
খান মোঃ রফিকুল, ইসলাম, সিনিয়র রিপোর্টারঃ পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলা কর্তৃক ফতুল্লা থানাধীন কুতুবপুরস্থ আলীগঞ্জ রেল লাইন সংলগ্ন হাজী সাহাবুদ্দিন এর মাছের খামারের পুুকুরের পানিতে বিকাশ ব্যবসায়ী আতিকুল ইসলাম(১৯) হত্যাকান্ডের ২ বছর ছয় মাস পর ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন, হত্যাকান্ডে জড়িত ৬আসামী গ্রেফতার ও তার মধ্যে ২ আসামীর দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান।
পিবিআই প্রধান অ্যাডিশনাল আইজিপি জনাব মোঃ মোস্তফা কামাল এর তত্ত্বাবধান ও দিক-নির্দেশনায় এবং পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলার ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার জনাব মোঃ মোস্তফা কামাল রাশেদ, বিপিএম এর প্রত্যক্ষ ও সার্বিক সহযোগিতায় মামলাটি তদন্তকালে পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান এর নেতৃত্বে পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলার সুদক্ষ আভিযানিক টীম তথ্য-প্রযুক্তির বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ফতুল্লা থানাধীন কুতুবপুরস্থ আলীগঞ্জ রেল লাইন সংলগ্ন হাজী সাহাবুদ্দিন এর মাছের খামারের পুুকুরের পানিতে ডিসিস্ট আতিকুল ইসলাম(১৯) হত্যাকান্ডের মূল আসামী মো: শান্ত হোসেন (২৭), পিতা- মো: মহিবুল্লাহ, মাতা- মোছামৎ সালমা বেগম, সাং- আলীগঞ্জ, পোস্ট- কুতুবপুর- ১৪২১, থানা- ফতুল্লা, জেলা- নারায়নগঞ্জকে গত ১৩ মে ভোর ফতুল্লা থানাধীন আলীগঞ্জ বাজার এলাকা থেকে গ্রেফতার করে| উক্ত আসামীর দেওয়া তথ্য মতে ফতুল্লাসহ আশেপাশের বিভিন্ন এলাকায় গত ১৪মে রাতভর সাড়াশী অভিযান পরিচালনা করিয়া বিভিন্ন সময়ে আসামী ২| মোঃ আহাদ আলী(২৩), পিতা- মোঃ শাহিন, মাতা- নুরনাহার বেগম, কুতুবপুর আলীগঞ্জ , ওয়ার্ড-০৭, থানা- নারায়ণগঞ্জ সদর, জেলা- নারায়ণগঞ্জকে আলিগঞ্জ, ৩নং আসামী মোঃ রুবেল (৩২), পিতা- মোঃ আয়াত আলী, মাতা- মোসাঃ সুফিয়া বেগম, আলীগঞ্জ, পোস্ট -কুতুবপুর, ওয়ার্ড-০৭, থানা- নারায়ণগঞ্জ, ৪নং আসামী আশিক (২৩), পিতা- রতন মিয়া, মাতা- নাছিমা বেগম, সাং- আলীগঞ্জ, কুতুবপুর, ওয়ার্ড-০৭, থানা- নারায়ণগঞ্জ সদর, জেলা-নারায়ণগঞ্জ, ৫নং আসামী মোঃ জুম্মন(২৩), পিতা- মোঃ সালা উদ্দিন, মাতা- নিলুফা আক্তার, সাং- আলীগঞ্জ, কুতুবপুর, ওয়ার্ড-০৭, থানা- নারায়ণগঞ্জ সদর, জেলা-নারায়ণগঞ্জ এবং ৬নং আসামী মোঃ জাহিদ হাসান শুভ(২৫), পিতা- কামরুর হাসান, মাতা- শাহানা হাসান চায়না, সাং-৬৯নং আলীগঞ্জ, কুতুবপুর, ওয়ার্ড-০৭, থানা- নারায়ণগঞ্জ সদর, জেলা-নারায়ণগঞ্জদেরকে গ্রেফতার করা হয়|
