1. admin@dailytathyanusandhan.com : admin :
সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১২:৪০ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
প্রশাসনের নির্দেশ অমান্য করে রাতের আঁধারে সড়ক কার্পেটিং, দেবিদ্বারে কাজ বন্ধ শিক্ষা ও জ্ঞানার্জনে সমাজের অন্ধকার দূর করার শপথ নিতে হবে:….. দেবিদ্বারে ইউএনও অশোক বিক্রম চাকমা শ্রীপুরে যুবদল নেতাকে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে মোটা অঙ্কের টাকা দাবির অডিও রেকর্ড রয়েছে যশোর বেনাপোলে ট্রাভেল পারমিটে ভারত থেকে দেশে ফিরলেন ১০ নারী সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে দেবিদ্বারে আইইএস জাতীয় মেধাবৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত নগরঘাটায় ৮ দলীয় নকআউট ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচ অনুষ্ঠিত গাজীপুরের কাপাসিয়ায় আলী হোসেনের ওপর হামলার ঘটনায় রফিকুল ও টিপুসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা শ্রীপুরে বিএনপির নেতা মোশাররফ সরকারের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচারের প্রতিবাদ সংবাদ সম্মেলন যশোরে লংমার্চ সফলে শহরে জামায়াতের গণমিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশ সাতক্ষীরায় এডিসি রিপন বিশ্বাসের অপসারণের দাবিতে আইনজীবীদের মানববন্ধন

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি: ইরানের আপোসহীন প্রতিরোধের রূপকার

  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ১ মার্চ, ২০২৬
  • ২৩৬ বার পঠিত

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের এক যৌথ বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন।

রোববার (১ মার্চ) ভোরে ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ৮৬ বছর বয়সি এই নেতার মৃত্যু নিশ্চিত করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) তেহরানে খামেনির বাসভবন লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। এই হামলায় খামেনির কন্যা, জামাতা এবং নাতিও নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। ট্রাম্পের দাবি, খামেনিই এবং অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তারা মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা ও উন্নত ট্র্যাকিং সিস্টেমের নজরদারি এড়াতে পারেননি।

আয়াতুল্লাহ খামেনি ১৯৮৯ সালে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খামেনির উত্তরসূরি হিসেবে ইরানের হাল ধরেন। খামেনি যেখানে ইসলামি বিপ্লবের আদর্শিক ভিত্তি গড়েছিলেন, খামেনি সেখানে ইরানের সামরিক ও আধ্যাত্মিক কাঠামোকে শক্তিশালী করে এক অপরাজেয় প্রতিরোধ বলয় তৈরি করেছিলেন।

১৯৮০-র দশকে ইরাকের সঙ্গে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের সময় প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে পশ্চিমা বিশ্বের প্রতি তার যে গভীর অবিশ্বাস তৈরি হয়েছিল, তা-ই পরবর্তী কয়েক দশক ইরানের পররাষ্ট্রনীতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে। তার শাসনামলে ‘ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী’ (আইআরজিসি) একটি শক্তিশালী নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়, যা পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রভাব বিস্তার করে।

খামেনির দীর্ঘ শাসনামল যেমন অর্জনে ভরপুর ছিল তেমনি তা অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জের মুখেও পড়েছে। ২০০৯ সালের বিতর্কিত নির্বাচন এবং ২০২২ সালে নারী অধিকার নিয়ে হওয়া বিক্ষোভসহ বিভিন্ন সময়ে তাকে কঠিন জনরোষের মুখোমুখি হতে হয়েছে।

বিশেষ করে ২০২৬ সালের শুরুতে অর্থনৈতিক সংকটের কারণে সৃষ্ট দেশব্যাপী বিক্ষোভ দমনে সরকার কঠোর অবস্থান নিলে কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয় বলে অভিযোগ ওঠে। সমালোচকদের মতে, খামেনির অতিরিক্ত জাতীয়তাবাদ ও পশ্চিমা বিরোধিতার চড়া মূল্য দিতে হয়েছে সাধারণ ইরানিদের, যা তরুণ প্রজন্মের একাংশের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছিল।
আঞ্চলিক রাজনীতির প্রেক্ষাপটে খামেনির সবচেয়ে বড় কৌশল ছিল ‘প্রতিরোধের অক্ষ’ গড়ে তোলা। হিজবুল্লাহ, হামাস এবং হুতিদের মতো গোষ্ঠীগুলোকে সঙ্গে নিয়ে তিনি ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে এক শক্তিশালী ব্যুহ তৈরি করেছিলেন। তবে ২০২৪ সালে সিরিয়ায় আসাদ সরকারের পতন এবং হামাস-হিজবুল্লাহর শীর্ষ নেতাদের হত্যাকাণ্ডের ফলে এই অক্ষ কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়ে। এই সুযোগেই ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি ইরানের ভেতরে হামলা চালায়।

মৃত্যুর আগ পর্যন্ত খামেনি তার আপোষহীন অবস্থানে অটল ছিলেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন ইরানের সরকার পরিবর্তনের ডাক দিয়ে ‘বড় ধরনের সামরিক অভিযান’ শুরু করেন, তখন খামেনিই হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে ইরানি জাতি কখনও আত্মসমর্পণ করবে না। তার মৃত্যুতে ইরানের ইতিহাসে এক দীর্ঘ অধ্যায়ের অবসান ঘটল, যা দেশটিকে এক অনিশ্চিত রাজনৈতিক ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিয়েছে।

সূত্র: আল জাজিরা।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © তথ্যানুসন্ধান ২০২৫
Theme Customized By Shakil IT Park