
হাজী মু ফারুক হোসাইন জনি, কুমিল্লা (উত্তর) জেলা প্রতিনিধি: কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলা সদরে বারেরা চানগাজী বাড়ি চত্বরের (দেবিদ্বার-চান্দিনা) আঞ্চলিক সরকের পাশে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত জলাবদ্ধতা দূরীকরণ এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা সচল রাখতে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও খাল-ড্রেন খনন কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। বর্ষা ও অতিবৃষ্টিতে সৃষ্ট জনভোগান্তি লাঘবে প্রশাসনের নেওয়া এই ক্র্যাশ প্রোগ্রাম সর্বস্তরের মানুষের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ড্রেন পরিষ্কার ও ঐতিহ্যবাহী খালগুলোর নাব্য ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে মাটি খনন কাজের আনুষ্ঠানিক তদারকি করা হয়। পরিচ্ছন্নতা ও খনন কাজ চলাকালীন সরজমিনে উপস্থিত থেকে পুরো কার্যক্রম পরিচালনা ও দিকনির্দেশনা দেন দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অশোক বিক্রম চাকমা এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. ফয়সল উদ্দিন।
অভিযান চলাকালে স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত হয়ে প্রশাসনের এই জনকল্যাণমুখী উদ্যোগের প্রতি সংহতি ও একাত্মতা প্রকাশ করেন। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের পৌরসভা সভাপতি মোঃ তমিজ উদ্দিন এবং এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ নাহিদ হাসান।
প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দেবিদ্বারের প্রধান প্রধান ড্রেনগুলো দীর্ঘদিন ধরে ময়লা-আবর্জনা ও পলি জমে ভরাট হয়ে থাকায় এবং বেশ কিছু খালের স্বাভাবিক গতিপথ অবৈধ দখলের কারণে বন্ধ হয়ে পড়েছিল। এর ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই পৌর এলাকাসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ ফসলি জমি, কাঁচাবাজার ও রাস্তাঘাটে কৃত্রিম জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হতো। এই সমস্যা নিরসনে আধুনিক স্কেভেটর (ভেকু) ও পরিচ্ছন্নতা কর্মী এবং তুমি কল্যাণ ফেডারেশনের পৌর শাখার স্বেচ্ছাসেবীদের সহায়তায় ড্রেনের একাংশের আবর্জনা পরিষ্কারের পাশাপাশি পানি প্রবাহ নিশ্চিত করতে খাল খনন কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
তদারকি ও পরিদর্শনকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অশোক বিক্রম চাকমা বলেন, “দেবিদ্বারকে জলাবদ্ধতা মুক্ত একটি আদর্শ, সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে আমাদের এই খনন ও পরিষ্কার অভিযান অব্যাহত থাকবে। পানি নিষ্কাশনের পথে কেউ কৃত্রিম বাধা সৃষ্টি করলে কিংবা খালে বর্জ্য ফেললে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. ফয়সল উদ্দিন খালের জমি অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে মুক্ত রাখার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “সরকারি খাল বা ড্রেন দখল করে পানি চলাচলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। জলাবদ্ধতার টেকসই সমাধানের জন্য আমাদের এই উচ্ছেদ ও খনন প্রক্রিয়া চলমান থাকবে।”
পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেওয়া শ্রমিক ও স্থানীয় নাগরিকদের উৎসাহিত করে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের পৌরসভা সভাপতি মোঃ তমিজ উদ্দিন এবং এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ নাহিদ হাসান প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানান। তারা বলেন, সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে দল-মত নির্বিশেষে এই পরিচ্ছন্নতা অভিযান সফল করতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে এবং খালের নাব্য ধরে রাখতে নিয়মিত তদারকি বজায় রাখতে হবে।