1. admin@dailytathyanusandhan.com : admin :
শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:২৬ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
মেঘনায় ১১ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপদ বিশুদ্ধকরন পানির ফিল্টার বিতরণ দেবিদ্বারে স্ত্রীর মর্যাদা ও সন্তানের স্বীকৃতির দাবিতে প্রবাসীর বাড়িতে এক নারীর অবস্থান মাদক কারবারিরা সমাজের সবচেয়ে বড় শত্রু, এদের আইনের হাতে তুলে দিন : ইউএনও অশোক বিক্রম চাকমা সাংবাদিক জনি ফারুককে হেয়প্রতিপন্ন করতে ভিত্তিহীন ভুয়া সংবাদপত্রের কাটিং বানিয়ে অপপ্রচার, তীব্র প্রতিবাদ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মাদক সেবীদের ডোপ টেস্টের ব্যবস্থা করা হবে কোটচাঁদপুর আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভায় এমপি,মতিয়ার রহমান সরকার নাগরিকদের অধিকার রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ : আইনমন্ত্রী হলফনামায় ভুয়া সনদ দাখিলের অভিযোগ এমপি নয়নের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জে আওয়ামীলীগের রাজনীতি চাঙ্গা করতে মামা ভাগ্নের নীল নকশা সালনা ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসার অভিভাবকদের মত বিনিময় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত. আইনশৃঙ্খলা ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ঝিনাইদহ জেলার শ্রেষ্ঠ থানা মহেশপুর

সাতক্ষীরা পৌর ভূমি অফিসে সুমির বেপরোয়া ঘুষ বাণিজ্যের শেষ কোথায়, সেবা প্রত্যাশীদের মনে আতঙ্ক?

  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৬৪ বার পঠিত

এম ইদ্রিস আলী,সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: এ-জেন আলাউদ্দিনের চেরাগ, ঘষা দিলেই বনে যায় সরকারি চাকুরী”ঠিক এমনটি হয়েছে সাতক্ষীরা পৌর ভূমি অফিসের অফিস সহায়ক সুমি-র জীবনে। মা থেকে মেয়ে, মেয়ে থেকে জামাই, সবাই ভূমি সহায়ক হিসেবে করেন সরকারি চাকরি। যার ফলে সবাইকে নিয়ে গড়ে উঠেছে এক অদৃশ্য সিণ্ডিকেট। আর এই সিণ্ডিকেটের ফাঁদে খোদ নায়েব শর্মিষ্ঠা সরকারের পোহাতে হয়েছে নানা ঝামেলা,ঠিক বাড়ির ছোট কোন সন্তান অপরাধ করলে যেমন পিতা মাতার উপর দ্বায় চাপ”‘ঠিক তেমনি ভাবে পৌর ভূমি অফিসে কোন ঘটনা ঘটলে তার সকল অনিয়মের দ্বায় পড়ত ভূমি সহকারী অফিসার শর্মিষ্ঠা সরকারের উপর।
যার ফলে নানা কারনে সাতক্ষীরা পৌর ভূমি অফিস থেকে তাকে বদলি করা হয় অন্য জেলায়। আর শর্মিষ্ঠা সরকার বদলি হওয়ার পরপরই বেরিয়ে আসে পৌর ভূমি অফিসের ভয়াবহ দালাল সিণ্ডিকেটের ঘটানো চাঞ্চল্যকর ঘটনা । যার মূল হোতারা কাজ করত খোদ ভূমি অফিসের মধ্যেই। অনুসন্ধানে জানা যায়, পৌর ভূমি অফিসের একজন নারী অফিস সহায়ক সুমি ও তার স্বামী ভূমি সহায়তা কেন্দ্রে-র মোরাদ হোসেন মিলে গড়ে তোলে এই সিন্ডিকেট। সিণ্ডিকেটের অন্য সদস্য-রা অফিসের সামনে ফটোকপি-র দোকান ও মিউটেশন আবেদনের অনলাইন কম্পিউটারের দোকানগুলো। এদের মধ্যে একজন ফটোকপি-র দোকানদার ও কম্পিউটার দোকানদার ও সুমির স্বামী মোরাদ হোসেন মিলে
অবৈধ ভাবে জাল (দলিল) কাগজের মাধ্যমে হাতিয়ে নেই লক্ষ লক্ষ টাকা। সম্প্রতি এমই একটি ঘটনায় সংবাদ প্রচারের পরে বেরিয়ে আসছে সিণ্ডিকেট গডফাদারদের নাম। খোদ ভূমি অফিসের সহয়ক সুমি রয়েছেন এই সিন্ডিকেটে, ফলে সহজে নায়েব থেকে এ্যসিল্যাণ্ড সবার কাছ থেকে সকল কাজ সহজে হয়ে যায়। আরো জানা যায়,
মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে ভূমি সহায়ক পদে চাকরি পান তিনি।
পরবর্তীতে তাকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয় নি। আলাউদ্দীনের চেরাগ সরকারি এই চাকরি পেয়েই বদলে যায় তার জীবন।
একজন সামান্য ‘অফিস সহায়কের’ দুর্নীতির কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষ। অভিযোগ উঠেছে, অফিস সহায়ক সুমির শক্তিশালী দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে চলছে এই অফিসের পুরো ঘুষ বাণিজ্য। অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, দুর্নীতি ও ঘুষের বিনিময়ে প্রথমে ও-মেদার পদে সাতক্ষীরা ডিসি অফিসে প্রবেশ করেন সুমি। পরবর্তীতে নাজির শাহাবুদ্দিনের সাথে ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠার পর মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে সুমির সরকারি ‘অফিস সহায়ক’ পদের চাকরি নিশ্চিত হয়। এরপরই বেপরোয়া হয়ে ওঠেন তিনি। কেবল নিজেই নন, নাজির শাহাবুদ্দিনকে মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে সুমি তার পরিবারের আরও ৭ থেকে ৮ জনকে বিভিন্ন সরকারি অফিসে ‘অফিস সহায়ক’ পদে চাকরি পাইয়ে দেন। ফলে পুরো পরিবারই যেন এক ছাতার নিচে পেয়ে যায় ঘুষ ও দুর্নীতির প্রাতিষ্ঠানিক লাইসেন্স। সাম্প্রতিক তদন্তে এই সিন্ডিকেটের নতুন এক জালিয়াতির তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। অভিযোগ উঠেছে, একটি জাল দলিল (নং ১৬২৩/০৭) তৈরি করে লাখ টাকার বিনিময়ে শ্রী রাজকুমার মাখাম নামে এক ব্যক্তির নামে জমি রেজিস্ট্রি ও নামজারি করিয়ে দেওয়া হয়েছে। ঘুষের টাকা না দিলে কোনো সেবাগ্রহীতার ফাইল নড়ে না বলে সাধারণ গ্রাহকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।সরকারি নিয়ম অনুযায়ী একজন অফিস সহায়কের মূল বেতন (বেসিক স্যালারি) মাত্র ৮,৪০০ টাকা। তবে মাত্র কয়েক বছরে এই বেতনের বিপরীতে সুমি ও তার পরিবারের রসুলপুরে জমি কিনে গড়ে তুলেছেন কয়েক লক্ষ টাকা ব্যায়ে বাড়ি। গত তিন বছরেই স্বামী মুরাদকে কিনে দিয়েছেন প্রায় ৮ লাখ টাকা মূল্যের তিনটি বিলাসবহুল মোটরসাইকেল। সদর ভূমি অফিস সহ বিভিন্ন দপ্তরে একাধিপত্য বিস্তার করে গড়ে তুলেছেন দুর্নীতির শক্ত বলয়।শহরের স্থায়ী বাসিন্দা কালাম গাজী সেবাগ্রহীতা জানান, সাতক্ষীরা সদর ভূমি অফিসে ঘুষ ছাড়া কোনো দিনই সেবা পাওয়া যায় না। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সবাইকেই এই সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি থাকতে হয়।অফিস সহায়কের মতো সর্বনিম্ন পদের কর্মচারীর এমন আলাদিনের চেরাগ পাওয়ার মতো রাতারাতি আঙুল ফুলে কলাগাছ হওয়ার ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহলে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের দাবি, দ্রুত এ বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত চালিয়ে সুমি, নাজির শাহাবুদ্দিন ও তাদের সহযোগী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।অভিযুক্ত সুমির কাছে এই গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন নাজির স্যারের মাধ্যমেই আমার চাকরি হয়েছে এবং আমার পরিবারের অনেকেরই চাকরি দিয়েছেন। আর বর্তমানে কোন অফিসে ঘুষ,দুর্নীতি হয় না, আমাকে একটু দেখান, আর আমরা করলে দোষ কি।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © তথ্যানুসন্ধান ২০২৫
Theme Customized By Shakil IT Park