
মোঃ ফরহাদ, গাজীপুর প্রতিনিধিঃ গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার পৌর চন্দ্রপাড়া গ্রামে এক চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও তার পরিবারের অত্যাচার-নির্যাতনের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে এলাকাবাসী। মাদক কারবারে বাধা দেওয়ায় মসজিদের মোয়াজ্জেমের বাড়িতে হামলা এবং পরবর্তীতে বহিরাগত সন্ত্রাসী ভাড়া করে এনে গ্রামাবাসীকে হুমকির জেরে আজ (২০ মে) সকাল থেকে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে।
ঘটনার সূত্রপাত ও মসজিদে মোয়াজ্জেমের ওপর হামলা
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরে পৌর চন্দ্রপাড়া গ্রামে ফারুক ও তার ছেলে রবিনসহ পরিবারের সদস্যরা প্রকাশ্য মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছিল। সম্প্রতি এই মাদক বিক্রয়ের তীব্র প্রতিবাদ ও বাধা জানান শাহ নেওয়াজ মসজিদের মোয়াজ্জেম মোহাম্মদ ইসলাম উদ্দিন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মাদক ব্যবসায়ী ফারুক ও তার পরিবারের সদস্যরা মিলে মোয়াজ্জেমের বাড়িতে আকস্মিক হামলা ও ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। একজন ধর্মীয় শিক্ষকের ওপর এমন বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় পুরো এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
বহিরাগত সন্ত্রাসী ভাড়া ও গ্রামবাসীর প্রতিরোধ
আজ ২০ মে, ২০২৬ (বুধবার) সকাল ১০টার দিকে মাদক ব্যবসায়ী ফারুক ও তার ছেলে রবিন গফরগাঁও এলাকা থেকে একদল ভাড়াটে সন্ত্রাসী এলাকায় নিয়ে আসে। এলাকায় মাদক ব্যবসায় কেউ বাধা দিলে তাকেই দেখে নেওয়া হবে এবং হামলা করা হবে—এমন প্রকাশ্য ঘোষণা ও হুমকি দেয় তারা।
এই খবর চন্দ্রপাড়া গ্রামের সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে মুহূর্তের মধ্যে শত শত স্থানীয় জনতা একত্রিত হন। ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী মাদক ব্যবসায়ী ফারুকের বাড়ি ঘেরাও করেন। একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা বাড়ির মূল ফটক (গেট) ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে এবং ঘরের ভেতরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে।
মাদকমুক্ত গ্রামের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পর দুপুরে এলাকাবাসী মাদক ব্যবসায়ী ফারুক ও তার পরিবারের শাস্তির দাবিতে এক বিশাল মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে স্থানীয় বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন:
”আমরা যেকোনো মূল্যে আমাদের এই শান্ত চন্দ্রপাড়া গ্রাম থেকে মাদক নির্মূল করতে চাই। আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বাঁচাতে এই এলাকাকে সম্পূর্ণ মাদকমুক্ত করা জরুরি। এই ফারুক ও তার পরিবারের অত্যাচার এবং মাদক কারবারে আমরা পুরো এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছি।”
বক্তারা আরও অভিযোগ করেন যে, এর আগেও বিভিন্ন সময় মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ করায় এই ফারুক চক্র গ্রামের নিরীহ মানুষদের নামে একের পর এক সম্পূর্ণ মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করেছে। মিথ্যা মামলার ভয় দেখিয়ে এবং এলাকার প্রায় প্রতিটা মানুষের নামে মামলা দিয়ে তারা মুখ বন্ধ রাখার চেষ্টা করেছে।
বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যেকোনো ধরনের বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং এলাকা থেকে চিরতরে মাদক নির্মূল করতে দ্রুত প্রশাসনের ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী