
স্টাফ রিপোর্টার: গাজীপুরের শ্রীপুরে এক গৃহবধূ কর্তৃক তার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট দাবি করেছে ভুক্তভোগী পরিবার এবং স্থানীয় এলাকাবাসী। একটি নির্দিষ্ট মহলের উস্কানিতে এবং পারিবারিক কলহের জেরে আর্থিক সুবিধা ও সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করতে এই কাল্পনিক ও সাজানো অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে পাল্টা দাবি উঠেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলার কর্ণপুর গ্রামের মৃত সিরাজ উদ্দিন আকন্দের ছেলে মোঃ কবির হোসেন আকন্দ (৫২) এবং তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে শ্রীপুর মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তার স্ত্রী মাসুমা আক্তার (৩৮)। অভিযোগে দীর্ঘ ২৪ বছরের বৈবাহিক জীবনের নানা সময়ে ৩৫ লক্ষ টাকা যৌতুক নেওয়া, মারধর এবং ঘর থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার মতো গুরুতর দাবি করা হলেও, স্থানীয় সূত্র এবং ঘটনার পারিপার্শ্বিকতা বিশ্লেষণ করে এর কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় একাধিক গণ্যমান্য ব্যক্তি ও প্রতিবেশীরা জানান, কবির হোসেন আকন্দ একজন শান্ত ও কর্মঠ মানুষ। তাদের দীর্ঘ সংসার জীবনে সাধারণ পারিবারিক কিছু বিষয়ে কথা কাটাকাটি হলেও, লাখ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করা বা এর জন্য স্ত্রীকে নির্যাতন করার মতো কোনো ঘটনা এলাকায় কখনো শোনা যায়নি। মূলত মাসুমা আক্তারের ভাইদের প্ররোচনায় এবং জমিজমা বা পারিবারিক সম্পত্তি সংক্রান্ত কোনো গোপন এজেন্ডা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এই কাল্পনিক অভিযোগ তৈরি করা হয়েছে।
বিবাদী পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, অভিযোগে উল্লেখিত ২৪/১০/২০২৫ বা ০১/০৩/২০২৬ তারিখের মারধর, শ্বাসরোধ করার চেষ্টা বা শ্লীলতাহানির যে ভয়ানক বর্ণনা দেওয়া হয়েছে, তা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও সাজানো। ওই দিনগুলোতে এলাকায় এই ধরণের কোনো ঘটনাই ঘটেনি। বরং মাসুমা আক্তার নিজেই বিভিন্ন সময়ে কারণে-অকারণে ঘর ভাঙার ও মামলা-হামলার হুমকি দিয়ে আসছিলেন। এই মিথ্যা অভিযোগে ৭০ বছর বয়সী বৃদ্ধা শাশুড়ি মাজেদা খাতুন এবং পরিবারের অন্যান্য প্রবীণ ও সম্মানিত সদস্যদের আসামি করে চরমভাবে হয়রানি করা হচ্ছে।
ভুক্তভোগী পরিবারটি আরও জানায়, আইনকে অপব্যবহার করে একটি নিরীহ ও প্রতিষ্ঠিত পরিবারকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতেই এই বানোয়াট অভিযোগটি থানায় জমা দেওয়া হয়েছে। তারা এই মিথ্যা ও সাজানো অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রশাসনের নিকট সঠিক সত্য উদঘাটনের জোর দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, কোনো প্রকার সঠিক তথ্যপ্রমাণ ছাড়া এই ধরণের একপেশে ও মিথ্যা অভিযোগের ভিত্তিতে আইনি হয়রানি করা হলে একটি নিরীহ পরিবার ধ্বংস হয়ে যাবে। তারা বিষয়টি শ্রীপুর মডেল থানা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন।