
জিএম মাকছুদুর রহমান, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার: কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার ১২নং ভানী ইউনিয়ন পরিষদ’র চেয়ারম্যান ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা হাজী জালাল উদ্দিন এর অপসারণ এবং ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছে ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণ। রোববার (১৯ অক্টোবর) সকালে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের সামনে হাজারো মানুষ জড়ো হয়ে এ কর্মসূচি পালন করে। স্থানীয় সূত্র জানায়, হাজী জালাল উদ্দিন ২০২৪ এর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত আব্দুর রাজ্জাক রুবেল ও স্কুলছাত্র সাব্বির হত্যা মামলার অন্যতম আসামি। মামলায় গ্রেফতার হলেও পরে তিনি জামিনে মুক্ত হয়ে এলাকায় ফিরে আবারও ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন। বক্তারা অভিযোগ করেন, রুবেল ও সাব্বির হত্যাকাণ্ডের মূল নেপথ্যে ছিলেন তিনি। মানববন্ধনে অংশ নেওয়া বক্তারা বলেন, চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই হাজী জালাল উদ্দিন ইউনিয়ন পরিষদে ভয়ভীতি ও সন্ত্রাসী পরিবেশ তৈরি করেছেন। আওয়ামী লীগের প্রভাব খাটিয়ে তিনি উন্নয়নমূলক কাজ বণ্টনে বৈষম্য সৃষ্টি করেছেন, সরকারি বরাদ্দের বড় অংশ আত্মসাৎ করেছেন এবং ভানী ইউনিয়নকে দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের অভয়ারণ্যে পরিণত করেছেন। তারা আরও অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া শিক্ষার্থীদের ওপরও তিনি হামলা চালান। শুধু তাই নয়, আন্দোলনে নিহত ছাত্র রুবেল ও সাব্বিরের রক্তের দায় থেকে তিনি কখনোই মুক্ত নন। মানববন্ধনে বক্তারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, একজন হত্যা মামলার আসামিকে চেয়ারম্যান পদে বহাল রেখে কোনোভাবেই আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। তারা অবিলম্বে হাজী জালাল উদ্দিনকে চেয়ারম্যান পদ থেকে অপসারণ ও আইনের আওতায় এনে হত্যা মামলায় দোষী প্রমাণিত হলে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দাবি জানান।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ভানী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদ, অধ্যাপক মোহাম্মদ রুহুল আমিন, সমাজসেবক মো. মনিরুজ্জামান ফরাজী, হুমায়ুন কবির বকুল, শুভ হাজারী, মোহাম্মদ শফিক ভূঁইয়া, আ. আউয়াল সরকার, ছোটন ভূঁইয়া, আলম সরকার, সুমন হাজারী, আব্দুল মালেক মাস্টার, ফয়েজ খানসহ আরো অনেকেই। তারা সবাই সর্বসম্মতভাবে ঘোষণা দেন, ভানী ইউনিয়নের মানুষ কোনো হত্যাকারী বা দুর্নীতিবাজ ব্যক্তিকে জনপ্রতিনিধি হিসেবে মেনে নেবে না।