
নিজস্ব প্রতিবেদক,মোঃ সাব্বির হোসেন: তেরখাদা উপজেলার ৪নং সাছিয়াদাহ ইউনিয়ন বিএনপি’র সম্মেলন প্রস্তুত কমিটিতে নেতৃত্ব দিচ্ছে আওয়ামী লীগ নেতা সাবেক চেয়ারম্যান নৌকার প্রার্থী এ্যাড: এবিএম আলমগীর শিকদার।
গত ২৫/১২ ২০২৫ উপজেলা বিএনপির আহবায়ক কাওসার আলী স্বাক্ষরিত এক পত্রে এই কমিটি গঠন করা হয়। সেটা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ত্যাগী স্থানীয় বিএনপি সমর্থকরা।
জানা যায় সাচিয়াদাহ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য ছিলেন এ বি এম আলমগীর শিকদার।
২০১৬ সালে ছাসিয়াদাহ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেন এই আলমগীর সিকদার।
পুনরায় ২০২১ সালে দলের মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন।
সম্প্রতি তেরখাদা উপজেলা বিএনপির সম্মেলন প্রস্তুত কমিটি গঠন করা হয়েছে। গত ২৪ এপ্রিল গঠিত ওই কমিটিতে ৫ নম্বর সদস্যের পদ পেয়েছেন আলমগীর শিকদার। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করলে, চৌধুরী কাওসার আলী বলেন ভুল ক্রমে তার নাম কমিটিতে চলে গেছে তাকে বাদ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে পরের দিন অর্থাৎ ২৫ এপ্রিল তাকে সেই কমিটি থেকে বহিষ্কার করা হয়।
পুনরায় গত ২৫-১২-২০২৫ তেরখাদা থানা বিএনপির আহ্বায়ক চৌধুরী কাউসার আলীর স্বাক্ষরিত এক পত্রে ইউনিয়ন বিএনপির প্রস্তুত কমিটিতে আবারো যুক্ত করা হয়, কেনো বা কি কারনে তার নাম আবারও কমিটিতে রাখা হয়েছে সেটা এখনো অজানা।
স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা জানান, ২০২৬ সালে পরবর্তী ইউপি নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গতবছর থেকেই স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন শুরু করেন। ৫ আগস্টের পর থেকে তিনি পুরোপুরি বিএনপিতে ভিড়ে যান।
ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক আবুল বাশার এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কমিটিতে তার নাম কে দিয়েছে এবিষয়ে আমি কিছু জানিনা, আমার কাছে তার বিষয় জিজ্ঞাসা করেনি।
সাচিয়াদহ ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক খান গিয়াস উদ্দিন বলেন, ‘আলমগীর শিকদার আগে কখনো বিএনপির সঙ্গে ছিল না। ৫ আগস্টের পর অনেকের সঙ্গে সেও নতুন বিএনপি হয়েছে।
ওই একই ইউনিয়নের বাসিন্দা সাবেক জেলা বিএনপির সদস্য আলী ইমরাজ জুয়েল বলেন, গত ১৭ বছর আওয়ামী লীগের সব সুযোগ-সুবিধা নিয়েছেন আলমগীর শিকদার। বিএনপির যারা নির্যাতিত হয়েছেন, অনেকেই কমিটিতে পদ পায়নি। এর চেয়ে কষ্টের কিছু হতে পারে না।
এ ব্যাপারে এ বি এম আলমগীর শিকদার বলেন, আমি আওয়ামী লীগের কোনো পদে ছিলাম না। একটা সিস্টেম করে নৌকা প্রতীক পাই। কিন্তু আমাকে জোর হারিয়ে হারিয়ে দেওয়া হয়। তারপর থেকে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে আছি। কিন্তু প্রকাশ্যে কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারিনাই। ৫ আগস্ট এর পর আমি প্রকাশ্যে বিএনপি’র সব অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছি ,এজন্য হয়তো আমাকে কমিটিতে রেখেছে।