
মোঃ ফারুক হোসাইন জনি, কুমিল্লা (উত্তর) জেলা প্রতিনিধিঃ ২৫২, কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর ঋণখেলাপি সংক্রান্ত বিষয়ে জারি করা রুল দুই সপ্তাহের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি ফারাহ মাহবুব এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে ঋণখেলাপির তালিকা থেকে তাঁর নাম বাদ দেওয়ার বিষয়ে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত রেখে চেম্বার আদালতের পূর্ববর্তী আদেশ বহাল রাখা হয়েছে।
ওই রায়কে কেন্দ্র করে কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের বিএনপি প্রার্থীর মনোনয়ন ‘বৈধ- অবৈধ’ নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম তোলপাড় চলছে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর বিরুদ্ধে ঋণখেলাপি সংক্রান্ত আপিল বিভাগের আগের আদেশও বহাল রয়েছে এবং বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শুনানি শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে প্রিমিয়ার ব্যাংকের পক্ষে আইনজীবী ব্যারিস্টার বিভূতি তরফদার আদালতকে জানান, মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী ঋণ পুনঃতফসিল করায় বর্তমানে তিনি ঋণখেলাপি হিসেবে বিবেচিত হওয়ার সুযোগ নেই।
উল্লেখ্য, গত ৮ জানুয়ারি ঋণখেলাপির তালিকা থেকে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর নাম বাদ দেওয়ার বিষয়ে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ স্থগিত করেছিলেন চেম্বার আদালত। পরবর্তীতে ওই আদেশ প্রত্যাহারের আবেদন করেন তিনি। শুনানিতে প্রিমিয়ার ব্যাংকের পক্ষে ব্যারিস্টার বিভূতি তরফদার এবং তাঁর পক্ষে আইনজীবী সাইফুল্লাহ মামুন উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনে দায়ের করা ৫৭০/২০২৬ স্মারকের ৩৪ নম্বর আপিলে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের প্রার্থী মো. আবুল হাসনাত (হাসনাত আব্দুল্লাহ) মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীকে ঋণখেলাপি হিসেবে গ্রহণ করার আবেদন করেছেন। এ আপিলের শুনানি আগামী ১৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে প্রিমিয়ার ব্যাংক ও আইডিএলসি ফাইন্যান্স পৃথকভাবে লিভ টু আপিল দায়ের করে। এসব আবেদনের শুনানি শেষে আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক আদেশ প্রদান করেন। সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা জানান, হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ কার্যকর না থাকায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআইবি প্রতিবেদনে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর নাম নিয়ে নতুন জটিলতা তৈরি হয়েছে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ‘মাম পাওয়ার লিমিটেড’-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর বিরুদ্ধে ঋণসংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে। ঋণের প্রেক্ষিতে তাঁকে ঋণখেলাপি ঘোষণা করে সিআইবিতে নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তিনি ঢাকার পঞ্চম যুগ্ম জেলা জজ আদালতে মামলা দায়ের করলেও গত ৫ নভেম্বর আবেদনটি খারিজ হয়। পরে হাইকোর্টে আপিল করলে গত ৮ ডিসেম্বর তাঁর নাম ঋণখেলাপির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ও প্রকাশ না করার নির্দেশ দেন আদালত।
চলমান এই আইনি প্রক্রিয়া ঘিরে জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২৫২, কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একদিকে এনসিপি নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ, অন্যদিকে বিএনপির চারবারের সাবেক সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় নেতা ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী—দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নজর এখন পুরো দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের।