি এলাকার চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছি। বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং আমার সামাজিক সুনাম নষ্টের একটি চেষ্টামাত্র।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের গ্রামের যেই রাস্তা নিয়ে কথা বলা হচ্ছে, তা বহু বছর ধরেই স্থানীয়দের চলাচলের জন্য খোলা আছে। আজও রাস্তা সচল রয়েছে, কেউ চাইলে সরেজমিনে এসে দেখে যেতে পারেন। কিন্তু কিছু কুচক্রী মহল নিজেদের স্বার্থে আমাকে হেয় করতে মিথ্যা সংবাদ প্রচার করছে।”
তোফাজ্জল হোসেন অভিযোগ করেন, “আমাকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। এর মাধ্যমে আমার সম্মান, মর্যাদা এবং পারিবারিক সুনাম ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চলছে।”
তিনি বলেন, “আমি এসব মিথ্যা প্রচারণার বিরুদ্ধে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি। যারা ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে, তাদের আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।”
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, আলোচিত রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন এলাকাবাসী স্বাভাবিকভাবে চলাচল করছেন। সেখানে কোনো বাধা বা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়নি। তারা বলেন, “রাস্তা বন্ধ করা হয়েছে-এমন দাবি পুরোপুরি মিথ্যা। আমরা নিজেরাই প্রতিদিন এই রাস্তা ব্যবহার করি।”
অন্যদিকে, এলাকাবাসীর পক্ষ থেকেও এ ধরনের অপপ্রচার বন্ধে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। তারা বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এখন সংবাদ প্রচারের একটি শক্তিশালী মাধ্যম হলেও, কিছু ব্যক্তি সেটিকে অপব্যবহার করে অন্যের সম্মানহানি করছে, যা দুঃখজনক।
আয়োজক পক্ষ গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, “আমরা চাই প্রকৃত তথ্য জনগণের সামনে আসুক। কেউ যেন অপপ্রচার বা গুজবে বিভ্রান্ত না হন। সত্য প্রকাশের মাধ্যমেই সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।” আইনজীবী মহল মনে করেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিথ্যা তথ্য প্রচার ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন’-এর আওতায় দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তোফাজ্জল হোসেন প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিলেরও ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, “আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই আইনগতভাবেই এই অপপ্রচারকারীদের জবাব দিতে চাই।”