1. admin@dailytathyanusandhan.com : admin :
সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:৫৫ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
প্রশাসনের নির্দেশ অমান্য করে রাতের আঁধারে সড়ক কার্পেটিং, দেবিদ্বারে কাজ বন্ধ শিক্ষা ও জ্ঞানার্জনে সমাজের অন্ধকার দূর করার শপথ নিতে হবে:….. দেবিদ্বারে ইউএনও অশোক বিক্রম চাকমা শ্রীপুরে যুবদল নেতাকে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে মোটা অঙ্কের টাকা দাবির অডিও রেকর্ড রয়েছে যশোর বেনাপোলে ট্রাভেল পারমিটে ভারত থেকে দেশে ফিরলেন ১০ নারী সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে দেবিদ্বারে আইইএস জাতীয় মেধাবৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত নগরঘাটায় ৮ দলীয় নকআউট ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচ অনুষ্ঠিত গাজীপুরের কাপাসিয়ায় আলী হোসেনের ওপর হামলার ঘটনায় রফিকুল ও টিপুসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা শ্রীপুরে বিএনপির নেতা মোশাররফ সরকারের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচারের প্রতিবাদ সংবাদ সম্মেলন যশোরে লংমার্চ সফলে শহরে জামায়াতের গণমিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশ সাতক্ষীরায় এডিসি রিপন বিশ্বাসের অপসারণের দাবিতে আইনজীবীদের মানববন্ধন

সাতক্ষীরায় ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয় সহ বিভিন্ন দপ্তরে এলাকাবাসীর গণস্বাক্ষরিত অভিযোগ।

  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৫
  • ১৬৪ বার পঠিত

এম ইদ্রিস আলী-সাতক্ষীরা প্রতিনিধিঃ সাতক্ষীরা সদরে মোঃ সিরাজুল ইসলাম নামের এক ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে জাল সনদ তৈরি করে ভাতা উত্তোলন ও উক্ত জাল সনদ দিয়ে দুই ছেলেকে সরকারি চাকরি দেওয়ার অভিযোগে মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে এলাকাবাসী গণস্বাক্ষরিত অভিযোগ দিয়েছে।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে মুক্তিযুদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয় ঢাকার ৪৮০০.০০০০.০০৪.৪১.০০১.২৪.৩২৭৩ নং স্মারকের প্রেক্ষিতে সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অভিযোগের বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দিলে গত ২৮ অক্টোবর ২০২৪ তারিখ সোমবার বিকাল ৩ ঘটিকায় বাঁধনডাঙ্গা গ্রামে তদন্ত অনুষ্ঠিত হয়। এই তদন্তে গ্রামবাসী সকলে সাক্ষী দেয় যে মোঃ সিরাজুল ইসলাম ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযোদ্ধা চলাকালীন সময়ে সে কোন মুক্তিযোদ্ধায় অংশগ্রহণ করেনি।

এদিকে তদন্ত কার্যক্রম প্রায় এক বছর অতিবাহিত হয়ে গেলেও এখনো পর্যন্ত প্রতিবেদন না দেওয়াই এলাকাবাসীর মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

গণস্বাক্ষরিত অভিযোগে জানা যায়,সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বাঁধনডাঙ্গা গ্রামের মৃত. জনাব আলীর পুত্র মোঃ সিরাজুল ইসলাম নিজেকে গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকেন। তিনি ২০০৫ সালে আর্থিক উৎসের মাধ্যমে কয়েকজন স্বাক্ষী ম্যানেজ করে মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় তার নাম অন্তর্ভুক্ত করান।তিনি ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালী কোন সেক্টরে কোন প্রকার অপারেশনে অংশগ্রহণ করেনি। এমনকি মুক্তিযুদ্ধের কোন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেনি সে। অথচ তিনি বেসামরিক গেজেটে নাম অন্তর্ভুক্ত করিয়ে রীতিমতো ভাতা উত্তোলন করে আসছে। গেজেটে তার ক্রমিক নাম্বার ৪৬। পরিচিতি নাম্বার ০১৮৭০০০৩২০১। বেসামরিক গেজেট নাম্বার ১৭৯২।
তবে লালমুক্তিবার্তা তালিকা ও মুক্তিযুদ্ধের ভারতীয় তালিকায় তার নাম না থাকলেও সে কিভাবে গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা হল এমন প্রশ্ন এলাকাবাসীর।

মোঃ শাহাদাৎ হোসেন,আব্দুল জলিল,হারু সানা, রেজাউল হক,আব্দুস সালাম সহ অনেকেই জানান,আমরা গ্রামবাসী এই সিরাজুলকে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে জানি। আমাদের জানামতে সে মহান মুক্তিযোদ্ধে কখনো অংশগ্রহণ করেনি। এই সিরাজুল আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে দলীয় প্রভাব খাঁটিয়ে এলাকার নিরীহ মানুষকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করেছে এবং এই জাল মুক্তিযুদ্ধার সনদ দিয়ে তার দুই পুত্রকে সরকারি চাকরিতে ঢুকিয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে আমরা এলাকাবাসী মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ জানালে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেন সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে। কিন্তু এক বছর অতিবাহিত হয়ে গেলেও এখনো পর্যন্ত তদন্ত প্রতিবেদন দেননি তিনি। যে কারণে বিষয়টি নিয়ে গ্রামবাসীর মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। আমরা দ্রুত এই সিরাজুল এর বিরুদ্ধে তদন্ত করে মুক্তিযোদ্ধার বেসামরিক গেজেট থেকে তার নাম বাতিলের জোর দাবি জানাচ্ছি।
এদিকে ৮ ও ৯ নম্বর সেক্টরে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী যুদ্ধহতো মুক্তিযোদ্ধা আবু হানিফ,মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ইউনুস আলী,মুক্তিযোদ্ধা মল্লিক ইসমাইল হোসেন, মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল বারি,মুক্তিযোদ্ধা মোঃ অজেত আলীসহ একাধিক বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রত্যয়ন পত্র দিয়েছেন যে আমাদের জানা মতে মোঃ সিরাজুল ইসলাম মুক্তিযোদ্ধা চলাকালীন সে কোন ইউনিটে অপারেশনে অংশগ্রহণ করেনি। মহান বীর মুক্তিযুদ্ধের পবিত্র তালিকা হতে তার নাম বাদ দেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের নিকট আকুল আবেদন জানিয়েছেন তারা।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত সিরাজুল ইসলামের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন,আমি একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা,আমার সকল কাগজপত্র রয়েছে। একটি মক্তবকে কেন্দ্র করে কিছু মানুষ আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করেছে।

বিষয়টি নিয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শোয়াইব আহমাদ এর নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন,বিষয়টি নিয়ে সাময়িক তদন্ত করেছি,দ্রুত তদন্ত করে সচিবালয়ে প্রতিবেদন পাঠিয়ে দিব।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © তথ্যানুসন্ধান ২০২৫
Theme Customized By Shakil IT Park