
স্টাফ রিপোর্টার: নরসিংদীর মাধবদীতে পারিবারিক কলহের জেরে হোসনেআরা বেগম (৩২) নামে এক গৃহবধূকে মারধর ও মাথায় আঘাত করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্বামী শরিফ হোসেনের বিরুদ্ধে। পরে ঘটনা গোপন করতে গভীর রাতে মরদেহ কবর দেওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয়দের সন্দেহের মুখে পড়েন তিনি। একপর্যায়ে স্থানীয়রা তাঁকে আটক করে পুলিশে খবর দেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাধবদীর ভূঁইয়াকান্দি এলাকার তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে শরিফ হোসেন মাধবদী গরুর হাটের একটি চায়ের দোকানে কাজ করেন। প্রায় ১৪ থেকে ১৫ বছর আগে হোসনেআরা বেগমের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। তাঁদের সংসারে আট বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ঘটনার দিন পারিবারিক বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথাকাটাকাটি ও ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে শরিফ হোসেন তাঁর স্ত্রীকে মারধর করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ সময় হোসনেআরা ছিটকে গিয়ে বাড়ির আঙিনায় থাকা একটি টিউবওয়েলের সঙ্গে মাথায় আঘাত পান। এতে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।
পরে শরিফ তাঁকে ঘরের ভেতরে নিয়ে যান। একপর্যায়ে হোসনেআরার মৃত্যু হয়েছে বুঝতে পেরে মরদেহ গোপনে সরিয়ে ফেলার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, গভীর রাতে শরিফ হোসেন মরদেহ নিয়ে মাধবদীর পার্শ্ববর্তী আড়াইহাজার থানার বগাদী কান্দাপাড়া কবরস্থানে যান। সেখানে মরদেহ মাটিচাপা দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় তাঁর গতিবিধি স্থানীয়দের সন্দেহজনক মনে হয়। পরে স্থানীয়রা সেখানে গিয়ে তাঁকে আটক করেন এবং পুলিশকে খবর দেন।
খবর পেয়ে মাধবদী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শরিফ হোসেনকে আটক করে। একই সঙ্গে কবরস্থান থেকে হোসনেআরা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।