
খান মোঃ রফিকুল ইসলাম, সিনিয়র রিপোর্টার: রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকায় “সাংবাদিক” পরিচয় ব্যবহার করে চাঁদাবাজি, হয়রানি ও বিভিন্ন অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছে হাফিজুর রহমান হাফিজ গংয়ের বিরুদ্ধে। স্থানীয় ভুক্তভোগী ও খিলক্ষেত প্রেসক্লাব–সংশ্লিষ্ট কয়েকজন জানিয়েছেন, হাফিজ ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বেকারি, ডেইরি ফার্ম, ও দোকানে গিয়ে চাঁদা দাবি করে আসছিলেন।
অভিযোগে বলা হয়, তারা কখনো ডিআইজির পরিবারের পরিচয়, কখনো র্যাব বা থানার কর্মকর্তার আত্মীয় পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করতেন। স্থানীয়রা জানান, হাফিজ গং প্রেসক্লাবের নাম ব্যবহার করে ভুয়া পরিচয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করতেন এবং আপত্তিকর বা ইঙ্গিতপূর্ণ আচরণ করতেন।
খিলক্ষেত প্রেসক্লাব সূত্রে জানা যায়, হাফিজ কিছুদিন প্রেসক্লাবের অফিসে অবস্থান করতেন এবং পরিষ্কার–পরিচ্ছন্নতার কাজ করতেন। ওই সময় চুরির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে।আশেপাশের দোকানে ক্লাব পরিচয় হুমকি দিয়ে থাকেন। প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক জানান, বিভিন্ন অসদাচরণের কারণে তাকে বের করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
গোপালগঞ্জ টুঙ্গিপাড়া যুবলীগের দপ্তর সম্পাদক হাফিজুর রহমান হাফিজকে বের করে দেয়ার বিষয়টি তিনি জানার পর অফিসের ড্রয়ার থেকে প্রায় ৩৫ হাজার টাকা, দুটি চেক ও কিছু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র গায়েব করে ফেলে । এরপর তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না।
এলাকার কিছু ব্যবসায়ী জানান, হাফিজ গং প্রেসক্লাবের নাম ভাঙিয়ে অপকর্ম করতেন।তাকে কেহ কিছু বললে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এবং কখনো কখনো হুমকি দিতো। অভিযোগ রয়েছে—তিনি বলেন, প্রয়োজনে খিলক্ষেত প্রেসক্লাব “জ্বালিয়ে দেওয়া হবে” সভাপতিকে ঘুম করে ফেলবে এবং আরো নানান হুমকি।
কিছু স্থানীয় বাসিন্দা দাবি করেছেন, তিনি নিয়মিত বাজারে অবস্থান করতেন এবং কখনো সাংবাদিক, কখনো প্রেসক্লাব সদস্য, কখনো বিভিন্ন সংগঠন বা আধিকারিকের আত্মীয় পরিচয় দিতেন। এসব পরিচয় দিয়ে কথিত প্রতারণা বা চাঁদাবাজির চেষ্টা করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।
গত ৩ ডিসেম্বর ২০২৫ দুপুরে খিলক্ষেত প্রেসক্লাবের সামনে একটি চায়ের দোকানে কথিত সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদা দাবি করতে গেলে কয়েকজন ভুক্তভোগী ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে গণধোলাই দেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। পরে স্থানীয়রা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
কিছু সূত্রে আরও অভিযোগ রয়েছে—তিনি মাদকসংশ্লিষ্ট মহলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন এবং কিছু অসামাজিক (দেহব্যবসার) মত কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
খিলক্ষেত প্রেসক্লাবের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও দপ্তর সম্পাদক থানার ওসির নিকট সরাসরি গিয়ে অভিযোগ দিলে পুলিশ জানায়, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। অভিযোগগুলো যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।