
ফারুক হোসাইন (জনি), কুমিল্লা উত্তর: কুমিল্লা শহরে স্বাধীনতার পর প্রায় ৮০০ পুকুর ছিল। নগরায়ণ, অবকাঠামো নির্মাণ ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের ফলে গত ২৩ বছরে এসব জলাধারের বেশির ভাগই ভরাট হয়ে গেছে। এখন শহরে টিকে আছে ২০০টির কম পুকুর। এই বাস্তবতায় নগরের ছোটরা মৌজার ১৯ একর খাস জমিতে গড়ে তোলা হচ্ছে ‘ডিসি পার্ক’, যেখানে থাকবে লেক, সবুজ বেষ্টনী, হাঁটার পথ, খেলার মাঠসহ নানা বিনোদন সুবিধা। ইতিমধ্যে ড্রেনসহ খাল খননের কাজ শুরু হয়েছে। ৬ মাসের মধ্যে কাজ দৃশ্যমান হবে। পরে জেলা প্রশাসক সুধীজন, গণমাধ্যম কর্মী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দদের নিয়ে পার্কের ভেন্যু পরিদর্শন করেন।জেলা প্রশাসনের দপ্তর সূত্রে জানা যায়, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অভিঘাত সহিষ্ণু জলধারার খনন ও সংরক্ষণ প্রকল্পের অংশ হিসেবে পার্কটি নির্মিত হচ্ছে। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক আমিরুল কায়ছার। উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সাইফুল ইসলাম ও স্থপতি তানভীর আহমেদ। ডিসি আমিরুল কায়ছার বলেন, স্বাধীনতার পর কুমিল্লা শহরে প্রায় ৮০০ পুকুর ছিল। এখন সংখ্যা নেমে এসেছে ২০০’র নিচে। গত ২৩ বছরে অসংখ্য জলাধার ভরাট হয়ে গেছে। যান্ত্রিক এই শহরে মানুষের শ্বাস নেওয়ার জায়গাটুকু নেই। শিশুদের বিনোদন আর পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এই পার্কের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পার্কটি নির্মিত হচ্ছে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ছোটরা এলাকার বোটানিকেল গার্ডেন ও চিড়িয়াখানার জায়গায়। এটি সিটি করপোরেশনের মাস্টারপ্ল্যানের অংশ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। ১৯ একর জমির মধ্যে ১২ একর এলাকাকে ২০ ফুট গভীর করে খনন করা হবে, যাতে আশপাশের পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা হয়। বাকি ৭ একরে হবে বিভিন্ন স্থাপনা। এতে রয়েছে ঝিলের আদলে ‘পদ্ম পুকুর’, যেখানে থাকবে নানা প্রজাতির পদ্মফুল। লেকের ওপর দুটি ঝুলন্ত ব্রিজ। ১৪০ ফুট উঁচু ফেরিস হুইল। ফ্লাওয়ার জোন ও খেলার মাঠ। ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ ওয়াকওয়ে। গাড়ি পার্কিং ও পয়ঃনিস্কাশনের জন্য খালব্যবস্থা। বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির গাছ রোপণ। জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড থেকে ১০ কোটি টাকা, কুমিল্লা সিটি করপোরেশন থেকে ২২ কোটি ৫০ লাখ টাকা এবং জেলা পরিষদ থেকে ৩ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে নালা ও খাল খননের কাজ শুরু হয়েছে। জেলা প্রশাসক জানান, প্রকল্পটি সম্পূর্ণ হলে কুমিল্লা নগরে একটি নতুন পরিবেশবান্ধব বিনোদনকেন্দ্র গড়ে উঠবে, যা শহরের জলাধার সংরক্ষণ ও পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।