
জিএম মাকছুদুর রহমান: কুমিল্লার দেবিদ্বারে চুরির অপবাদ দিয়ে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে শুক্কুর আলী (২৫) ও দেলোয়ার হোসেন (৩০) নামে দুই আওয়ামীলীগ কর্মীর বিরুদ্ধে। জানা যায়, মো. ফারুক (২২) নামে এক ব্যক্তি গত ১৭ মে উপজেলার শিবনগর গ্রামের ওয়াহিদ মোল্লার বাড়িতে একদিনের জন্য দিন মজুরের কাজ করতে যায়, পরদিন ওয়াহিদ মোল্লার ঘর থেকে কিছু টাকা চুরি হলে ওই এলাকার আওয়ামীলীগ কর্মী শুক্কুর আলী ও দেলোয়ার হোসেন দিনমজুর মো. ফারুককে সন্দেহ করেন। অথচ ফারুকের বাবা মো. নুরুল ইসলাম (৪৮) ওয়াহিদ মোল্লার নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি কাউকে চুরি করতে দেখিনি, তাই তোমার ছেলে ফারুককে আমি দায়ী করতে পারি না। শুক্কুর আলী এবং দেলোয়ার হোসেন তোমার ছেলেকে সন্দেহ করে চাপ প্রয়োগ করলে আমি নিরীহ মানুষ হিসেবে কি করবো বুঝতে পারছি না। ফারুককে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে শুক্কুর আলী ও দেলোয়ার হোসেন মিলে গাছের সঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে প্রচন্ড মারধর করে দেবিদ্বার থানায় সোপর্দ করে। ফারুকের বাবা মো. নুরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, টাকা চুরি হয়েছে ওয়াহিদ মোল্লার ঘরে, ওয়াহিদ মোল্লা আমার ছেলেকে সন্দেহ করেনি এবং কিছু বলেনি, অথচ স্থানীয় আওয়ামীলীগ কর্মী শুক্কুর আলী ও দেলোয়ার হোসেন আমার ছেলেকে গাছের সঙ্গে বেঁধে প্রচন্ড রকম মারধর করে থানায় সোপর্দ করে। পরে আমি খবর পেয়ে থানায় গেলে শুক্কুর আলী ও দেলোয়ার হোসেন আমার নিকট ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে, মুক্তিপণ না দিলে মিথ্যা মামলার হুমকি দেয়। আমি মুক্তিপণ দিতে রাজি না হওয়ায় ওরা ওয়াহিদ মোল্লাকে বাদী বানাতে না পেরে উপজেলার গুনাইঘর গ্রামের একটি গ্যারেজ থেকে অটোরিকশার ব্যাটারী চুরির ঘটনার মামলায় গং এর স্থলে ১নং আসামী হিসেবে আমার ছেলে ফারুকের নাম বসিয়ে দিয়ে কোর্টে চালান করে দেয়। যাহার মামলা নম্বর দেবিদ্বার থানা ২০, তারিখ: ২৫/০৫/২০২৫ইং। ধারা: ৩৭৯/৩৪। উল্লেখ থাকে যে, ফারুককে যে মামলার আসামী করা হয়েছে সে মামলার বাদী মো. সোহেল মিয়া (৩৫) ও স্বাক্ষীগণ কেউ তাকে চিনে না। আমি এই মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার সহ দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ বিচারের দাবি জানাই। ফারুকের পরিবার সহ এলাকাবাসীর অভিযোগ মামলাটি উদ্দেশ্যমূলক, ভিত্তিহীন এবং হয়রানিমূলক। ভিকটিম ফারুক বলেন, আমি একজন দিনমজুর ও খেটে খাওয়া মানুষ, হঠাৎ করে আমার নামে চুরির মামলা দিয়ে আমাকে সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা চলছে। আমি এই মিথ্যা মামলার সুষ্ঠু তদন্ত এবং ন্যায়বিচার চাই। ফারুকের পক্ষে এলাকার কয়েকজন মুরুব্বি ও প্রতিবেশী স্বাক্ষ্য দিয়ে বলেন, তিনি একজন সৎ ও পরিশ্রমী ব্যক্তি। তার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ অবিশ্বাস্য এবং তা হয়রানিমূলক বলে মনে করেন তারা। উপজেলার শিবনগর গ্রামের সাবেক ইউপি মেম্বার মো. কনু মিয়া জানান, ফারুক একজন খেটে খাওয়া সহজ-সরল প্রকৃতির লোক, তাকে শুক্কুর আলী ও দেলোয়ার হোসেন মারধর করে মিথ্যা মামলায় জড়ানো ঠিক হয়নি। শুক্কুর আলী ও দেলোয়ার হোসেন আওয়ামীলীগ কর্মী, ওরা আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় থাকাকালীন এলাকার নিরীহ মানুষকে যেমনিভাবে টর্চার ও হয়রানি করতো এখনও তাই করছে। এ ঘটনা স্থানীয়ভাবে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, ব্যক্তিগত বিরোধ বা প্রতিহিংসার জের ধরেই ফারুকের বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্ত আওয়ামীলীগ কর্মী শুক্কুর আলী ও দেলোয়ার হোসেন উপজেলার কানিবিল গ্রামের বাসিন্দা এবং ভিকটিম মো. ফারুকও একই গ্রামের বাসিন্দা বলে জানা গেছে। প্রশাসনের প্রতি স্থানীয়দের আহ্বান, যেনো দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন করে নির্দোষ ব্যক্তিকে হয়রানি থেকে রক্ষা করা হয় এবং যারা ফারুককে মিথ্যা মামলায় জড়িয়েছে এবং মুক্তিপণ দাবি করেছে তাদেরকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হয়।