
এম ফয়জুল ইসলাম ফয়সাল, মুরাদনগর (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতে ব্যর্থ হয়ে উপজেলা প্রকৌশলীকে প্রকাশ্য হুমকির অভিযোগ উঠেছে এক ঠিকাদারের বিরুদ্ধে। যুবলীগ নেতা রজ্জব হোসেন রাজুর মালিকানাধীন “রাহাত এন্টারপ্রাইজ”-এর বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগটি এখন স্থানীয় প্রশাসনের আলোচনার কেন্দ্রে। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে কাজ সম্পন্ন না করেই সরকারি কোষাগার থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন তিনি। ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় মুরাদনগরের গুরুত্বপূর্ণ দুটি সড়কের কাজ পান এই ঠিকাদার।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কুড়াখাল–বি-চাপিতলা সড়কের ৮২২ মিটারের মধ্যে অর্ধেকের বেশি কাজই অসমাপ্ত। অথচ পুরো অংশের বিল পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন ঠিকাদার রাজু।
অন্যদিকে, শ্রীকাইল-গাজীরহাট সড়কের ২ কিলোমিটার দীর্ঘ সংস্কার কাজটিও তিনি অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স ব্যবহার করে হাতে নেন। কিন্তু কাজের নূন্যতম অগ্রগতি না দেখিয়েই বিল দাবি করেন তিনি। নিয়মবহির্ভূত এই দাবিতে সায় না দেওয়ায় উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফয়সাল বারী পূর্ণকে লাঞ্ছিত করার হুমকি এবং তার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মানববন্ধনের মতো ঘটনা ঘটেছে।
শ্রীকাইল ও কুড়াখাল গ্রামের বাসিন্দাদের অভিযোগ, ঠিকাদার রাজুর গাফিলতিতে জনগুরুত্বপূর্ণ সড়ক দুটি এখন গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা সাজ্জাদ হোসেন জানান, বৃষ্টির দিনে কাদা আর গর্তে চলাচলের কোনো উপায় থাকে না। বরাদ্দ আসা সত্ত্বেও কাজ শেষ না হওয়ায় গ্রামবাসী এখন চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, রাজু কেবল উন্নয়ন কাজেই ফাঁকি দেননি, ঠিকাদারি ব্যবসায় অংশীদার করার নাম করে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।
প্রকৌশল দপ্তরের কড়া অবস্থান
আইনি জটিলতা ও দুর্নীতির সুযোগ না থাকায় উপজেলা প্রকৌশল দপ্তর বিল ছাড় দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফয়সাল বারী পূর্ণ স্পষ্ট জানিয়েছেন, “ওয়ার্ক অর্ডার অনুযায়ী কাজ না করলে এবং গুণগত মান বজায় না রাখলে বিল দেওয়ার কোনো বিধান নেই। তিনি নির্ধারিত সময়ও পার করেছেন। এখন উল্টো তাকে জরিমানা দিতে হবে। কাজের চেয়ে বিলের দাবি অনেক বেশি হওয়ায় এবং অসম্পূর্ণ প্রকল্পের বিল চাওয়া সম্পূর্ণ বেআইনি।”
অভিযোগের বিষয়ে রজ্জব হোসেন রাজু কিছুটা ভিন্ন কথা বলছেন। তার দাবি, “টাকা না পাওয়ায় কাজ শেষ করতে পারছেন না।” তবে কাজ শুরু করার আগে বিল উত্তোলনের এমন অদ্ভুত দাবি সরকারি বিধিমালায় কোথাও নেই বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, ফ্যাসিস্ট কায়দায় ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের ভয় দেখানো এবং উন্নয়ন কাজে লুটপাটের এই সংস্কৃতি বন্ধ হওয়া জরুরি। জনদুর্ভোগ কমাতে এবং দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত এই ঠিকাদারের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জোরালো হচ্ছে।