
ইরানে আগ্রাসন চালানোর জন্য মধ্যপ্রাচ্যে ইতিহাসের ব্যবহুল পদক্ষেপ নিচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইতোমধ্যে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী এমন প্রস্তুতি নিয়েছে যা ২০০৩ সালে ইরাকে হামলার আগের প্রস্তুতিকেও ছাড়িয়ে গেছে। যেকোনো সময় ট্রাম্পের হুকুম পেলেই মার্কিন যুদ্ধবিমান উড়াল দেবে তেহরানের দিকে এবং ক্ষেপণাস্ত্র গিয়ে আছড়ে পড়বে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের ভূমিতে।
আয়াতুল্লা আলী খামেনির দেশকে যেকোনো মূল্যে হাতের মুঠোয় আনতে এবং দেশটির শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন বা রেজিম চেঞ্জ চান ট্রাম্প। কিন্তু তার সহকারীরা বলছেন ভিন্ন কথা। খামেনির চেয়ে ট্রাম্পের ক্ষমতা বেশি নড়বড়ে হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।
আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন, এই ভোটযুদ্ধে ক্ষমতাসীন দল রিপাবলিকানদের পরাজয়ের আশঙ্কা প্রতিনিয়ত ঘনীভূত হচ্ছে। কারণ, ট্রাম্প একের পর এক বড় সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্কিত হচ্ছেন, সর্বশেষ শুক্রবার দেশটির আদালত বিশ্বব্যাপী আরোপ করা শুল্কও অবৈধ ঘোষণা করে দিয়েছে। এছাড়া দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করতে না পারা এবং মার্কিনিদের জীবনযাত্রার মানের ক্রমাবনতি রিপাবলিকানদের জনপ্রিয়তা কমিয়ে দিচ্ছে।
আর আসন্ন নির্বাচনে সত্যিই যদি ট্রাম্পের দল হেরে যায়, তাহলে মুকুটহীন রাজায় পরিণত হবেন তিনি। এমনকি তাকে অভিশংসনও করা হতে পারে বলে ট্রাম্প নিজেই বারবার প্রকাশ্যে বলছেন।
এসব কারণে ট্রাম্পকে ইরানে হামলার চিন্তা বাদ দিয়ে নিজের চেয়ার বাঁচানোর দিকে মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তার সহকারীরা।
রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানায়, ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছেন, যদিও তার উপদেষ্টারা তাকে ভোটারদের অর্থনৈতিক দুশ্চিন্তার দিকে বেশি নজর দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন। এটি এই বছরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে সামরিক উত্তেজনা বাড়ানোর রাজনৈতিক ঝুঁকিকে স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তুলছে।
ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে বিশাল সৈন্য সমাবেশ এবং ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য কয়েক সপ্তাহব্যাপী বিমান হামলার প্রস্তুতির নির্দেশ দিয়েছেন। তবে ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর ইসলামি প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে কেন তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে এই সবচেয়ে আগ্রাসী পদক্ষেপের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন, তার বিস্তারিত কারণ তিনি মার্কিন জনগণের কাছে এখনো ব্যাখ্যা করেননি।
ইরানের প্রতি ট্রাম্পের এই অতি-নিবিষ্টতা তার দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম ১৩ মাসের এজেন্ডার সবচেয়ে বড় উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জনমত জরিপ অনুযায়ী জীবনযাত্রার ব্যয়ের মতো অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলো অধিকাংশ মার্কিনির কাছে উচ্চ অগ্রাধিকার পেলেও, ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতি এবং সামরিক শক্তির ব্যাপক ব্যবহার প্রায়শই সেই বিষয়গুলোকে ছাপিয়ে যাচ্ছে।
হোয়াইট হাউসের এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, ট্রাম্পের যুদ্ধংদেহী বাগাড়ম্বর সত্ত্বেও ইরানের ওপর হামলা চালানোর বিষয়ে প্রশাসনের অভ্যন্তরে এখনো কোনো ‘একীভূত সমর্থন’ নেই।