1. admin@dailytathyanusandhan.com : admin :
সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১১:৩৭ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
প্রশাসনের নির্দেশ অমান্য করে রাতের আঁধারে সড়ক কার্পেটিং, দেবিদ্বারে কাজ বন্ধ শিক্ষা ও জ্ঞানার্জনে সমাজের অন্ধকার দূর করার শপথ নিতে হবে:….. দেবিদ্বারে ইউএনও অশোক বিক্রম চাকমা শ্রীপুরে যুবদল নেতাকে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে মোটা অঙ্কের টাকা দাবির অডিও রেকর্ড রয়েছে যশোর বেনাপোলে ট্রাভেল পারমিটে ভারত থেকে দেশে ফিরলেন ১০ নারী সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে দেবিদ্বারে আইইএস জাতীয় মেধাবৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত নগরঘাটায় ৮ দলীয় নকআউট ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচ অনুষ্ঠিত গাজীপুরের কাপাসিয়ায় আলী হোসেনের ওপর হামলার ঘটনায় রফিকুল ও টিপুসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা শ্রীপুরে বিএনপির নেতা মোশাররফ সরকারের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচারের প্রতিবাদ সংবাদ সম্মেলন যশোরে লংমার্চ সফলে শহরে জামায়াতের গণমিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশ সাতক্ষীরায় এডিসি রিপন বিশ্বাসের অপসারণের দাবিতে আইনজীবীদের মানববন্ধন

মেঘনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বেহাল দশা, অপরিচ্ছন্নতা-অনিয়ম ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবার দাবিতে ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি আমির ইসলাম রহিম।

  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬
  • ১১৯ বার পঠিত

মোঃ নাজিম উদ্দিন, মেঘনা (কুমিল্লা) প্রতিনিধিঃ- কুমিল্লা জেলার মেঘনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা সেবার মান, হাসপাতালের পরিবেশ অপরিচ্ছন্নতা-অনিয়ম ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবার এবং রোগীদের প্রতি আচার-আচরণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় মানুষের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে। সাধারণ মানুষের অভিযোগ, সরকারি এই হাসপাতাল থেকে তারা কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছেন না। বিশেষ করে দরিদ্র ও অসহায় মানুষ, যারা আর্থিক সংকটের কারণে বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে পারেন না, তারা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ, মেঘনা উপজেলা শাখার সভাপতি মোঃ আমির ইসলাম রহিম বলেন, হাসপাতালের পরিবেশ অত্যন্ত নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর। এমনকি হাসপাতালের কিছু ওয়াশরুমের অবস্থা এতটাই খারাপ যে, তা একটি গরুর খামারের চেয়েও অস্বাস্থ্যকর বলে মনে হয়। একটি সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে এমন পরিবেশ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, অনেক চিকিৎসক দায়িত্বশীলভাবে সেবা দিচ্ছেন না। রোগীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, নির্ধারিত সময়ে হাসপাতালে উপস্থিত না থাকা এবং দায়িত্ব পালনে অনিয়মের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এসব কারণে চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

রহিম বলেন, হাসপাতালের অধিকাংশ রোগীকেই বিভিন্ন অজুহাতে বাইরে রেফার করা হয়। অথচ এই হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন মূলত নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ, যাদের বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার সামর্থ্য নেই। যদি সরকারি হাসপাতালেই তারা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না পান, তাহলে এই হাসপাতালের উদ্দেশ্য কী—এমন প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

তার অভিযোগ, অনেক চিকিৎসক সরকারি দায়িত্বের পাশাপাশি বাসাবাড়ি ও বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে বেশি সময় দিচ্ছেন। তিনি প্রশ্ন রাখেন, যদি ব্যক্তিগত চেম্বার বা প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়াই তাদের মূল লক্ষ্য হয়, তাহলে সরকারি হাসপাতালে চাকরি করে জনগণের সঙ্গে এমন অবহেলা কেন?

আমির ইসলাম রহিম দাবি করেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে মেঘনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অনিয়ম, অপরিচ্ছন্নতা, অব্যবস্থাপনা ও চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়নের দাবিতে আন্দোলন ও বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছেন। কিন্তু এখনও দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন হয়নি।

তিনি আরও বলেন, মানুষের চিকিৎসাসেবার মান উন্নয়নের দাবিতে আমরা যখন কর্মসূচি পালন করতে যাই, তখন রাজনৈতিক বাধা ও প্রশাসনিক প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হয়। অথচ আমাদের উদ্দেশ্য ছিল শুধুমাত্র সাধারণ মানুষের ন্যায্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা।

তিনি আরও বলেন, বিষয়গুলো স্থানীয় সংসদ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন স্যার জানে তাও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, এলাকার জনপ্রতিনিধিদের নিয়মিত হাসপাতালের সার্বিক অবস্থা পরিদর্শন করে জনগণের সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসা উচিত।

সবশেষে আমির ইসলাম রহিম বলেন, মেঘনার মানুষ কর দেয়, ভোট দেয় এবং একটি মানসম্মত সরকারি হাসপাতালের অধিকার রাখে। আমরা কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নই; আমরা দুর্নীতি-অনিয়ম, অপরিচ্ছন্নতা-অব্যবস্থাপনা ও অবহেলার বিরুদ্ধে। জনগণের টাকায় পরিচালিত হাসপাতাল জনগণের জন্যই কার্যকরভাবে পরিচালিত হতে হবে। দ্রুত হাসপাতালের পরিবেশ উন্নয়ন, চিকিৎসকদের দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত এবং মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি পদক্ষেপ কামনা করছি।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে তার নেতৃত্বে একটি বিক্ষোভ মিছিলও হয়েছিলো। সচেতন অনেক মানুষ এতে যুক্তও হয়েছিলো, প্রশাসন মিছিল আটকে দিয়ে বলেছিলো সমস্যাটির সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হবে। এখনো পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নী?

আমির ইসলাম রহিম শুধু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়েই কাজ করে যাচ্ছেন নাহ এ ছাড়াও মেঘনায় লোডশেডিং কিংবা মেঘনার মানুষের সাথে ঘটে যাওয়া প্রতিটি অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়ে যাওয়া এক অদম্য মনোবল, মেঘনায় অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধেও দারুণ ভূমিকা রেখেছে, এবং প্রতিটি সামাজিক আন্দোলনে তার সক্রিয়তা খুবই প্রশংসনীয়।

মানুষের অধিকার আদায়ের কাজগুলো দ্রুত হলে মানুষ একটু স্বস্তিতে থাকতে পারে!
এর কিছু দিন আগেও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে প্রতিবাদ করায় মুক্তার নামের একটি ছেলেকে আটক করা হয়েছিলো। তাকে এখনো মুক্তি দেয়া হয়নী!

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © তথ্যানুসন্ধান ২০২৫
Theme Customized By Shakil IT Park