সূত্রোক্ত মামলার বাদী জসিম উদ্দিন (৪২) অভিযোগে উল্লেখ করেন যে তার ভাতিজা আতিকুল ইসলাম (১৯), পিতাঃ- বশির হাওলাদার সাং-চাঁদপুরা হাওলাদার বাড়ী পোঃ নৌ বাড়িয়া থানা-ভাটি দশমিনা জেলা-পটুয়াখালী এ/পি আলী মধ্যপাড়া ইকবাল মিয়ার বাড়ীর ভাড়াটিয়া, থানা-ফতুল্লা জেলাঃ-নারায়নগঞ্জ বর্তমান ভীর ঠিকানায় ভাড়াটিয়া হিসাবে বসবাস করে ফতুল্লা থানাধীন আলীগঞ্জ সাকিনস্থ কাজী পাড়া বাজারে ফ্লেক্সিলোড ও বিকাশের দোকানদারী করতো| বাদীর ভাতিজার দোকান সংলগ্ন আলী সম্রাট (২৪) পিতাঃ মোঃ হালিম, সাং-আলীগঞ্জ মধ্যপাড়া, থানা-ফতুল্লা জেলাঃ-নারায়নগঞ্জ এর বিকাশের লিমিট শেষ হওয়ায় ইং ০৯/১১/২০২৩ তারিখ সকাল অনুমান ১০ টায় বাদীর ভাতিজার নিকট থেকে ৫০,০০০/-টাকা বিকাশে ধার নেয়, যা ঐ রাতেই ফেরত দেওয়ার কথা ছিল| বাদীর ভাতিজা দোকান বন্ধ করে ঐদিন রাতে আলী সম্রাট’কে পাওনা টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য মোবাইলে ফোন করলে সে বাদীর ভাতিজাকে আলীগঞ্জ রেললাইন এলাকায় যেতে বলে| তখন বাদীর ভাতিজা ও তার বন্ধু মাসুম হোসেন (২০), পিতা-দ্বীন ইসলাম, সাং-আলীগঞ্জ পূর্বপাড়া, থানা-ফতুল্লা, জেলাঃ-নারায়নগঞ্জ’কে সহ আলীগঞ্জ রেললাইন এলাকায় যায়| সেখানে সম্রাট’কে দেখতে না পেয়ে তার ব্যবহৃত মোবাইল নং-০১৯৯১০৭০১১১-তে ফোন দিলে আসামী সম্রাট জানায়, তুমি আলীগঞ্জ রেল লাইন বাজারে আস| তখন বাদীর ভাতিজা আতিকূল তার বন্ধু মাসুম কে নিয়ে রাত্র অনুমান ১০.৩০ ঘটিকার সময় আলীগঞ্জ রেললাইন বাজারে যায়| মাসুম বাদীর ভাতিজাকে রেখে বাজারের মধ্যে মোজা কিনতে যায়| কিছুক্ষন পর ডিসিস্ট এর বন্ধু মাসুম মোজা কিনে আসার পর উক্তস্থানে ডিসিস্ট আতিকুল ইসলামকে কোথাও দেখতে না পেয়ে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুজি শুরু করে এবং একপর্যায়ে সন্ধান না পেয়ে বিষয়টি বাদীকে জানালে বাদীসহ তার নিকট আত্মীয়-স্বজন দ্রুত আলীগঞ্জ বাজারে যান ও সেখানে গিয়ে সম্ভাব্য সকল স্থানে খোজাখুজি করেন এবং বিষয়টি ফতুল্লা থানা পুলিশকে অবহিত করতঃ খোজাখুজি অব্যাহত রাখেন| গত ১১/১১/২০২৩ তারিখ সকাল অনুমান ০৯.০০ ঘটিকার সময় পথচারী লোকজন এর মাধ্যমে সংবাদ পায় যে, ফতুল্লা থানাধীন আলীগঞ্জ রেল লাইন সংলগ্ন হাজী সাহাবুদ্দিন এর মাছের খামারের পুকুরের পানিতে ডিসিস্ট আতিকুল ইসলাম এর লাশ ভাসতেছে| বাদী উক্ত সংবাদ পেয়ে তার বড় ভাই বশির হাওলাদার, ভাবী পারুল বেগম সহ নিকটতম আত্মীয়-স্বজন নিয়ে ঘটনাস্থলে যান এবং বাদীর ভাতিজা আতিকুলের মৃতদেহ দেখে শনাক্ত করেন| বাদীর ভাতিজা আতিকুল ইসলাম (১৯) কে অজ্ঞাতনামা আসামী/আসামীরা ইং ০৯/১১/২০২৩ তারিখ রাত্র অনুমান ১০.৩০ ঘটিকা হইতে ইং ১১/১১/২০২৩ তারিখ সকাল অনুমান ০৯.০০ ঘটিকার মধ্যে যে কোন সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলায়, বুকে, পিটে এবং পেটে আঘাত করে হত্যা করতঃ লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে পুকুরের পানিতে ফেলে দেয় মর্মে এজাহার দায়ের করেন| থানা পুলিশ সূত্রোক্ত মামলাটি তদন্তকরাকালীন সময়ে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স এর নির্দেশনায় পিবিআই এর উপর মামলা তদন্তের ভার ন্যস্ত হয় এবং পিবিআই উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ গত ইং ২৯/১০/২০২৪ তারিখে পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ মাহাবুবুর রহমানকে তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করেন|
মামলাটি তদন্তকালে তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলার আভিযানিক টীম এর সহযোগিতায় আসামী মো: শান্ত হোসেন (২৭), পিতা- মো: মহিবুল্লাহ, মাতা- মোছামৎ সালমা বেগম, সাং- আলীগঞ্জ, পোস্ট- কুতুবপুর- ১৪২১, থানা- ফতুল্লা, জেলা- নারায়নগঞ্জকে গত ১৩ মে ভোর ৫.৪৫ ঘটিকার সময় ফতুল্লা থানাধীন আলীগঞ্জ বাজার এলাকা থেকে গ্রেফতার করে| গ্রেফতারকৃত আসামি পিবিআই নারায়নগঞ্জের চৌকস ও কৌশলী টীমের নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদে ডিসিস্ট আতিকুল ইসলাম (১৯) কে হত্যার কথা প্রাথমিকভাবে স্বীকার করে এবং উক্ত হত্যাকান্ডে জড়িত অন্যান্য আসামীদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ন তথ্য প্রদান করে| উক্ত আসামীকে গত ইং ১৩মে তারিখে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করলে আসামী মো: শান্ত হোসেন (২৭) নিজের দোষ স্বীকার করে ফৌ: কা: বিধির ১৬৪ ধারা মোতাবেক দোষ স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি প্রদান করে|
উল্লিখিত আসামীর প্রদত্ত জবানবন্দী এবং অন্যান্য প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে গত ইং ১৪ মে তারিখ ফতুল্লা থানা এলাকা সহ আশেপাশের বিভিন্ন জায়গায় পিবিআই নারায়ণগঞ্জ আভিযানিক টীম সাড়াশী অভিযান পরিচালনা করে আসামী ২| মোঃ আহাদ আলী(২৩), পিতা- মোঃ শাহিন, মাতা- নুরনাহার বেগম, সাং-কুতুবপুর আলীগঞ্জ , ওয়ার্ড-০৭, থানা- নারায়ণগঞ্জ সদর, জেলা- নারায়ণগঞ্জকে আলিগঞ্জ এলাকা থেকে, ৩নং আসামী মোঃ রুবেল (৩২), পিতা- মোঃ আয়াত আলী, মাতা- মোসাঃ সুফিয়া বেগম, সাং- আলীগঞ্জ, পোস্ট -কুতুবপুর, ওয়ার্ড-০৭, থানা- নারায়ণগঞ্জকে একই এলাকা থেকে, ৪নং আসামী আশিক (২৩), পিতা- রতন মিয়া, মাতা- নাছিমা বেগম, সাং- আলীগঞ্জ, কুতুবপুর, ওয়ার্ড-০৭, থানা- নারায়ণগঞ্জ সদর, জেলা-নারায়ণগঞ্জকে আলীগঞ্জ এলাকা থেকে, ৫নং আসামী মোঃ জুম্মন(২৩), পিতা- মোঃ সালা উদ্দিন, মাতা- নিলুফা আক্তার, সাং- আলীগঞ্জ, কুতুবপুর, ওয়ার্ড-০৭, থানা- নারায়ণগঞ্জ সদর, জেলা-নারায়ণগঞ্জকে আলীগঞ্জ এলাকা থেকে এবং ৬নং আসামী মোঃ জাহিদ হাসান শুভ(২৫), পিতা- কামরুর হাসান, মাতা- শাহানা হাসান চায়না, সাং-৬৯নং আলীগঞ্জ, কুতুবপুর, ওয়ার্ড-০৭, থানা- নারায়ণগঞ্জ সদর, জেলা-নারায়ণগঞ্জকে আলীগঞ্জ এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়| গ্রেফতারকৃত ২নং, ৩নং, ৪নং, ৫নং ও ৬নং আসামীগণকে গত ইং ১৪ মে তারিখ বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করলে বিজ্ঞ আদালত তাদের ৩ দিনের পুলিশ রিমান্ড মঞ্জুর করেন| পুলিশ রিমান্ডে এনে ২নং, ৩নং, ৪নং, ৫নং ও ৬নং আসামীগণকে পিবিআই নারায়ণগঞ্জ টীম নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করলে উক্ত আসামীগণ বিকাশ ব্যবসায়ী আতিকুল ইসলাম(১৯) হত্যাকান্ডের ঘটনার সাথে জড়িত থাকার বিষয়টি প্রাথমিকভাবে স্বীকার করে এবং উক্ত হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করে। পুলিশ রিমান্ড শেষে অদ্য ১৭মে তারিখ ২নং, ৩নং, ৪নং, ৫নং ও ৬নং আসামীগণকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করলে আসামী মোঃ আহাদ আলী(২৩) স্বেচ্ছায় নিজেদের দোষ স্বীকার করে ফৌ: কা: বিধির ১৬৪ ধারা মোতাবেক দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে| তদন্তকালে জানা যায় যে, বিকাশ ব্যবসায়ী ডিসিস্ট আতিকুল ইসলাম এর পার্শ্ববর্তী জায়গায় আসামী আলী সম্রাটও বিকাশের ব্যবসা করতো। আলী সম্রাট গত ইং ০৯/১১/২০২৩ তারিখ সকাল ১০ টায়ডিসিস্ট আতিকুল ইসলাম(১৯) এর নিকট থেকে ৫০,০০০/-টাকা বিকাশে ধার নেয় এবং উক্ত টাকা একই দিন পরিশোধ করে দেওয়ার কথা ছিল| ডিসিস্ট আতিকুল ইসলাম রাত অনুমান ১০:০০ ঘটিকায় পাওনা টাকার জন্য আসামী সম্রাটের মোবাইল ফোনে ফোন দিলে আলী সম্রাট পুর্ব পরিকল্পনামাফিক ডিসিস্ট আতিকুল ইসলামকে টাকা আনার জন্য আলীগঞ্জ রেললাইন এলাকায় যেতে বলে| ডিসিস্ট আতিকুল ইসলাম আলী সম্রাটের কথা মতো আলীগঞ্জ রেললাইন গেলে আলী সম্রাট ৫০,০০০/- (পঞ্চাশ হাজার) টাকা প্রথমে ডিসিস্ট আতিকুলকে ফেরত দেয়।কিন্ত আলী সম্রাট এর পুর্ব পরিকল্পনামাফিক অত্র মামলায় গ্রেফতারকৃত ১নং,২নং,৩নং ,৪নং, ৫নং ও ৬নং আসামীসহ অন্যান্য আসামীরা ডিসিস্ট আতিকুল ইসলাম এর নিকট থেকে আলী সম্রাট এর দেয়া ৫০০০০/= টাকাসহ ডিসিস্ট এর নিকট থাকা আরো টাকা জোর করে ছিনিয়ে নেয় এবং একপর্যায়ে আসামিগন তাদের হাতে থাকা ধারালো অস্ত্র দ্বারা ডিসিস্ট আতিকুল এর পেটে, বুকে, ঘাড়ে আঘাত করে হত্যা করে লাশ গুম করার জন্য ফতুল্লা থানাধীন আলীগঞ্জ রেল লাইন সংলগ্ন হাজী সাহাবুদ্দিন এর মাছের খামারের পুকুরের পানিতে ফেলে দেয়|
অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান এবং তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত আছে|