
নজরুল ইসলাম, যশোর প্রতিনিধিঃ ঢাকার ব্যস্ততম এলাকায় প্রকাশ্যে গুলিতে নিহত দেশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটনের দাফন যশোরে সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার রাতে যশোর শহরের কারবালা কবরস্থানে পিতা ও বড় ভাইয়ের কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়। এর আগে রাত ৮টার দিকে তার মরদেহ খড়কি এলাকার নিজ বাড়িতে আনা হলে স্বজন ও স্থানীয়দের মাঝে শোকের ছায়া নেমে আসে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাতে রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকার পাশেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহনেওয়াজ ছাত্রাবাসের সামনে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা খুব কাছ থেকে গুলি করে টিটনকে হত্যা করে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় টিটন নীলক্ষেত সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছিলেন। এসময় মোটরসাইকেলে আসা দুই হামলাকারী তাকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায়। তার শরীরে পাঁচটি গুলি লাগে, যার মধ্যে তিনটি ছিল মাথায়।টিটন যশোর শহরের খড়কি এলাকার বাসিন্দা এবং কেএম ফকর উদ্দিনের ছেলে। সাত ভাই ও পাঁচ বোনের বড় পরিবারে জন্ম নেওয়া টিটন অল্প বয়সেই অপরাধ জগতে জড়িয়ে পড়েন। ১৯৯০-এর দশক থেকে তিনি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হয়ে ওঠেন এবং একাধিক হত্যা, চাঁদাবাজি ও অস্ত্র ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।২০০১ সালে প্রকাশিত দেশের ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকায় তার নাম ছিল। বিভিন্ন মামলায় দীর্ঘ সময় কারাগারে থাকার পর ২০২৪ সালের আগস্টে তিনি মুক্তি পান। মুক্তির পর আবারও আন্ডারওয়ার্ল্ডে সক্রিয় হয়ে ওঠেন বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য।টিটন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তার ভাই সাঈদ আক্তার রিপন নিউমার্কেট থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় নির্দিষ্ট কাউকে আসামি করা না হলেও কয়েকজন শীর্ষ সন্ত্রাসীকে সন্দেহভাজন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের সঙ্গে কোরবানির পশুর হাটের ইজারা নিয়ে বিরোধ ছিল বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।পুলিশ জানিয়েছে, হামলাকারীদের শনাক্ত করতে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে এবং তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোর অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে।এ ঘটনায় জনবহুল এলাকায় এমন দুঃসাহসিক হামলায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।