
আব্দুল্লাহ বাশার, কোটচাঁদপুর: উপজেলা প্রশাসনে এক নতুন যুগের সূচনা করার উদ্যোগে যোগদান করা নবাগত কোটচাঁদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এনামুল হাসান (১০ ডিসেম্বর) বুধবার বিকালে উপজেলার সর্বস্তরের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ,সুশীল সমাজ,বীর মুক্তি যোদ্ধা, শিক্ষকবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি,সাংবাদিকদের কে নিয়ে এক পরিচিত ও মতবিনিময় সভায় মিলিত হন। মতবিনিময় সভা ঘিরে রাজনীতি নেতৃবৃন্দ থেকে সাধারণ মানুষ—সবার চোখ ছিল নির্বাহী অফিসারের দিকে।
নির্বাহী অফিসারের প্রথম টার্গেট হলো একটি ‘জনকল্যাণমুখী প্রশাসন’ গড়ে তোলা, ফ্যাসিস্ট মুক্ত উপজেলা গড়তে সকলে আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন। তাঁর এই আন্তরিক আহ্বানেই কার্যত মঞ্চ প্রস্তুত হবে এক অভূতপূর্ব ঐক্যের।
একযোগে সকল কর্মকাণ্ডের সহায়তা করবেন বলে আশ্বস্ত করেন নেতৃবৃন্দ। মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা তাজুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত আলী, পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়র এস কে এম সালাহউদ্দিন বুলবুল সিডল, পৌর জামায়াতে ইসলামীর আমির মুহাদ্দিস আব্দুল কাইয়ুম, কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ বাহারুল ইসলাম, কাশিপুর পৌর কলেজের অধ্যক্ষ হুমায়ুন কবির, বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুল মান্নান, কোটচাঁদপুর উপজেলা প্রেসক্লাব সভাপতি আব্দুল্লাহ বাশার।
বক্তারা উপজেলার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, মৎস্য, যোগাযোগ-এর মতো চিরাচরিত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর পাশাপাশি বিদ্যুৎ, সার, মাদক নিয়ন্ত্রণ, বাল্য বিবাহ, আত্মহত্যা-র মতো সামাজিক ব্যাধি এবং সাংস্কৃতিক জাগরণ, রাজনৈতিক সহাবস্থান-এর মতো সংবেদনশীল বিষয়গুলি অত্যন্ত জোরের সঙ্গে তুলে ধরেন।
নেতৃবৃন্দ নবাগত ইউএনও’র কাছে দাবি জানান, তিনি যেন উপজেলা প্রশাসনের প্রধান হিসেবে তাঁর ‘সরকার প্রদত্ত সক্ষমতাকে শতভাগ’ কাজে লাগান।
উপস্থিত সকল বিশিষ্টজন একটি ‘আলোকিত মানবিক কোটচাঁদপুর গড়ার জন্য নিজ নিজ অবস্থান থেকে ইউএনও-কে সর্বাত্মক সহযোগিতার অগ্নিশপথ নেন। এই অঙ্গীকারই এখন নতুন আলোচনার বিষয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন খোকন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার অশোক সরকার, মাধ্যমিক একাডেমিক সুপারভাইজার ফারুক হোসেন সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতা, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানবৃন্দ, সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ। এই মতবিনিময় সভা কোটচাঁদপুর প্রশাসনের সাথে জনগণের সেতুবন্ধনে এক মাইলফলক হয়ে থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।