
নারায়ণগঞ্জের ভূঁইগড়ের রূপায়ণ টাউনে হামলা, চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও ফ্ল্যাটে প্রবেশে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন বাসিন্দা রাজিয়া সুলতানা। এসব ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত, দোষীদের গ্রেপ্তার এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ঢাকায় বাংলাদেশ শিশু কল্যাণ পরিষদের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।
লিখিত বক্তব্যে রাজিয়া সুলতানা জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে রূপায়ণ টাউনে বসবাস করছেন। তাঁর দাবি, তিনি ও তাঁর পরিবার কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনেও তাঁরা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অংশ নিয়েছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা বিপ্লব মিয়াসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ করেন। তাঁর দাবি, রূপায়ণ টাউনে ফ্ল্যাট মালিকদের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধের জেরে চাঁদা দাবি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে।
রাজিয়া সুলতানার লিখিত বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৮ এপ্রিল রূপায়ণ টাউনের একটি মসজিদে সৃষ্ট সংঘর্ষে রাজ নামের এক যুবক হাতুড়ির আঘাতে গুরুতর আহত হন। ওই ঘটনার পেছনে চাঁদা দাবির বিরোধ ছিল বলে তিনি দাবি করেন। এ ছাড়া কয়েকজনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে চাঁদা দাবি এবং আবাসিক এলাকার একটি স্কুল ভবনের দ্বিতীয় পর্যায়ে মাদক ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগও তোলেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আন্তর্জাতিক বক্সার জিসানের অভিযোগের প্রসঙ্গ তুলে রাজিয়া সুলতানা আরও দাবি করেন, সাদ্দাম হোসেন অনিক, তাঁর স্ত্রী মায়েদা হাসান মৌনতা এবং তাঁদের পরিবারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে খেলোয়াড়দের বিদেশে পাঠানোর আড়ালে মানব পাচারের অভিযোগ রয়েছে।
৫ অক্টোবরের হামলায় রাজিয়া সুলতানার অভিযোগ, গত ৫ অক্টোবর ২০২৬ রূপায়ণ টাউনের ফ্ল্যাট মালিকদের সঙ্গে আলোচনা চলাকালে বিপ্লব মিয়া, সারোয়ার, শাহীন ও হাজী মাজেদুল হকের গাড়িচালক বাবুসহ ৮-১০ জন তাঁদের ওপর হামলা চালান। এ সময় তাঁর স্বামীসহ পরিবারের সদস্যরাও হামলার শিকার হন বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি জানান, তাৎক্ষণিকভাবে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। তাঁর অভিযোগ, পুলিশের উপস্থিতিতেও তাঁদের ওপর নির্যাতন করা হয়। পরে তাঁদের উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়।
থানায় মামলা করতে গেলে প্রথমে মামলা গ্রহণে গড়িমসি করা হয় এবং চার দিন পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে মামলা নেওয়া হয় বলে তিনি দাবি করেন।
তাঁর আরও অভিযোগ, মামলা থেকে চাঁদাবাজির বিষয়টি বাদ দেওয়ার জন্য ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অনুরোধ করেছিলেন। তবে এ বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের পরও এখন পর্যন্ত কোনো আসামি গ্রেপ্তার হননি বলে দাবি করেন তিনি।
পরিবারের নিরাপত্তাহীনতায় রাজিয়া সুলতানার দাবি, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাঁদের বাসার আশপাশে অবস্থান করছেন এবং তাঁদের ফ্ল্যাটে প্রবেশ করতে বাধা দিচ্ছেন। ফলে ৫ অক্টোবর থেকে তাঁরা বাড়ির বাইরে অবস্থান করছেন এবং নিয়মিত ভয়ভীতির মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান।
তিনি অভিযোগ করেন, রূপায়ণ টাউনে সংঘটিত এসব ঘটনার পেছনে কয়েকজনের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতা রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে আরো অভিযোগ তুলে বলেন, নিরপেক্ষ তদন্ত ও নিরাপত্তার দাবিতে সংবাদ সম্মেলনে রাজিয়া সুলতানা তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ফ্ল্যাটে নির্বিঘ্নে প্রবেশের ব্যবস্থা করা, দায়ের করা মামলার সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযোগের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা এবং রূপায়ণ টাউনের বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
তিনি আরও বলেন, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যেন আবাসিক এলাকায় প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ বাসিন্দাদের হয়রানি করতে না পারে, সে বিষয়ে প্রশাসনকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।