
গাজীপুর প্রতিনিধিঃ গাজীপুরের শ্রীপুরে ক্রয়সূত্রে মালিকানাধীন জমি অবৈধভাবে জবরদখলের চেষ্টা, প্রাণনাশের হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী প্রবাসী ও ব্যবসায়ী হাজী মো. শহিদুল্লাহ (৬০) শ্রীপুর মডেল থানায় বিবাদী হয়ে আমীর আলী (৬০) সহ অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জনের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অভিযোগকারী হাজী মো. শহিদুল্লাহ (পিতা- মৃত তমিজ উদ্দিন, সাং- ৪১ শান্তি নগর, ঢাকা) শ্রীপুর উপজেলার ২নং গাজীপুর ইউনিয়নের ১৪৪২৩ নং মহাল অধীন ৪ নং ধনুয়া মৌজাস্থ মোট ৩ একর ৬৩ শতাংশ জমির সাব-কবলা দলিল সূত্রে (দালিল নং: ১০৭৬২, ২৯/১২/২০১১; ২১২৬৫, ১৮/০৮/২০১১ এবং ১৩৫৩০, ২৩/০৮/২০১৫) বৈধ মালিক ও দখলকার হয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছিলেন।
মৌজা: ০৪ নং ধনুয়া সি.এস ও এস.এ খতিয়ান নং: ৩০৭, ৩২৭, ৩২৯, ৮৪৩ আর.এস খতিয়ান নং: ১০৩১, ৮৭১, ৮৭০, ৮২৬ সি.এস ও এস.এ দাগ নং: ১৪০৫, ২০৯, ২২০
আর.এস দাগ নং: ৩৭১২, ৩০৮৩, ৩০৮১, ৩১০৬ জমির মোট পরিমাণ: ৩ একর ৬৩ শতাংশ।
অভিযোগে ভুক্তভোগী জানান, তিনি দীর্ঘদিন বিদেশে অবস্থান করার সুযোগে বিবাদী আমীর আলী (পিতা- অজ্ঞাত, সাং- নগর হাওলা/নাসির গ্লাস ফ্যাক্টরির উত্তর পাশে, শ্রীপুর) ও তার সহযোগীরা অবৈধ আর্থিক লাভে লালসায় জমিটি জবরদখলের ষড়যন্ত্র শুরু করে।
সর্বশেষ গত ১৪/০৮/২০২৬ ইং তারিখ সকাল অনুমান ১১:০০ ঘটিকার সময় হাজী মো. শহিদুল্লাহ কয়েকজন লোক নিয়ে জমিতে কাজ করতে গেলে বিবাদীরা দলবল নিয়ে এসে কাজে বাধা প্রদান করে। প্রতিবাদ করলে বিবাদীরা তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে, খুন-জখমের হুমকি দেয় এবং লাঠিসোটা নিয়ে আক্রমণের চেষ্টা চালায়। এ সময় উপস্থিত লোকজন ও সহযোগীদের সহায়তায় তিনি কোনোমতে প্রাণ রক্ষা করে চলে আসেন।
ভুক্তভোগী আরও অভিযোগ করেন, বিবাদীরা জমিতে পুনরায় গেলে প্রাণনাশের ক্ষতিসাধনসহ মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করার হুমকি দিচ্ছে। বর্তমানে জমিতে ও এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিঘ্ন ঘটার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে অবহিত করে আইনের আশ্রয় নিতে গিয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং জমিতে নিজের বৈধ অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ভুক্তভোগী পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। শ্রীপুর মডেল থানা পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে জানা গেছে।