রাকিবুল হাসান শ্যামনগর প্রতিনিধিঃ সাতক্ষীরা রেঞ্জ কর্মকর্তা এবং বনবিভাগের সহকারী রেঞ্জ কর্মকর্তা ফজলুল হকের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের দুর্নীতি, ঘুষবাণিজ্য, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং কাঠ-পাচার সিন্ডিকেটকে সহায়তার অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমে এসব অভিযোগ প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি আড়াল করতে তিনি দ্রুত নাটকীয়ভাবে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে (১ ডিসেম্বর) শ্যামনগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
এই জিডিতে সুন্দরবন প্রেস ক্লাবের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের নামও যুক্ত করা হয়েছে। যেটা সাংবাদিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। সাংবাদিকদের অভিযোগ সত্য সংবাদ লেখার অপরাধেই তাদের হয়রানি করতে এই জিডির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে।
তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২৩ সালে কদমতলা স্টেশনে দায়িত্ব পালনকালে ফজলুল হকের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতি, অবৈধ লেনদেন, বিশেষ করে কাঠ ও বন্যপ্রাণী জব্দ বাণিজ্যে ঘুষ গ্রহণের মতো গুরুতর অভিযোগ একাধিক সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরে দাখিল করা হয়। অভিযোগকারী মুন্সিগঞ্জ হরিনগর দক্ষিণ কদম তলা গ্রামের মো: ফজলুল জানান, এসব তথ্যের বেশিরভাগই প্রমাণসহ জমা দেওয়া হয়
কিন্তু এসব অনিয়মের প্রাথমিক সত্যতা উঠে আসার পরেই তিনি সাংবাদিকদের ভয় দেখানোর চেষ্টা শুরু করেন। অভিযোগ রয়েছে মূল দুর্নীতির খবর চাপা দিতে তিনি সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ঘটনাবিবরণ দিয়ে জিডি করেন, যাতে সত্য প্রকাশকারীদের প্রতি ভয় সৃষ্টি ও দুর্নীতির তথ্য যাচাই কাজ ব্যাহত হয়।স্থানীয় সচেতন মহল জানান, একজন সরকারি দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার এমন পদক্ষেপ সরাসরি গণমাধ্যমকে দমন করার নোংরা কৌশল। সাংবাদিকদের নীরব করতেই যেন এই জিডি করা হয়েছে।
সুন্দরবন প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বলেন, আমরা কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত বিদ্বেষে সংবাদ করি না। নথিভুক্ত অভিযোগ এবং প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতেই রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়। আমাদের নামে জিডি করে সত্যকে দমন করা যাবে না।
এ ঘটনায় সাংবাদিক সমাজ একত্রিত হয়ে দাবি করেছ।জিডির পেছনের উদ্দেশ্য তদন্ত করতে হবে এবং সরকারি কর্মকর্তার অপব্যবহার বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
দুর্নীতির অভিযোগ ঢাকতেই কি সাংবাদিকদের নামে জিডি নাকি সত্য প্রকাশ থামানোর একটি পরিকল্পিত অপচেষ্টা।