
মেঘনা (কুমিল্লা) প্রতিনিধিঃ কুমিল্লার মেঘনা উপজেলায় ভূমি রেকর্ড সংক্রান্ত অনিয়ম অনুসন্ধানে গিয়ে স্থানীয় সংবাদকর্মীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও পেশাগত কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও একটি অস্থায়ী সেটেলমেন্ট অফিসের কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বিকেল আনুমানিক ৩.টার দিকে দৈনিক কালবেলা পত্রিকার মেঘনা উপজেলা প্রতিনিধি মো. আলাউদ্দিন ইসলাম ও দৈনিক কালের কণ্ঠের মেঘনা প্রতিনিধি মো. নাইমুল ইসলাম শহীদ লুটেরচর ইউনিয়নের বলরামপুর মৌজার রেকর্ড সংক্রান্ত অনিয়মের বিষয়ে স্থানীয় জনগণের অভিযোগের ভিত্তিতে সত্যতা যাচাই করতে লুটেরচর ইউনিয়নের অস্থায়ী সেটেলমেন্ট অফিসে যান। সেখানে সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার ফয়েজ আহম্মেদের কাছে অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি প্রথমে ওয়াশরুমে যাওয়ার কথা বলে সময়ক্ষেপণ করেন। পরে তিনি স্থানীয় লুটেরচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোজাম্মেল হক, ও ইউপি সদস্য আব্দুল গাফ্ফারসহ আরও কয়েকজনকে ডেকে এনে সাংবাদিকদের বক্তব্য গ্রহণে বাধা দেন এবং সংগঠিতভাবে তাঁদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। একপর্যায়ে মানহানিকর আচরণ ও পেশাগত কাজে বাধার মুখে আত্মসম্মান রক্ষার্থে সাংবাদিকরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে বাধ্য হন।
এ ঘটনায় দৈনিক কালবেলা পত্রিকার প্রতিনিধি মো. আলাউদ্দিন ইসলাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ পত্রে মো. আলাউদ্দিন ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি মেঘনা উপজেলায় নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও সামাজিক অবক্ষয়ের বিষয়ে দায়িত্বশীলভাবে সংবাদ পরিবেশন করে আসছেন। কিন্তু এ ধরনের আচরণ সাংবাদিকতার স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের পেশাগত দায়িত্ব পালনে সরাসরি বাধা সৃষ্টি করছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌসুমী আক্তার বলেন, “বিষয়টি লিখিতভাবে অভিযোগ পেয়েছি। গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে প্রয়োজনীয় তদন্ত করা হবে এবং তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”