
নজরুল ইসলাম যশোর প্রতিনিধি: যশোরে জেল রোডে অবস্থিত উত্তরা প্রাইভেট হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের পর উর্মি খাতুন নামে এক প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অপচিকিৎসার অভিযোগ তুলছেন স্বজনেরা। তাদের দাবি, অপারেশনের পর রোগীর জ্ঞান ফেরেনি এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার অবস্থার অবনতি হয়। পরে তাকে খুলনায় রেফার করা হলে সেখানে নেওয়ার পর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হন স্বজনেরা।
নিহত উর্মি খাতুন বাঘারপাড়া উপজেলার নারকেলবাড়িয়া ইউনিয়নের উত্তর শ্রীরামপুর গ্রামের আব্দুল আলিমের স্ত্রী।
সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকালে সিজারিয়ান অপারেশনের জন্য উর্মি খাতুনকে যশোর শহরের জেল রোডে অবস্থিত উত্তরা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভর্তির প্রায় ৩০ মিনিট পর চিকিৎসক ফারহা দিবা তার সিজারিয়ান অপারেশন করেন। এ সময় তিনি একটি মেয়ে সন্তানের জন্ম দেন। তবে অপারেশনের পর থেকে তার আর জ্ঞান ফেরেনি বলে দাবি স্বজনদের। একপর্যায়ে তার ক্ষতস্থান থেকে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হয়। পরে সন্ধ্যায় হাসপাতাল তাকে খুলনায় রেফার করে।
মৃতের স্বজনদের অভিযোগ, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পৌঁছানোর পর তারা জানতে পারেন, এর আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা আগেই রোগীর মৃত্যু হয়েছে। তাদের দাবি, রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ার পরও যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। এ ছাড়া উত্তরা হাসপাতালেই তার মৃত্যু হয়ে থাকলে কেন খুলনায় রেফার করা হলো, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।মৃতের ভাসুর তুহিন হোসেন অভিযোগ করে বলেন, হাসপাতালে ভর্তির সময় তার ভাবি সুস্থ ছিলেন। কিন্তু সিজারিয়ান অপারেশনের পর থেকেই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। তাদের মতে, চিকিৎসায় অবহেলার কারণে এ মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় মামলা করার কথাও জানান তিনি।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চিকিৎসক ফারহা দিবাকে ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।