
জিএম মাকছুদুর রহমান কুমিল্লা প্রতিনিধিঃ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (কুমেকে) নানা অনিয়ম এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযোগ করে পরিচালক ডা. মাসুদ পারভেজের পদত্যাগ চেয়ে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচী পালন করেছে কুমিল্লা বাঁচাও মঞ্চ নামের একটি সংগঠন। ২৩ জুন (সোমবার) সকাল ১১টায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে এ মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালককে অপসারণ করতে হবে। কেননা তিনি দুর্নীতিবাজ। তিনি হাসপাতালের অভ্যন্তরে সীমাহীন দুর্নীতি করে রোগীদের ভোগান্তির কারণ হয়েছেন। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের এমএসআর টেন্ডারের মাধ্যমে ঔষধ, যন্ত্রপাতি, পরীক্ষা নিরীক্ষা, আসবাবপত্র, লিনেনগজ, ব্যান্ডিজ, আউটসোর্সিং ৬৩জন কর্মচারী নিয়োগে মোটা অংকের আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করেছেন। সরকারি নিয়মের কোন তোয়াক্কা না করে সরকারি হাসপাতালের অভ্যন্তরে ন্যায্য মুল্যের দোকান নাম দিয়ে ফার্মেসী খুলা হয়েছে যা থেকে মোটা অংকের টাকা নিচ্ছে পরিচালক। সার্বিক বিষয়গুলো থেকে কুমিল্লাবাসীকে পরিত্রাণ দিতে দাবী জানাচ্ছে কুমিল্লা বাঁচাও মঞ্চ। এছাড়াও কুমিল্লা সদর দক্ষিন বেলতলীতে ট্রমা হাসপাতাল অবিলম্বে চালু করতে হবে। তা না হলে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গেইটে অনির্দিষ্টকালের জন্য অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে। মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম বলেন, হাসপাতালে রোগীরা কোন সেবা পাচ্ছে না, পরিচালক ডাঃ মাসুদ সীমাহীন দুর্নীতি করছে। যার কারণে হাসপাতালে শুধু নাই আর নাই শব্দ শুনা যায়। রোগীর ঔষধ বিক্রি করে দেন এই পরিচালক, হাসপাতালের বিভিন্ন মেশিন নষ্ট করে বেসরকারি হাসপাতাল থেকে পরিচালক কমিশন নিচ্ছেন। অবিলম্বে তাকে পদত্যাগ করতে হবে। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা বাঁচাও মঞ্চের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আব্দুল মোতালেব চৌধুরী, নির্বাহী সদস্য এডভোকেট আখতার হোসাইন, ওমর ফারুক চৌধুরী, মহানগরের সদস্য সচিব মোঃ নাসির উদ্দিনসহ অন্যরা বক্তব্য রাখেন। মানববন্ধনে কুমিল্লা বাচাঁও মঞ্চের কেন্দ্রিয় সাধারন সম্পাদক এডভোকেট মোঃ আব্দুল মেতাবে বলেন, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক নানাবিধ দুর্নীতির সাথে জড়িত। গেল বছর নভেম্বর থেকে এমআরআই মেশিন এবং সিটি স্কেন মেশিন অচল অবস্থায় পড়ে আছে। এতে রোগীদের সেবার মান বিঘ্নিত হচ্ছে। দালাল চক্রের মাধ্যমে রোগীগুলো প্রাইভেট হাসপাতালে প্রেরণ করে পরিচালক নিজে আর্থিক ভাবে লাভবান হচ্ছে। এ বিষয়ে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মাসুদ পারভেজ এর সাথে সাক্ষাত করতে গিয়ে পাওয়া যায়নি এবং মুঠো ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করেও পাওয়া যায়নি।