
মোঃ ফরহাদ, স্টাফ রিপোর্টারঃ গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বরমী ইউনিয়নে মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ করায় আকরাম হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। ঘাতকদের বিচারের দাবিতে এবং নিহতের পরিবারকে ক্রমাগত হয়রানির প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছেন এলাকাবাসী।
মাদক ব্যবসার প্রতিবাদই কি কাল হলো?
নিহত আকরামের মেয়ের অভিযোগ, তার বাবা এলাকায় মাদক বিক্রির বিরোধী ছিলেন। ঘটনার দিন তিনি মাদক কারবারিদের এলাকায় মাদক বিক্রি করতে নিষেধ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মাদক কারবারি মাহাবুল, মাসুম, শুভ, মর্জিনা ও কবিরসহ তাদের সহযোগীরা আকরামের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। বেধড়ক পিটুনিতে গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহতের মেয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন:
”আমার বাবা শুধু চেয়েছিলেন এলাকা মাদক মুক্ত হোক। মাদক কারবারিদের নিষেধ করার অপরাধেই তারা আমার বাবাকে পিটিয়ে মেরে ফেলল। আমি আমার বাবা হত্যার সুষ্ঠু বিচার ও খুনিদের ফাঁসি চাই।”
খুনিরা দাপটে, পরিবার পলাতক
সাধারণত অপরাধ সংঘটনের পর আসামিরা পালিয়ে থাকার কথা থাকলেও, বরমী ইউনিয়নে চিত্রটি ভিন্ন। অভিযোগ উঠেছে, প্রভাবশালী খুনিচক্র এখন নিহত আকরামের পরিবারকেই উল্টো নানাভাবে হয়রানি করছে।
নিহতের পরিবারকে মামলা তুলে নিতে এবং মুখ বন্ধ রাখতে প্রতিনিয়ত প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
পরিবারটির সহায়তায় কেউ এগিয়ে এলে তাদের বিরুদ্ধেও মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে ঘাতক চক্র।
স্থানীয়রা জানান, আসামিরা বুক ফুলিয়ে এলাকায় বিচরণ করলেও গ্রেপ্তার বা হয়রানির ভয়ে নিহতের পরিবারই এখন ঘরছাড়া ও পালিয়ে বেড়াচ্ছে।
এলাকাবাসীর মানববন্ধন ও বিক্ষোভ
হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে ফুঁসে উঠেছে এলাকাবাসী। সম্প্রতি তারা বিশাল মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা মাদক কারবারি মাহাবুল, মাসুম ও মর্জিনাসহ সকল অভিযুক্তের ফাঁসির দাবি জানান।
এলাকাবাসীর দাবি, পুলিশ প্রশাসন যদি দ্রুত পদক্ষেপ না নেয় এবং এই পরিবারটিকে সুরক্ষা না দেয়, তবে মাদক কারবারিদের সাহস আরও বেড়ে যাবে এবং সাধারণ মানুষের জানমালের কোনো নিরাপত্তা থাকবে না।
প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
মাদক ব্যবসার প্রতিবাদকারীকে খুনের পর উল্টো নিহতের পরিবারকে হয়রানির ঘটনায় জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসী অতি দ্রুত জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন যাতে আকরাম হত্যার বিচার নিশ্চিত হয় এবং তার পরিবার নিজ বাড়িতে নিরাপদে ফিরতে পারে।