শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি: গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার প্রহল্যাদপুর ইউনিয়নের চরদমদমা গ্রামে এতিম ও শারীরিক প্রতিবন্ধী সন্তানদের পরিবারের জমি বিক্রি হয়েছে—এমন দাবি তুলে টাকা চাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে ওই জমি দখলের চেষ্টা ও টাকা পরিশোধের জন্য চাপ প্রয়োগের অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার। এ ঘটনায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছে পরিবারটি।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, চরদমদমা গ্রামের মৃত জয়নাল আবেদীন মোল্লার ছেলে আবু সাঈদ মোল্লা গত ২৭ নভেম্বর ২০২৫ মারা যান। মৃত্যুকালে তিনি অসুস্থ স্ত্রী ও দুই শারীরিক প্রতিবন্ধী সন্তান রেখে যান। তাঁর মৃত্যুর পর পরিবারের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে একটি পক্ষ জমি বিক্রির দাবি তুলে পরিবারের কাছে টাকা দাবি করছে বলে অভিযোগ স্বজনদের।
পরিবারের দাবি, জমি বিক্রি হয়ে থাকলে তার পক্ষে বৈধ ও যাচাইযোগ্য দলিলের মূল কপি বা সত্যায়িত অনুলিপি তাদের দেখানো হয়নি। অথচ জমি বিক্রির দাবি তুলে টাকা পরিশোধের জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি মীমাংসার জন্য প্রহল্যাদপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. জাকির হোসেনসহ স্থানীয় কয়েকজনকে নিয়ে সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সালিশ বৈঠকেও জমি বিক্রির দাবির পক্ষে থাকা কাগজপত্র যথাযথভাবে যাচাই না করেই তাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এ সময় জাকির হোসেন, মারফত, রতন ও আব্দুস সাত্তার মোল্লাসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে চাপ প্রয়োগের অভিযোগ করেন তারা। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের অনুলিপি না দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
মরহুম আবু সাঈদ মোল্লার ভাই মো. ইসমাঈল মোল্লা বলেন, “আমার ভাইয়ের কোনো জমি বিক্রি হয়ে থাকলে আমরা বৈধ দলিল ও নথিপত্র দেখে তা যাচাই করতে চাই। কিন্তু জমি বিক্রির দাবি তুলে টাকা চাওয়া হচ্ছে। কাগজপত্র না দেখিয়ে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। আমরা বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত চাই।”
অন্যদিকে অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমরা সালিশি কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলাম। সালিশের টেবিলে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রাখা ছিল। তবে ওই কাগজপত্র তাকে দেওয়া বা না দেওয়ার বিষয়ে আমাদের জুরি বোর্ডের নিষেধ ছিল। সালিশে বসে বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছে।”
ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে প্রহল্যাদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে অভিযোগটি তদন্ত করে জমি বিক্রির দাবির সত্যতা, টাকা দাবির ভিত্তি, বৈধ দলিলপত্র ও সরকারি রেকর্ড যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের কয়েকজন বলেন, জমি বিক্রির দাবি তুলে টাকা চাওয়া, চাপ প্রয়োগ কিংবা ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ কতটুকু সত্য ও আইনসঙ্গত—তা নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তাদের মতে, সংশ্লিষ্ট দলিলপত্র, সরকারি রেকর্ড ও সালিশি কার্যক্রম যাচাই করে সূক্ষ্ম তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা জরুরি। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।