
জিএম মাকছুদুর রহমান, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার: কুমিল্লায় জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তফসিল ঘোষণার আগেই পুরো রাজনৈতিক অঙ্গন সরগরম হয়ে উঠেছে। জেলা শহর থেকে প্রত্যন্ত গ্রাম—সবখানেই চলছে বিএনপি, জামায়াত, এলডিপি, এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সম্ভাব্য প্রার্থী ও মনোনীত নেতাদের গণসংযোগ, পথসভা, উঠান বৈঠক আর শুভেচ্ছা বিনিময়ের ব্যস্ততা। ইতোমধ্যে বিএনপি কুমিল্লার ১১টি আসনের মধ্যে ৯টিতে প্রাথমিক প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে। তবে কয়েকটি আসনে মনোনয়ন নিয়ে অসন্তোষ দেখা দেওয়ায় দলের ভেতরে চলছে আলোচনা–পুনর্বিবেচনার জোর চেষ্টা। একই সঙ্গে তারেক রহমানের ৩১ দফার লিফলেট বিতরণে মনোনয়নবঞ্চিত এবং প্রত্যাশীদের শোডাউনও সমানতালে অব্যাহত। অন্যদিকে জামায়াত ১১টি আসনেই আগেভাগেই প্রার্থী ঘোষণা করে পূর্ণ উদ্যমে মাঠে নেমেছে। এলডিপি, এনসিপি ও এবি পার্টির পৃথক প্রচারণাও নজর কাড়ছে। ফলে পুরো জেলার রাজনৈতিক মাঠ এখন উৎসবমুখর প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রূপ নিয়েছে।কুমিল্লা–১ (দাউদকান্দি–মেঘনা) বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন জোর প্রচারণায় মাঠ দাপাচ্ছেন। প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বাহালুলও সমানভাবে সক্রিয়। কুমিল্লা–২ (হোমনা–তিতাস) এ আসনে বিএনপি এখনো প্রার্থী ঘোষণা করেনি; বিভাগীয় সাংগঠনিক নেতা সেলিম ভূইয়াসহ তিনজন মনোনয়ন প্রত্যাশী প্রচারণায় রয়েছেন। জামায়াতের প্রার্থী নাজিম উদ্দিন মোল্লা। কুমিল্লা–৩ (মুরাদনগর) বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, আর তার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের ইউসুফ হাকিম সোহেল। কুমিল্লা–৪ (দেবিদ্বার) দেবিদ্বারে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা জমে উঠেছে। বিএনপির মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী, এনসিপির হাসনাত আবদুল্লাহ, এবং জামায়াতের সাইফুল ইসলাম শহীদ সক্রিয়ভাবে প্রচারণা চালাচ্ছেন। লকুমিল্লা–৫ (বুড়িচং–ব্রাহ্মণপাড়া) বিএনপির ঘোষণা করা প্রার্থী হাজী জসিম উদ্দিন, তবে অভ্যন্তরীণ বিভক্তি রয়েছে—মিজানুর রহমান ও ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মামুনও মাঠে আছেন। জামায়াতের প্রার্থী ড. মোবারক হোসাইন।কুমিল্লা–৬ (সদর) বিএনপির মনোনীত মনিরুল হক চৌধুরীকে ঘিরে দেখা দেয় তীব্র অসন্তোষ। প্রার্থী প্রত্যাশী হাজী আমিন উর রশিদ ইয়াছিনের সমর্থকদের আন্দোলন তারেক রহমানের আশ্বাসে থেমে গেলেও লিফলেট বিতরণ অব্যাহত। জামায়াতের কাজী দ্বীন মোহাম্মদ এবং এবি পার্টির মিয়া মোহাম্মদ তৌফিকও সক্রিয়। কুমিল্লা–৭ (চান্দিনা) বিএনপি এখনো প্রার্থী ঘোষণা করেনি। এলডিপির মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ প্রতিদিনই জনসভা করছেন। জামায়াতের মোশাররফ হোসেনও প্রচারণায় আছেন। কুমিল্লা–৮ (বরুড়া) এ আসনে বিএনপি থেকে জাকারিয়া তাহের সুমন, জামায়াতের প্রতিদ্বন্দ্বী অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম হেলাল। কুমিল্লা–৯ (লাকসাম–মনোহরগঞ্জ) বিএনপির শিল্প বিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম মনোনয়ন পেয়েছেন। কিছু অসন্তোষ থাকলেও তা সমাধান হয়েছে। জামায়াতের ড. সৈয়দ সরওয়ার উদ্দিন সিদ্দিকীও সক্রিয়। কুমিল্লা–১০ (নাঙ্গলকোট–লালমাই) বিএনপির আবদুল গফুর ভুইয়া, আর জামায়াতের মাওলানা ইয়াছিন আরাফাত। কুমিল্লা–১১ (চৌদ্দগ্রাম) বিএনপির কামরুল হুদাকে টক্কর দিচ্ছেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ড. সৈয়দ আব্দুল মুহাম্মদ তাহের।বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন—“গণতান্ত্রিক দল হিসেবে জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য, যোগ্য প্রার্থীদেরই মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।” জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ড. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের জানান—“উন্নত, সুশৃঙ্খল সমাজ গঠনের লক্ষ্যে আমরা নির্বাচন করছি। শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু ভোটের পরিবেশ নিশ্চিত করতে জনগণকে সঙ্গে রাখছি। তফসিল ঘোষণার আগেই কুমিল্লার ১১টি আসনে যে তীব্র প্রতিযোগিতা দেখা যাচ্ছে, তা আসন্ন নির্বাচনে জেলার গুরুত্ব ও রাজনৈতিক উত্তাপেরই প্রতিফলন। বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল, জামায়াতের আগাম প্রস্তুতি এবং জোট রাজনীতির ভিন্নধর্মী তৎপরতা কুমিল্লাকে জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করেছে।