
মোঃ ফরহাদঃ গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মাওনা চৌরাস্তা আইসক্রিম ফ্যাক্টরি সংলগ্ন সাইদুল খন্দকার এন্টারপ্রাইজ নামে একটি দোকানে মসলা ভাঙানোর কারখানায় হরদম চলছে ভেজাল ও ক্ষতিকর রঙ মেশানোর মহোৎসব। সাধারণ মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় মসলাজাতীয় পণ্য হলুদ ও মরিচের গুঁড়োয় মেশানো হচ্ছে বিষাক্ত কৃত্রিম রঙ। এতে করে চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন স্থানীয় সাধারণ ক্রেতারা।
কারখানায় যা ঘটছে
সরেজমিনে মাওনা চৌরাস্তা কাঁচাবাজার ও আইসক্রিম ফ্যাক্টরি সংলগ্ন ওই কারখানায় গিয়ে দেখা যায়, অত্যন্ত নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে শুকনা মরিচ এবং হলুদ ভাঙানোর কাজ চলছে। সেখানে আশরাফুল নামের এক ব্যক্তি সরাসরি এই ভেজাল প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত। অধিক মুনাফা লাভের আশায় এবং মসলার রঙ আকর্ষণীয় করতে হলুদের সাথে অতিরিক্ত হলুদ রঙ এবং মরিচের সাথে লাল টকটকে মরিচ রঙ (কৃত্রিম ও ক্ষতিকর কেমিক্যাল রঙ) মিশিয়ে তা মেশিনে ভাঙানো হচ্ছে।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, নিম্নমানের পচা ও নষ্ট মরিচ ক্রেতাদের চোখে ভালো দেখানোর জন্যই মূলত এই রঙের কারসাজি করা হচ্ছে। স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে যে, অত্যন্ত নিম্নমানের, বিবর্ণ ও নষ্ট হয়ে যাওয়া মরিচ স্তূপ করে রাখা হয়েছে, যা স্বাভাবিকভাবে রান্নার অযোগ্য। এই বিবর্ণ ও পচা মরিচগুলোকেই কৃত্রিম রঙের জাদুতে চকচকে লাল মরিচের গুঁড়ো বানিয়ে বাজারে ছাড়া হচ্ছে।
জনস্বাস্থ্য চরম ঝুঁকিতে
মাওনা চৌরাস্তার সাধারণ ক্রেতা ও সচেতন মহল এই অসাধু ব্যবসার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। আশরাফুলসহ এই চক্রের সাথে জড়িত সকলের বিরুদ্ধে দ্রুত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তারা স্থানীয় প্রশাসন ও জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন