
শ্রীপুর গাজীপুর প্রতিনিধিঃ গাজীপুরে শ্রীপুরে বরমী বরামা চৌরাস্তা এলাকায় এক গৃহবধূকে তার পৈতৃক ভিটা থেকে জোরপূর্বক উচ্ছেদ, শ্লীলতাহানি এবং শিশু সন্তানসহ নির্মমভাবে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী আমেনা খাতুন বাদী হয়ে শ্রীপুর মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বরামা চৌরাস্তা এলাকার মৃত শামছুল হকের মেয়ে আমেনা খাতুন তার পৈতৃক বাড়ির একটি ঘরে সন্তান নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে বসবাস করে আসছিলেন। কিন্তু বোনের জামাই মোঃ আব্দুল ছালাম , বড় ভাইয়ের স্ত্রী নাজমুন নাহার, বড় বোন মোছাঃ আকলিমা এবং আলিমুন নেছা দীর্ঘদিন ধরে পৈতৃক সম্পত্তিতে তার বসবাস নিয়ে শত্রুতা পোষণ করে আসছিলেন।
গত ০৫ জুন সন্ধ্যায় ৭:০০ ঘটিকার সময় আমেনা খাতুন তার পৈতৃক বাড়িতে গিয়ে দেখেন বিবাদীগণ বারান্দার গেটে তালা লাগিয়ে রেখেছেন। তিনি তার শিশু বাচ্চাকে নিয়ে প্রায় তিন ঘণ্টা বাড়ির বাইরে দাঁড়িয়ে থাকার পর, এক ভাড়াটিয়ার রুম দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে গিয়ে তিনি দেখতে পান যে তার নিজের ঘরের তালা ভেঙে বিবাদীগণ নতুন তালা লাগিয়ে দিয়েছে।
ভুক্তভোগী আমেনা বলেন “আমি ঘরের তালা খুলিয়া দিতে বলিলে তারা আমাকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। একপর্যায়ে আব্দুল ছালাম আমার কাপড় চোপড় টানিয়া হেঁচড়া করিয়া শ্লীলতাহানি ঘটায় এবং আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গলায় ওড়না পেঁচাইয়া ফাঁসি দেওয়ার চেষ্টা করে। মারধরের সময় আকলিমা তার মুখ চেপে ধরে যাতে তিনি চিৎকার করতে না পারেন। নাজমুন নাহার তার হাতে থাকা লাঠি ও বাঁশ দিয়ে গৃহবধূর শরীরের বিভিন্ন স্থানে পিটিয়ে নীলাফুলা জখম করে। এ সময় মায়ের ওপর এমন নির্মম নির্যাতন দেখে তার শিশু বাচ্চা চিৎকার শুরু করলে। আলিমুন নেছা শিশুটিকেও মারপিট করে এবং লাথি মেরে মাটিতে ফেলে দেয়।
নিরুপায় হয়ে ভুক্তভোগী জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ‘৯৯৯’-এ ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। পুলিশ গৃহবধূ ও তার শিশুকে রক্ষা করে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করলেও বিবাদীপক্ষের চরম প্রতিরোধের মুখে ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসে। ফলে ওই রাতে শিশু সন্তানকে নিয়ে খোলা আকাশের নিচে রাস্তায় কাটাতে বাধ্য হন ওই নারী।
পরদিন সকালে স্থানীয় সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ভুক্তভোগী মা ও শিশুর শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে দ্রুত শ্রীপুর উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে যান বর্তমানে তারা সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ভুক্তভোগী আমেনা খাতুনের দাবি, তার বসত ঘরে থাকা ব্যবহার্য কাপড়-চোপড় ছাড়াও স্বামীর বাড়ি থেকে পাওয়া ৭ ভরি ওজনের স্বর্ণালঙ্কার এবং মেয়ের গরু বিক্রির নগদ ২,০০,০০০/- (দুই লক্ষ) টাকা বর্তমানে বিবাদীগণের অবৈধ দখলে রয়েছে।
এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে এবং আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে। এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানিয়েছেন।