
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের তল্পিবাহক ও মিডিয়া জগতের বিতর্কিত মুখ মোরশেদুর রহমান এখনো বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) এর নিয়োগ কমিটির প্রধান পদে আসীন! জুলাই বিপ্লবের পরও কীভাবে একজন আওয়ামী দোসরের হাতে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের নিয়োগের চাবিকাঠি থাকে?
বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে এখনো বহাল রয়েছেন বিতর্কিত সাংবাদিক মোরশেদুর রহমান। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর হিসেবে পরিচিত এই সাংবাদিক বর্তমানে বাসস-এর নিয়োগ কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শেখ হাসিনা সরকারের আমলে সুবিধাভোগী হিসেবে পরিচিত এই ব্যক্তির এমন স্পর্শকাতর পদে অবস্থান নিয়ে সংস্থাটির অভ্যন্তরে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, মোরশেদুর রহমান পান্না নাটোর জেলার একটি কট্টর আওয়ামী লীগ পরিবারের সন্তান। গ্রাম: পাইকপাড়া, ডাকঘর: জিউপাড়া, ইউনিয়ন: কাফুড়িয়া, থানা ও জেলা: নাটোর সদর। পিতা: মতিউর রহমান মতি, কাফুড়িয়া ইউনিয়নের ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি। মাতা: মোসা. শিরিনা বেগম, কাফুড়িয়া ইউনিয়ন মহিলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সহ-সভাপতি। ভাই: রতন, সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মোরশেদুর রহমান নিজে সরাসরি স্থানীয় কোনো পদ-পদবিতে না থাকলেও তার পুরো পরিবার আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বিগত স্বৈরাচারী সরকারের আমলে সাংবাদিকতার লেবাসে তিনি দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়ন এবং ফ্যাসিবাদী শক্তিকে মদদ দেওয়ার কাজে লিপ্ত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
বর্তমানে ক্ষমতার পটপরিবর্তন হলেও, বাসস এর মতো একটি রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থার নিয়োগ প্রক্রিয়ার প্রধান দায়িত্বে তার মতো একজন ‘আওয়ামী দোসর’ বহাল থাকায় জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ উঠেছে যে, তিনি এখনো পূর্বের রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ন্ত্রণ করছেন।
বাসস এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক হিসেবে নিয়োগ পান সংস্থাটির অবসরপ্রাপ্ত বার্তা সম্পাদক ও জাতীয় প্রেসক্লাবে বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত প্যানেল থেকে নির্বাচিত সাবেক সভাপতি কামাল উদ্দিন সবুজ। নিয়োগ লাভের পর তাকে বাসস এর সাংবাদিক কর্মচারীরা তাকে আন্তরিক ভাবে স্বাগত জানান। কিন্তু দায়িত্ব নিয়ে তিনি মোরশেদ, মানিকুল আজাদ, নীলা ও আক্তার নামে রাজশাহী গ্রুপ নামে একটি চক্রবেষ্টিত হয়ে যাবতীয় সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন বলে নাম প্রকাশ না করে শর্তে বাসস এর সাংবাদিক কর্মচারীরা জানান।
সাংবাদিকদের স্বার্থবিরোধী কার্যক্রমে সম্পৃক্ত থাকায় মোরশেদকে বহিষ্কার করে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন। তার পুরো পরিবার আওয়ামী রাজনীতিতে সম্পৃক্ত। মোরশেদের বিরুদ্ধে নারী সহকর্মীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ রয়েছে যৌন হয়রানির অভিযোগ রয়েছে। এরূপ একজন বিতর্কিত ব্যক্তিকে মোরশেদকে প্রধান করে বাসস এর নতুন এমডি ও প্রধান সম্পাদক কামাল উদ্দিন সবুজ নিয়োগ কমিটি গঠন করেন। এ কমিটিতে আরেক বিতর্কিত মানিকুল আজাদ ও নীলাকেও সদস্য করা হয়েছে। মানিকুল আজাদ আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি সাইফুজ্জামান শিকরের মা পরিচয়ে ২০১৮ সালে বাসা সে পদোন্নতি লাভ করেন।
যদিও বিএনপি আমলে নিয়োগ পাওয়া সাংবাদিকগণ ২০১১ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বাসস এ কোনরূপ পদোন্নতি পাননি। ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের পর আসিফ নজরুলের হিসাবে পরিচিত অখ্যাত এক সাংবাদিক মাহবুব মোর্শেদকে বাসরস এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। এই চক্রটি মাহবুব মোর্শেদকেও ফ্যাসিস্ট হতে ক্ষেত্র তৈরি করে। এক পর্যায়ে বাসস এর সাংবাদিক কর্মচারীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাহবুব মোর্শেদকে নো কনফিডেন্স বলে অফিস থেকে বের করে দেয়। এরপরই বিএনপি সরকার কামাল উদ্দিন সবুজকে নিয়োগ দেন। কামাল উদ্দিন সবুজ সভাপতি হিসেবে জাতীয় প্রেস ক্লাবের নির্বাচন সময় মত না করে আওয়ামী লীগের হাতে তুলে দেন। এ নিয়ে সাংবাদিকদের একটি বড় অংশ তার উপরে ক্ষুব্ধ। বাসস স এনযোগদানের পরও তিনি একচোখা নীতিতে সকল সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন বলে সূত্র জানায়।
ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার সুবিধাভোগী ও আওয়ামী পন্থী হিসেবে পরিচিত একজন সাংবাদিক কীভাবে এখনো রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগ কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, তা নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে আপত্তি তোলা হয়েছে। সংস্কারপন্থী সংবাদকর্মীরা অবিলম্বে তাকে এই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি প্রদান এবং তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।