
শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি: গাজীপুরের শ্রীপুরে মাদকসহ আটক এক আসামির কাছ থেকে উদ্ধার করা ১৪ পিস ইয়াবার পরিবর্তে প্রসিকিউশনে ২ পিস উল্লেখের অভিযোগ উঠেছে এক উপপরিদর্শকের (এসআই) বিরুদ্ধে।
বিষয়টি নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের মুখে সংশ্লিষ্ট এসআই ভুলের বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে মোবাইল কোর্টে ওই আসামিকে কোনো সাজা না দিয়ে থানায় ফেরত পাঠানো হয়।
একই দিনে ইয়াবা সেবন ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আটক এক নারীর পরিবারের কাছ থেকে মোবাইল কোর্টে সাজা কমিয়ে দেওয়ার কথা বলে ২০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে অপর এক এসআইয়ের বিরুদ্ধে। তবে অভিযুক্ত এএসআই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এ ঘটনাটিও মোবাইল কোর্ট থেকে ফেরত দেওয়া হয়েছে।
জানা যায়, বরমী পশ্চিমপাড়া এলাকার আহাম্মদ উল্লাহকে গত রাতে ১৪ পিস ইয়াবাসহ আটক করে এলাকাবাসী। পরে বরমী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রতন মিয়াকে বিষয়টি জানানো হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে হেফাজতে নেয়। এ সময় এসআই হুমায়ুন তাকে আটক করেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
পরদিন তাকে মোবাইল কোর্টে হাজির করে প্রসিকিউশন দেওয়ার সময় এসআই হুমায়ুনের প্রতিবেদনে ১৪ পিসের পরিবর্তে ২ পিস ইয়াবা উল্লেখ করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এ বিষয়ে এর আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) ১৪ পিস ইয়াবাসহ আটকের বিষয়টি জানানো হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
একপর্যায়ে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের মুখে এসআই হুমায়ুন ২ পিস উল্লেখ করার বিষয়টি স্বীকার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে বিষয়টি শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) জানানো হয়। এরপর মোবাইল কোর্টে আহাম্মদ উল্লাহকে কোনো সাজা দেওয়া হয়নি।
অন্যদিকে, গতকাল (২৮ আগষ্ট) রাজেন্দ্রপুরের গজারিয়া পশ্চিমপাড়া এলাকা থেকে মোসা. সপ্না (৩০) নামে এক নারীকে গ্রেপ্তার করেন এএসআই আব্দুল মালেক। পুলিশের দাবি, ওই নারী ইয়াবা সেবন ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।
তবে সপ্না ও তার পরিবারের অভিযোগ, মোবাইল কোর্টে সাজা কমিয়ে দেওয়ার কথা বলে এএসআই আব্দুল মালেক তাদের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা নিয়েছেন। যদিও এ অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন এসআই আব্দুল মালেক।
পরবর্তীতে সপ্নার বিষয়টিও মোবাইল কোর্ট থেকে ফেরত দেওয়া হয়। ঘটনা দুটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
উদ্ধার করা মাদকের প্রকৃত পরিমাণ এবং মোবাইল কোর্টে উপস্থাপিত তথ্যের মধ্যে কেন ভিন্নতা দেখা দিল, সেই সঙ্গে টাকা নেওয়ার অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীনুর আলম বলেন, রাতে এসআই হুমায়ুন ১৪ পিস ইয়াবাসহ এক ব্যক্তিকে আটক করেন এবং জব্দ তালিকায় ১৪ পিস ইয়াবা উল্লেখ করে তা থানার মুন্সীর কাছে জমা দেন। তবে সকালে আসামিকে মোবাইল কোর্টে নেওয়ার দায়িত্বে ছিলেন এসআই লুৎফর রহমান। এ সময় অসাবধানতাবশত প্রসিকিউশনে ১৪ পিসের পরিবর্তে ২ পিস ইয়াবা উল্লেখ করা হয়েছে, যা একটি ভুল। আর আসামির পরিবারের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয়।