
নজরুল ইসলাম, যশোর প্রতিনিধি: যশোরে পারিবারিক কলহের জেরে স্বামীর ছুরিকাঘাতে গৃহবধূ ছামিনা আক্তার নিহত হওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী সুজনের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী। মঙ্গলবার বিকেলে যশোর প্রেসক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার বহন করেন। প্ল্যাকার্ডে “খুনি সুজনের ফাঁসি চাই”ছামিনা হত্যার বিচার চাই”নারী হত্যার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই”সহ বিভিন্ন স্লোগান লেখা ছিল। এ সময় উপস্থিত জনতা সুজনের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে স্লোগান দেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন নিহত ছামিনা আক্তারের বাবা-মা। তারা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, তাদের মেয়েকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। তারা এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযুক্ত সুজনের ফাঁসির দাবি জানান। একই সঙ্গে দ্রুত বিচার আইনের আওতায় মামলার নিষ্পত্তি করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।এ সময় স্থানীয় এলাকাবাসীও বক্তব্য দেন। তারা বলেন, একজন নারীকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তারা ছামিনা হত্যার সুষ্ঠু বিচার এবং সুজনের ফাঁসির দাবি জানান।
উল্লেখ্য, সোমবার ভোরে যশোর শহরের শেখহাটি তামালতলা এলাকার একটি ভাড়া বাসায় নেশার টাকার বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে ছামিনা আক্তারকে ধারালো ছুরি দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন তার স্বামী সুজন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।ঘটনার পর সুজন নিজ শরীরেও ছুরি দিয়ে আঘাত করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। পরে তাকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নিহত ছামিনা আক্তার যশোর সদর উপজেলার নওয়াপাড়া ইউনিয়নের তরফ নওয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তবে তিনি ও তার স্বামী সুজন যশোর শহরের শেখহাটি তামালতলা এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তারা সম্পর্কে মামাতো ভাই-বোন ছিলেন এবং প্রায় ছয় মাস আগে ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন।