
জিএম মাকছুদুর রহমান ও ফারুক হোসাইন জনি: কুমিল্লার দেবিদ্বার এস এ সরকারি কলেজ মাঠে ৬ ডিসেম্বর (শনিবার) সকাল ১০টায় বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক ভাইদের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হলো অত্যন্ত প্রাণবন্ত ও স্মৃতিমধুর পুনর্মিলনী ‘প্রীতি সমাবেশ ২০২৫’। বহুদিন পর এক মঞ্চে একত্রিত হয়ে প্রাক্তন নেতাকর্মীদের হাসি-আনন্দ, আলাপ ও স্মৃতিচারণে পুরো কলেজ মাঠ মুখরিত হয়ে ওঠে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি মু. জাহিদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন—মু. নজরুল ইসলাম খাঁদেম, কুমিল্লা-নোয়াখালী অঞ্চলের সাবেক সভাপতি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। অধ্যাপক মু. আব্দুল মতিন, আমির, কুমিল্লা উত্তর ও কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য। আবু সাঈদ মুহাম্মদ ফারুক, সেক্রেটারি, গাজীপুর মহানগর ও কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য। মো. সাইফুল ইসলাম শহীদ, সেক্রেটারি, কুমিল্লা উত্তর। ড. মো. মোবারক হোসাইন, সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। মো. সানাউল্লাহ রাসেল, সভাপতি, কুমিল্লা জেলা উত্তর। মো. ফেরদৌস আহমেদ, আমির, দেবিদ্বার পৌরসভা। মো. গোলাম মোস্তফা সরকার, সাবেক ভিপি, দেবিদ্বার এস এ সরকারি কলেজ। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দেবিদ্বার উপজেলা শাখার আমির অধ্যাপক মু. শহীদুল ইসলাম। আদর্শ–নৈতিকতা–নেতৃত্ব গঠনের আলোচ্য বিষয়ে বক্তারা বলেন—ছাত্রশিবির শুধুমাত্র একটি সাংগঠনিক নাম নয়, এটি নৈতিকতা, আদর্শ ও দায়িত্ববোধ তৈরির এক অনন্য প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান। এখান থেকে অর্জিত মূল্যবোধ প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের কর্মজীবন, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রগঠনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে সহায়তা করেছে। দেশের কল্যাণ, সামাজিক উন্নয়ন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং শান্তিপূর্ণ পরিবর্তনের পথে ছাত্রশিবিরের অবদান অগ্রাহ্য করার সুযোগ নেই—এমন মন্তব্যও উঠে আসে বিভিন্ন বক্তার বক্তব্যে। তাঁরা নতুন প্রজন্মকে আদর্শিক চেতনা, শৃঙ্খলা ও নৈতিকতার শিক্ষায় সমৃদ্ধ হয়ে সমাজে নেতৃত্বের ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের চারবারের সাবেক সংসদ সদস্যইঞ্জিনিয়ার মঞ্জরুল আহসান মুন্সীর সুযোগ্য সন্তান, কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার রেজভিউল আহসান মুন্সী বক্তব্যে উল্লেখ করেন— বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একটি সুসংগঠিত ও আদর্শিক দল। আমাদের বিএনপি’র মধ্যে এখনো তেমন শৃঙ্খলা গড়ে ওঠেনি। তার বক্তব্য উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। ধারাবাহিক সাংগঠনিক শক্তি ও আদর্শিক দৃঢ়তায় ছাত্রশিবিরের ভূমিকা তিনি বিশেষভাবে প্রশংসা করেন। স্মৃতিচারণ, শুভেচ্ছা বিনিময়ে আবেগঘন পরিবেশ প্রীতি সমাবেশ শেষে আয়োজিত মুক্ত আলোচনা, স্মৃতিচারণ এবং পুরোনো বন্ধুদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময়ে যেন ফিরে যায় বিগত ক্যাম্পাস জীবনে। আবেগ, ভালোবাসা, বন্ধুত্ব ও হৃদয়ের বন্ধনে গড়ে উঠে উজ্জ্বল এক মিলনমেলা। দেবিদ্বারে আয়োজিত এই প্রীতি সমাবেশ শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়, প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে আদর্শ ও দায়িত্ববোধ হস্তান্তরের দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রতীক। নতুন ও পুরাতন সকল সদস্যের উপস্থিতিতে এটি রূপ নেয় বন্ধুত্ব, আত্মবিশ্বাস এবং অদম্য সংগঠনী চেতনার অনবদ্য উৎসবে।