
এ আর সাইফুল ইসলামঃ দেশের প্রাণিসম্পদ খাতকে এগিয়ে নিতে যারা বছরের পর বছর মাঠপর্যায়ে নিরলস পরিশ্রম করেছেন, সেই ৪২০০ জন লাইভস্টক সার্ভিস প্রোভাইডার (এলএসপি) আজ অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি।
“ভিক্ষা চাই না, কর্মসংস্থান চাই”—এই স্লোগানকে সামনে রেখে তারা শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছেন।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের আওতায় পরিচালিত প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্প দেশের পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, প্রাণিজ আমিষ উৎপাদন বৃদ্ধি এবং প্রান্তিক খামারিদের সহায়তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
২০১৯ সালের ১৬ অক্টোবর থেকে দেশের ৬১টি জেলার ইউনিয়ন, পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশন এলাকায় এলএসপি হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মীরা মাঠপর্যায়ে কাজ করে গড়ে তুলেছেন এক বিশাল সেবা নেটওয়ার্ক।
এই কর্মীদের হাত ধরেই সারাদেশে প্রায় ৬৫০০টি উৎপাদনকারী দল (PG) গঠন হয়েছে, যার মাধ্যমে প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার খামারিকে দেওয়া হয়েছে প্রাথমিক চিকিৎসা, টিকাদান ও প্রশিক্ষণ। শুধু তাই নয়, খামারিদের নিয়মিত সঞ্চয় কর্মসূচির মাধ্যমে ইতোমধ্যে ১৩০ কোটি টাকার সঞ্চয় জমা হয়েছে, যা দেশের গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার একটি অনন্য উদাহরণ।
কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে, গত ৩১ মার্চ ২০২৬ তারিখে প্রকল্পটির অর্থ অবশিষ্ট থাকা সত্ত্বেও এটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে হাজারো পরিবার—যাদের মধ্যে রয়েছে বিধবা নারী, ডিভোর্সপ্রাপ্ত নারী ও অসহায় যুবক—আজ হঠাৎ করেই বেকার হয়ে পড়েছেন।
দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন দপ্তরে স্মারকলিপি প্রদান, বৈঠক, সাংবাদিক সম্মেলন ও মানববন্ধন করেও এখনো কোনো কার্যকর সিদ্ধান্ত না পাওয়ায় তারা চরম হতাশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া একাধিক এলএসপি সদস্য আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন—
“আমরা ভিক্ষা চাই না, আমরা আমাদের কাজের স্বীকৃতি চাই। ইউনিয়ন ভিত্তিক স্থায়ী কর্মসংস্থান পেলে আমরা দেশের প্রাণিসম্পদ খাতকে আরও শক্তিশালী করতে পারবো।”
তারা আরও বলেন, দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে প্রাণিসম্পদের শূন্য পদগুলো এলএসপিদের মাধ্যমে পূরণ করা হলে সরকার যেমন দক্ষ জনবল পাবে, তেমনি খামারিরাও পাবেন নিয়মিত ও মানসম্পন্ন সেবা।
আজ এই ৪২০০ পরিবারের একটাই প্রত্যাশা—
সরকার যেন মানবিক দৃষ্টিতে বিষয়টি বিবেচনা করে দ্রুত ইউনিয়ন ভিত্তিক স্থায়ী কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।
কারণ এই কর্মীরা শুধু একটি চাকরি চান না—
তারা চান দেশের কৃষি ও প্রাণিসম্পদ খাতকে স্বনির্ভর করার স্বপ্ন বাস্তবায়নের সুযোগ।
বিশেষ প্রতিনিধি মন্তব্য
মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে স্পষ্ট হয়—এই ৪২০০ কর্মীর পিছনে রয়েছে হাজারো পরিবারের স্বপ্ন, সংগ্রাম ও বেঁচে থাকার লড়াই। দেশের প্রাণিসম্পদ উন্নয়নে যারা দীর্ঘদিন মাঠপর্যায়ে নিরলস শ্রম দিয়েছেন, তাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়া কোনোভাবেই কাম্য নয়।
রাষ্ট্র যদি সময়োপযোগী ও মানবিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, তাহলে শুধু কর্মসংস্থানই নয়—দেশের খাদ্য নিরাপত্তা, প্রাণিসম্পদ খাত এবং গ্রামীণ অর্থনীতিও আরও শক্তিশালী হবে।
এখন সময়—সরকারের মানবিক ও দায়িত্বশীল পদক্ষেপ নেওয়ার।
প্রাণিসম্পদ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা লাইভস্টক সার্ভিস প্রোভাইডারদের প্রকল্প বন্ধ—হাজারো পরিবার আজ দিশেহারা