
জিএম মাকছুদুর রহমান, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার: কুমিল্লার দেবিদ্বারে দীর্ঘদিনের তীব্র গ্যাস সংকটে অতিষ্ট হয়ে অবশেষে ভুক্তভোগীরা গ্যাস অফিস অবরোধ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন। ৩০ নভেম্বর (রোববার) সকালে দেবিদ্বার গ্যাস অফিসের সামনে এলাকাবাসী জড়ো হয়ে তাদের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরে দ্রুত সমস্যার সমাধান দাবি করেন। অবরোধকারী সাধারণ মানুষ জানান, প্রতিদিন সকাল ৬টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত—যে সময়টায় সংসারের মূল রান্নাবান্না, বাচ্চাদের টিফিন প্রস্তুত, পরিবারে নিত্যদিনের খাবার তৈরির মতো সবচেয়ে জরুরি কাজগুলো হয়ে থাকে—সেই সময়েই গ্যাস থাকে না। এই আট ঘণ্টার গ্যাস সংকটে দিনযাপন হয়ে উঠেছে দুর্বিষহ। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করে বলেন,“যে সময়টায় গ্যাস সবচেয়ে দরকার, ঠিক সেই সময়ই গ্যাস চলে যায়। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চুলা জ্বলে না। ছোট ছোট বাচ্চাদের নাশতা, স্কুলে পাঠানোর প্রস্তুতি—সবকিছুতেই বিপর্যয় নেমে আসে।”অভিযোগ রয়েছে, আবাসিক-অনাবাসিক উভয় এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একই সমস্যা চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না। গ্যাস না থাকায় কেউ কেউ বাধ্য হয়ে চুলা, ইন্ডাকশন কিংবা সিলিন্ডার কিনে অতিরিক্ত খরচে রান্না করছেন—যা অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি করছে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর ওপর। মানববন্ধনে বক্তারা দাবি করেন—তাৎক্ষণিকভাবে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করতে হবে, এলাকাভিত্তিক সুষ্ঠু লাইনম্যানেজমেন্ট করতে হবে, গ্যাস সংকটের স্থায়ী সমাধানে জরুরি তদন্ত টিম গঠন করতে হবে। এলাকাবাসী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দ্রুত যথাযথ ব্যবস্থা না নিলে আরও কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়া হবে। তাদের দাবি—পরিষ্কার কোনো রূপরেখা না দিয়ে যান্ত্রিক ত্রুটি কিংবা লো-প্রেসারের কথা বলে দায় এড়ানো হচ্ছে। দেবিদ্বারবাসীর অভিযোগ, অতীতেও বহুবার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, কিন্তু সমস্যা কমেনি; বরং সময়ের সাথে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যাচ্ছে। অবশেষে ভুক্তভোগীরা গ্যাস অফিসের সামনে থেকেই ঘোষণা দেন—“আমাদের কষ্টের শেষ নেই, এবার সমাধান চাই। কথা নয়, গ্যাস চাই।”