
জিএম মাকছুদুর রহমান, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার: দেবিদ্বার উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাবেক সেক্রেটারি মানিক চক্রবর্তীর পদ-পদবীকে ঘিরে উপজেলা হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। ২০২৪ সালে সংগঠনের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্তে তাকে সেক্রেটারি পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। সংগঠনের দাবি, তার অনৈতিক আচরণের অভিযোগ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওকে কেন্দ্র করে ওই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। ২০২৪ সালের ১ আগস্ট থেকে সংগঠনের সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ডা. প্রদীপ কুমার দে। কিন্তু ২০২৫ সালে এসে মানিক চক্রবর্তী আবারও সংগঠনের সেক্রেটারি পদ দাবি করেন। গত ২৬ নভেম্বর (বুধবার) বিকেলে দেবিদ্বার অনীল দে কমপ্লেক্সের নিচতলায় মিন্টু দে’র “অর্ণব বেডিং স্টোর”-এ এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় কার্যকরী সভাপতি ও বর্তমান সেক্রেটারি উপস্থিত ছিলেন না। সেখানে মানিক চক্রবর্তী পুনরায় সেক্রেটারি পদে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি তোলেন। দেবিদ্বার পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সদস্য মিন্টু দে জানান—“মানিক পদ দাবি করেছে ঠিক, তবে সেখানে কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়নি।” অন্যদিকে বর্তমান সেক্রেটারি ডা. প্রদীপ কুমার দে বলেন—“আমি আগে থেকেই জানিয়েছিলাম জরুরি কাজ থাকায় উক্ত সভায় উপস্থিত থাকতে পারব না। পরে মানিক ফোনে আমাকে অশালীনভাবে গালমন্দ করেন।” তিনি আরও বলেন কেন্দ্রীয় নির্দেশে কমিটি পরিবর্তনের যে আলোচনা চলছে তা স্থগিত রয়েছে। কুমিল্লা উত্তর জেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সদস্য সচিব স্বপন ধর জানান—“দেবিদ্বারের কোনো কমিটিতে মানিক চক্রবর্তীর স্থান নেই। তার আচরণ হিন্দু সম্প্রদায়কে বিব্রত করেছে।” ২৮ নভেম্বর (শুক্রবার) বিকেল ৫টায় দেবিদ্বার কেন্দ্রীয় কালি মন্দিরে মানিক চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। দেবিদ্বারের বিভিন্ন হিন্দু সংগঠনের নেতৃবৃন্দ সেখানে উপস্থিত ছিলেন। “মানিক চক্রবর্তীর পুনর্বাসন বা তাকে কোনো পদে ফিরিয়ে আনার সুযোগ নেই। হিন্দু সম্প্রদায়ের সম্মান রক্ষায় তাকে কোনো কমিটিতে স্থান দেওয়া যাবে না।” দেবিদ্বার উপজেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বিকাশ দাস বলেন—সম্প্রদায়ের প্রতি দায়িত্বশীলতার জায়গা থেকে সিদ্ধান্ত হয়েছে—মানিককে কোনো সংগঠনে যুক্ত রাখা যাবে না। দেবিদ্বার পূজা উদযাপন ফ্রন্টের আহ্বায়ক প্রফেসর বিমল দত্তের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যস্ততার কারণে মন্তব্য করতে অপরাগতা প্রকাশ করেন। দেবিদ্বার উপজেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি অনীল চক্রবর্তী বলেন, মানিক চক্রবর্তীকে অশ্লীল ভিডিও ভাইরালের কারণে অনেক আগেই কমিটি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। তিনি আরও জানান, সেদিনের প্রতিবাদ সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে— ভবিষ্যতে হিন্দু সম্প্রদায়ের কোনো কমিটিতেই তাকে আর স্থান দেওয়া হবে না।