
এ আর সাইফুল ইসলামঃ দেশের সকল সচল স্বীকৃতিপ্রাপ্ত নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান একযোগে এমপিওভুক্তির দাবিতে “সম্মিলিত নন-এমপিও ঐক্য পরিষদ’’-এর উদ্যোগে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাব-এর সামনে শিক্ষক—কর্মচারীদের এক মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অদ্য ১৬ এপ্রিল ২০২৬ (বৃহস্পতিবার) বেলা ২:০০ টায় আয়োজিত এই কর্মসূচিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের আবেদিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ এমপিওভুক্তি এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের দ্রুত এমপিওভুক্তির আবেদন গ্রহণ করে তা বাস্তবায়নের জোর দাবি জানানো হয়।
উক্ত মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন সম্মিলিত নন-এমপিও ঐক্য পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক প্রিন্সিপাল মোঃ সেলিম মিয়া। সঞ্চালনা করেন অন্যতম কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক অধ্যক্ষ মোঃ আব্দুস সালাম।মানববন্ধনে বক্তারা চলতি অর্থবছর ২০২৫—২০২৬ এর মধ্যেই সকল পর্যায়ের নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করার আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে প্রধান সমন্বয়ক প্রিন্সিপাল সেলিম মিয়া বলেন—
“আমাদের দাবী তিনটি—
১। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের আবেদিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে চলতি অর্থবছর (২০২৫—২০২৬) এর মধ্যেই এমপিওভুক্ত করতে হবে।
২। কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের দ্রুত এমপিওভুক্তির আবেদন গ্রহণ করে চলতি অর্থবছরেই এমপিওভুক্ত করতে হবে।
৩। আগামী অর্থবছরের পরিবর্তে চলতি অর্থবছরেই (২০২৫—২০২৬) প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির ঘোষণা দিতে হবে। প্রয়োজনে সরকার পরবর্তী অর্থবছরে ব্যক্তি এমপিও বাস্তবায়ন করতে পারে।”
তিনি আরও বলেন,
“সরকার যদি আগামী ৩ মে ২০২৬ এর মধ্যে উপরোক্ত দাবিগুলো বাস্তবায়ন না করে, তাহলে ৪ মে ২০২৬ থেকে সারা দেশের সকল নন-এমপিও শিক্ষকদের উপস্থিতিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি, অনশনসহ কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।”
এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন— অধ্যক্ষ দবিরুল ইসলাম, অধ্যক্ষ মোঃ নাজমুছ সাহাদাত আজাদী, অধ্যক্ষ মোঃ মুনিমুল হক, অধ্যক্ষ মোঃ ইমরান বিন সোলাইমান, অধ্যক্ষ সাজ্জাদ হোসেন, অধ্যক্ষ বাকী বিল্লাহ, সুপার মোঃ ফরহাদ হোসেন বাবুল, অধ্যক্ষ মোঃ আবতাবুল আলম, অধ্যক্ষ মোঃ মিজানুর রহমান, প্রধান শিক্ষক আবু বক্কর মোঃ এরশাদুল হক, প্রধান শিক্ষক মোঃ হাবিবুর রহমান বাবুল, অধ্যক্ষ মোঃ মিজানুল হক মামুন, প্রভাষক মোঃ রায়হান কবির মিঠু, প্রভাষক মোঃ মোবারক হোসেন, প্রভাষক মোঃ হাবিবুল্লাহ, প্রভাষক মোঃ গোলাম মোস্তফা, সহকারী প্রধান শিক্ষক মোঃ এনামুল হক ও সমন্বয়ক মোঃ জাহিদ হোসেনসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।
সাংবাদিকের কলম থেকে অনুভূতি
শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড—এই সত্য আজ নতুন করে স্মরণ করিয়ে দেয় নন-এমপিও শিক্ষকদের এই আন্দোলন।
আমি নিজেও একসময় শিক্ষকতা পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। প্রায় ৭ বছর শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি—পিআর সহকারী শিক্ষক হিসেবে স্ট্যান্ডার্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, বাড্ডা ডিআইটি প্রজেক্ট, দক্ষিণ বারিধারা (৯ নম্বর রোড)-এ। পাশাপাশি অ আ পাঠশালা—যার সূচনা হয়েছিল একটি সাংস্কৃতিক সংগঠন ঈগল ডান্স ক্লাব থেকে, সেটিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রূপ দেওয়ার প্রয়াসে কাজ করেছি। এছাড়াও সম্রাট একাডেমি-তে শিক্ষকতা করেছি ২০০৬ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত।
আজ একজন সাংবাদিক হিসেবে বলতে চাই—
শিক্ষা যদি জাতির মেরুদণ্ড হয়, তবে সেই মেরুদণ্ডের কারিগর শিক্ষকেরা আজ মেরুদণ্ডহীনতার কষ্টে ভুগছেন।
রাষ্ট্র যদি শিক্ষাকে শক্তিশালী করতে চায়, তবে শিক্ষকদের সম্মান ও অধিকার নিশ্চিত করাই হবে সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ।