গাজীপুর প্রতিনিধিঃ গাজীপুরের শ্রীপুর পৌর যুবদলের সদস্য সচিব এবং গাজীপুর জেলা যুবদলের সদস্য মো. আবু তাহের প্রধানের বিরুদ্ধে অন্যের স্ত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক ও সংসার ভাঙার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। তবে এই অভিযোগগুলোকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন অভিযুক্ত যুবদল নেতা। তাঁর দাবি, আসন্ন রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ধ্বংস এবং তাঁকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করতেই একটি কুচক্রীমহল পরিকল্পিতভাবে এই পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
এর আগে গত ২০ অক্টোবর মো. আলমগীর হোসেন নামের এক ব্যক্তি গাজীপুর জেলা যুবদলের আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের বরাবর পুলিশ সুপার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করেন। ওই অভিযোগে দাবি করা হয় যে, আবু তাহের প্রধান তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে অনৈতিক ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন। এর জেরে তাঁদের দাম্পত্য জীবনে অশান্তি সৃষ্টি হচ্ছে, সংসার ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা চলছে এবং তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
তবে শুরু থেকেই এসব অভিযোগ দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে অস্বীকার করেছেন আবু তাহের প্রধান। তাঁর দাবি, অভিযোগকারী পক্ষের সঙ্গে মিলে পুরো ঘটনাটি একটি সাজানো নাটক। তাঁকে ফাঁসিয়ে সুবিধা নেওয়ার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন ভুয়া অভিযোগ তোলার পাশাপাশি তাঁর কাছে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়েছিল।
আবু তাহের প্রধান আরও জানান, টাকা দাবির ওই ঘটনার একটি অডিও রেকর্ড তাঁর কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। প্রয়োজনে প্রশাসন ও দলীয় হাইকমান্ডের কাছে ওই অডিও রেকর্ডসহ সব তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করবেন তিনি।
এ বিষয়ে মো. আবু তাহের প্রধান গণমাধ্যমকে বলেন, "আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর সঙ্গে বাস্তবতার দূরতম কোনো সম্পর্ক নেই। আমার রাজনৈতিক পরিচয় ও সাংগঠনিক অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করতেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এসব মিথ্যা অভিযোগ সামনে আনা হয়েছে। একটি সাজানো ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমাকে সামাজিকভাবে হেয় করার অপচেষ্টা চলছে।"
তিনি আরও বলেন, "কারও ব্যক্তিগত সংসার বা পারিবারিক বিষয়ে হস্তক্ষেপ কিংবা কাউকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। উল্টো আমাকে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে অর্থ দাবি করা হয়েছিল। নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত হলেই প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে।"
তদন্ত ছাড়া কোনো ধরনের হঠকারী সিদ্ধান্ত না নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে আবু তাহের প্রধান সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও দলীয় নেতৃত্বের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, অভিযোগের একপাক্ষিক সত্যতা যাচাই না করে তাঁর কাছে থাকা অডিও রেকর্ডসহ সব প্রমাণ খতিয়ে দেখা হোক। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করে দোষীদের আসল রূপ সামনে নিয়ে আসার জোর দাবি জানান এই যুবদল নেতা।