
গাজীপুর প্রতিনিধি:গাজীপুরের শ্রীপুরের কাওরাইদ ইউনিয়নে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে দুইটি পরিবারের ওপর নৃশংস হামলা। গত ১৯ ডিসেম্বর সকাল ১০ টার দিকে উপজেলার গলদাপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে বৃদ্ধা নারী ও নারী সদস্যসহ অন্তত চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন। হামলার পর ভুক্তভোগী পরিবারের একমাত্র যাতায়াতের পথ বাঁশের বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দেওয়ায় পরিবারটি বর্তমানে কার্যত অবরুদ্ধ অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছে।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সামাদ মিয়া নামে এক ব্যক্তি তার ক্রয়কৃত জমি নিয়ে প্রতিবেশী লাল মিয়ার ছেলে সুরুজ, গুনি মিয়া, নাহিদুল ও তোতা মিয়ার সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধে জড়িয়ে ছিলেন। এ বিরোধের জেরে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালিয়ে সামাদ মিয়ার পরিবারের সদস্যদের মারধর করে গুরুতর আহত করে বলে অভিযোগ করা হয়। হামলার পর অভিযুক্তরা কেবল মারধরেই ক্ষান্ত হয়নি; ভুক্তভোগীদের বসতবাড়ি থেকে বের হওয়ার একমাত্র চলাচলের পথটি বাঁশের বেড়া দিয়ে স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেয়। এতে পরিবারটি ঘরবন্দি হয়ে পড়েছে এবং স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে।
এ ঘটনায় সামাদ মিয়া বাদী হয়ে শ্রীপুর মডেল থানায় চারজনকে অভিযুক্ত করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, মামলা দায়েরের পর অভিযুক্তরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছে। তার দাবি, অভিযুক্তদের পরিবারের কেউ পুলিশে কর্মরত থাকায় সেই প্রভাব খাটিয়ে মামলা তুলে নিতে চাপ দেওয়া হচ্ছে এবং পুনরায় হামলার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে।
ভুক্তভোগী সামাদ মিয়া বলেন, “আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছি। বাড়িতে ঢোকা-বের হওয়ার রাস্তা বন্ধ থাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা পুরোপুরি স্থবির হয়ে গেছে। আমরা প্রশাসনের কাছে ন্যায়বিচার ও আমাদের জীবনের নিরাপত্তা চাই।”আইন বিশেষজ্ঞ ও স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, জমি সংক্রান্ত বিরোধে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া এবং একটি পরিবারের চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়া বিদ্যমান আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। তারা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের আইনের আওতায় আনা, মানবিক বিবেচনায় অবরুদ্ধ পথ উন্মুক্ত করা এবং এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে জনপ্রতিনিধিদের সক্রিয় ভূমিকা পালনের দাবি জানান।
এ বিষয়ে শ্রীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাসির আহমেদ বলেন, “আমরা অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”