
নজরুল ইসলাম, যশোর প্রতিনিধি:বেনাপোল কাস্টমস থেকে ১৯ কেজি সোনা চুরির মামলার ৬ বছর পেরিয়ে গেলেও বিচারকাজ সাক্ষ্য গ্রহণে আটকে আছে। মামলায় ৩৪ সাক্ষীর মধ্যে আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন ১০ জন। এমনকি অভিযোগ পত্র ভুক্ত সাত আসামির সবাই জামিনে রয়েছেন।
তবে সম্প্রতি গুঞ্জন উঠেছে ওই সময় সেখানে বেনাপোল কলেজ পাড়ার একজন ইলেকট্রিক মিস্ত্রি কাস্টমস হাউজে কাজ করত। সে তার কলাকৌশল প্রয়োগ করে সিসি ক্যামেরার লাইন বন্ধ করে তার সহযোগিদের নিয়ে এই স্বর্ণ চুরি করতে পারে। ওই মিস্ত্রি বর্তমানে যশোর বাড়ি ঝিকরগাছা এলাকায় কয়েক বিঘা জমি ক্রয় এবং গ্রামে বড় বাড়ি হাকানোর কারনে অভিযোগ উঠেছে এ স্বর্ণ চালান চুরির সাথে তার সম্পৃক্ততা থাকতে পারে।
সাক্ষীরা নির্ধারিত সময়ে আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় মামলাটির বিচার থমকে আছে বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষেরে আইনজীবীরা। এদিকে ঘটনাস্থলে ক্লোজড সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা এবং প্রশাসনিক নিরাপত্তার মধ্যে লকার খুলে চুরি হওয়া সোনা ৬ বছরেও উদ্ধার হয়নি।
বেনাপোল কাস্টমস ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালের ৯ নভেম্বর থেকে ১১ নভেম্বর তিন দিন পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী, সরকারি ছুটি এবং ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের কারণে কাস্টমস বন্ধ ছিল। সেই সময়ে কাস্টম হাউসের পুরাতন ভবনের দ্বিতীয় তলার গুদামের তালা ভেঙে চোরেরা ভল্ট থেকে ১৯ কেজি ৩১৮ দশমিক তিন গ্রাম সোনা চুরি করেন।
চুরি হওয়া সোনার সে সময়ে বাজারমূল্য প্রায় ১০ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। এই ভল্টের চাবি ছিল তৎকালীন ভল্ট ইনচার্জ সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা শাহিবুলের কাছে। ১২ নভেম্বর সকালে বিষয়টি জানাজানি হলে কাস্টমস হাউসের রাজস্ব কর্মকর্তা এমদাদুল হক বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে চুরির মামলা করেন বেনাপোল পোর্ট থানায়।