1. admin@dailytathyanusandhan.com : admin :
শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:২৬ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
মেঘনায় ১১ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপদ বিশুদ্ধকরন পানির ফিল্টার বিতরণ দেবিদ্বারে স্ত্রীর মর্যাদা ও সন্তানের স্বীকৃতির দাবিতে প্রবাসীর বাড়িতে এক নারীর অবস্থান মাদক কারবারিরা সমাজের সবচেয়ে বড় শত্রু, এদের আইনের হাতে তুলে দিন : ইউএনও অশোক বিক্রম চাকমা সাংবাদিক জনি ফারুককে হেয়প্রতিপন্ন করতে ভিত্তিহীন ভুয়া সংবাদপত্রের কাটিং বানিয়ে অপপ্রচার, তীব্র প্রতিবাদ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মাদক সেবীদের ডোপ টেস্টের ব্যবস্থা করা হবে কোটচাঁদপুর আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভায় এমপি,মতিয়ার রহমান সরকার নাগরিকদের অধিকার রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ : আইনমন্ত্রী হলফনামায় ভুয়া সনদ দাখিলের অভিযোগ এমপি নয়নের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জে আওয়ামীলীগের রাজনীতি চাঙ্গা করতে মামা ভাগ্নের নীল নকশা সালনা ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসার অভিভাবকদের মত বিনিময় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত. আইনশৃঙ্খলা ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ঝিনাইদহ জেলার শ্রেষ্ঠ থানা মহেশপুর

যশোরে আরিফের ‘অস্বাভাবিক’ সম্পদ নিয়ে এলাকায় তোলপাড়, কালোবাজারি ও প্রতারণার অভিযোগ

  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬
  • ১৩১ বার পঠিত

নজরুল ইসলাম যশোর প্রতিনিধি: যশোরের শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া বাজারের সাধারণ মুদি ব্যবসায়ী আরিফ হোসেনকে ঘিরে নতুন করে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। সম্প্রতি নকল চাল বিক্রির অভিযোগে সংবাদ প্রকাশের পর তার অবৈধ ভারতীয় পণ্য বাণিজ্য, কালোবাজারি ও প্রতারণার মাধ্যমে অল্প সময়ে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার নানা অভিযোগ তুলে ধরছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা।
নাম প্রাকাশে অনিচ্ছুক বাজারে অনেক ব্যবসায়ী জানান, আওয়ামী সরকারের আমলে ভারত থেকে অবৈধ পথে আনা বিভিন্ন পণ্য বাজারজাতের মাধ্যমে আরিফ হোসেন বিপুল অর্থ উপার্জন করেন। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরও থেমে নেই তার এ অবৈধ ব্যবসা। বর্তমানে তিনি স্থানীয় কথিত বিএনপি নেতাকে ম্যানেজ করে আবারও সীমান্তপথে পণ্য এনে সেই অবৈধ ব্যবসা হরহামেশে চালিয়ে যাচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শার্শা উপজেলার গোগা, রুদ্রপুর ও দাউদখালী এবং পার্শ্ববর্তী সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া থানার ভাদিয়ালি, বড়ালী ও কুষখালী সীমান্ত এলাকা দিয়ে সংঘবদ্ধ একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় বিভিন্ন পণ্য বাংলাদেশে নিয়ে আসছেন। সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া অতিক্রম করে এসব পণ্য দেশের ভেতরে প্রবেশ করানো হয় বলে স্থানীয়দের দাবি। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে জিরা, এলাচি, গুঁড়া দুধ, চা-পাতা, হরলিক্সসহ বিভিন্ন নামিদামি কোম্পানির চকলেট এবং নানা ধরনের কসমেটিকস সামগ্রী। কসমেটিকস পণ্যের মধ্যে রয়েছে ফেসওয়াশ, ক্রিম, লোশন, পারফিউম, সাবান, শ্যাম্পু ও মেকআপ সামগ্রী। সীমান্ত এলাকা থেকে এসব পণ্য এনে বাগআঁচড়া বাজারসহ আশপাশের বিভিন্ন হাটবাজারে পাইকারি ও খুচরা দামে বিক্রি করেন আরিফ। এ ছাড়া খোলাবাজার থেকে অল্প মূল্যের পণ্য কিনে তা আবার দেশের নামিদামি কোম্পানির মোড়কে প্যাকেটজাত করে বিক্রি করে। সম্প্রতি এমন অভিযোগের ভিত্তিতে শার্শা উপজেলা প্রশাসন আরিফের দোকানে অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে প্যাকেটজাত পণ্য জব্দ এবং জরিমানা আরোপ করে।অনুসন্ধানে জানা গেছে, একসময় আর্থিকভাবে অসচ্ছল পরিবারে বেড়ে ওঠেন আরিফ হোসেন। তার বাবা আব্দুল মাজেদ জীবিকার তাগিদে গ্রামে গ্রামে ঘুরে চিটাগুড় তৈরি ও বিক্রি করতেন। সেই সামান্য আয়ের ওপরই চলত পুরো পরিবার। শার্শা উপজেলার বাগুড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে মাত্র চার শতক জমির ওপর একটি সাধারণ ঘরে বসবাস করতেন তারা।
পরে বাগআঁচড়া বাজারের চিনিপট্টিতে একটি ছোট মুদি দোকান দিয়ে সংসার চালানোর চেষ্টা করে তার পরিবার। সেই দোকান থেকেই ব্যবসায়িক জীবনের শুরু আরিফের। কিন্তু কয়েক বছরের ব্যবধানে সেই ছোট দোকান থেকেই বর্তমানে বাগআঁচড়া এলাকায় তিনি তিনতলা বিশিষ্ট একটি আলিশান বাড়ি নির্মাণ করেছেন এবং কয়েক কোটি টাকা মূল্যের জমি ক্রয় করেছেন। এক সময়ের দারিদ্র্যপীড়িত পরিবারের এই দ্রুত সম্পদবৃদ্ধি এখন স্থানীয়দের আলোচনার প্রধান বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সচেতন মহলের মতে, সীমান্ত এলাকায় অবৈধভাবে পণ্য প্রবেশ ও বাজারজাতকরণের বিষয়টি খতিয়ে দেখা জরুরি। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কঠোর নজরদারি না থাকলে এমন কর্মকাণ্ড আরও বিস্তার লাভ করতে পারে বলে তারা মনে করছেন।
এসব অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত আরিফ বলেন, তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চলানো হচ্ছে। তবে তিনি চাল প্রতারণা সঙ্গে সম্পৃক্ত স্বীকার করেন।
এ ব্যাপারে নাভারণ সার্কেল এএসপি (অতিরিক্ত পুলিশ সুপার) বলেন, বিষয়টি তিনি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে তদন্ত করা হবে এবং অবৈধ সীমান্ত বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনার যশোরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন জানান, যদি কোনো ব্যক্তি জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন বা দুর্নীতির মাধ্যমে সম্পদ গড়ে তার বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ বাজেয়াপ্ত এবং আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © তথ্যানুসন্ধান ২০২৫
Theme Customized By Shakil IT Park