
আব্দুল্লাহ বাশার, কোটচাঁদপুরঃ বাজারে ড্রাগনের দাম কম, খরচ না উঠার আশংকায় ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরের ড্রাগন চাষিরা। বাজারে মৌসুমি ফলের আধিক্য ও ড্রাগনের আমদানি বেশি হওয়ায় দাম কম বলে জানিয়েছেন উপজেলা কৃষি অফিসার ।
জানা যায়, কোটচাঁদপুর পৌর শহরের কালিগঞ্জ- জীবনগর সড়কে ড্রাগন বাজারটি অবস্থিত। এটি দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তর আম বাজার বলে পরিচিত। এ বছর আমের পাশাপাশি ড্রাগন সহ মৌসুমি ফলের আমদানি রয়েছে বাজারে। যে কারনে চাষিরা ড্রাগনের ভাল দাম পাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে সামনের দিনে দাম কিছুটা বেশি হতে পারে বলে আশা করেছেন তারা। এদিকে দাম কম হওয়ায় কোটচাঁদপুর পৌর শহরের বিভিন্ন জায়গায় ভ্রাম্যমান ড্রাগন বিক্রেতাকে ড্রাগন বিক্রি করতেও দেখা গেছে। ওই সব দোকানে ক্রেতার সংখ্যা ও ছিল চোখে পড়ার মত।
বলাবাড়িয়া গ্রামের ড্রাগন চাষি জহুরুল ইসলাম বলেন,১২ বিঘা জমিতে আমার ড্রাগন চাষ রয়েছে। এরমধ্যে আমার লাইটে কিছু ড্রাগন চাষ ছিল। সেগুলো বাজারে প্রথম অবস্থায় উঠে ছিল,সে সময় কিছু টাকা হয়েছিল। তবে বর্তমানে যে দামে বিক্রি হচ্ছে তাতে খরচের টাকা উঠবে না।
তিনি বলেন,ড্রাগন যদিও বছরে ৩/৪ বার কাটা যায়। তবে এ মৌসুমে ড্রাগনের উৎপানটা বেশি হয়। তবে সামনে দিনে যদি বাজারে ড্রাগনের দাম বাড়ে, তাহলে চাষিরা কিছুটা হলেও এ লোকশান পুষিয়ে নিতে পারবেন বলে জানিয়েছেন ওই চাষি।
মহনপুর গ্রামের ড্রাগন চাষি রবিউল ইসলাম বলেন, ১২ বিঘা জমি চাষ রয়েছে ড্রাগনের। ফলনও ভাল হয়েছে। তবে বাজারে খোজ নিয়ে জানলাম ড্রাগনের দাম খুবই কম। আর যে দামে ড্রাগন বিক্রি হচ্ছে, তাতে খরচ উঠা কস্ট হয়ে যাবে। এ কারনে জমিতে ড্রাগন কাটার উপযোগী হলেও কাটা হচ্ছে না।
মোমিন ফল ভান্ডারের মালিক মোমিনুর রহমান বলেন,এ বছর প্রথম অবস্থায় যে সব চাষিরা ড্রাগন বাজারে তুলে ছিল, তারা বেশ দাম পেয়েছিল। গত এক সপ্তাহ ধরে বাজারে ড্রাগনের অবস্থা খারাপ।
তিনি বলেন,বাজারে আমরা যে ফলটি এ গ্রেড বলে বিক্রি করে থাকি,সেটি গত এক সপ্তাহ ধরে বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ৮০/৮৫ টাকা দামে। আর বি ও সি বিক্রি হচ্ছে ২০/৩০ টাকা দামে। এতে করে চাষিরা খুব বিপাকে পড়েছেন। বর্তমান দামে ড্রাগন বিক্রি করলে তাদের খরচের টাকা ও উঠবে না বলে জানিয়েছেন তারা।
কোটচাঁদপুর উপজেলা কৃষি অফিসার জাহিদ হোসেন জাহিদুল বলেন,এ বছর কোটচাঁদপুরে ৪ শ ৩৯ হেক্টর জমিতে ড্রাগন চাষ আছে। যা গত বছরের তুলনায় ১৩ হেক্টর জমিতে ড্রাগনের চাষ বেশি হয়েছে। কারন হিসেবে তিনি বলেন,ড্রাগনে টনিক ব্যবহারের কারনে মানুষের মাধ্যে এক ধরনের ভয় সৃষ্টি হয়েছে। এ কারনে মানুষ ড্রাগন কম খাচ্ছে। যদিও এ বছর টনিক ব্যবহারের হার অনেক কমে গেছে। তারপরও চাহিদা কম। এ জন্য অনেক চাষি ড্রাগন চাষ তুলে দিয়ে অন্য চাষে যাচ্ছেন।
তিনি বলেন,বাজারে মৌসুমি ফলের আধিক্য ও ড্রাগনের আমদানি বেশি হওয়ায় দাম কম। তবে সামনের ধরায় এই লোকশান কিছুটা পুষিয়ে নিতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন ওই কর্মকর্তা।