
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধঃ নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে ৫ কেজি গাঁজাসহ সোনিয়া আক্তার (২৭) নামে এক নারীকে আটক করেছে র্যাব-১১। সোমবার দুপুরে বিশনন্দী ফেরিঘাটের পশ্চিম পাশে অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করা হয়। র্যাবের দাবি, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে তাঁর হেফাজত থেকে বিপুল পরিমাণ গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর আনুমানিক ১২টা ১৫ মিনিটে আড়াইহাজার থানাধীন বিশনন্দী ফেরিঘাটের পশ্চিম পাশে জিয়াউর রহমানের মাছের দোকানের কাছে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
র্যাব-১১ সূত্রে জানা যায়, মাদকদ্রব্যের একটি চালান নিয়ে ওই এলাকায় একজন নারী অবস্থান করছেন—এমন গোপন তথ্যের ভিত্তিতে র্যাবের একটি আভিযানিক দল সেখানে নজরদারি শুরু করে। পরে সন্দেহভাজন হিসেবে সোনিয়া আক্তারকে আটক করা হয়। তাঁর কাছে থাকা মালামাল তল্লাশি করে ৫ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয় বলে দাবি করেছে র্যাব।
আটক সোনিয়া আক্তার গাজীপুর সদর থানার পশ্চিম কলমেশ্বর এলাকার নুরুল ইসলাম নুরুর মেয়ে। র্যাব-১১-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, উদ্ধার করা গাঁজার উৎস, এর সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিরা এবং মাদক পরিবহনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানতে আটক নারীকে জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। পরে উদ্ধার করা মাদকসহ তাঁকে আড়াইহাজার থানায় সোপর্দ করা হয়।
র্যাব জানায়, মাদকের বিরুদ্ধে তাদের নিয়মিত অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
আড়াইহাজার থানার পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, র্যাবের কাছ থেকে সোনিয়া আক্তারকে হস্তান্তরের পর তাঁর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, বিশনন্দী ফেরিঘাট আড়াইহাজারের একটি গুরুত্বপূর্ণ যাতায়াতকেন্দ্র হওয়ায় এলাকাটিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের পাশাপাশি বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি রয়েছে। এর মধ্যেই ফেরিঘাটসংলগ্ন এলাকা থেকে ৫ কেজি গাঁজা উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
তবে আটক নারী দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত কি না, উদ্ধার হওয়া গাঁজা কোথা থেকে আনা হয়েছিল এবং এর সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না—এসব বিষয় তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।