নজরুল ইসলাম যশোর প্রতিনিধি: দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ পাইকারি আমের মোকাম যশোরে শার্শা উপজেলার বাগাআচড়া বেলতলা আম বাজারে চলতি মৌসুমে আমের দামে ধস নেমেছে। কাঙ্ক্ষিত দাম না পেয়ে লোকসানের মুখে পড়েছেন আমচাষি ও বাগান মালিকরা।উপজেলার বিভিন্ন আম বাজারে মৌসুমের শুরু থেকে বিভিন্ন জাতের আম সরবরাহ শুরু হয়েছে। তবে বাজারে প্রত্যাশিত সংখ্যক পাইকার না আসায় আমের দাম গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। এতে চরম হতাশায় রয়েছেন চাষিরা।
সরেজমিনে বেলতলা আম বাজারসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ভোর থেকে কৃষকরা গোবিন্দভোগ, হিমসাগর, ল্যাংড়া ও সীমিত পরিসরে আম্রপালি জাতের আম নিয়ে বাজারে আসছেন। বর্তমানে প্রতি মণ (৪৪-৪৫ কেজি) গোবিন্দভোগ আম ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা, হিমসাগর ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা, ল্যাংড়া ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং আম্রপালি ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা গত বছরের তুলনায় অনেক কম।
ক্রেতা ও পাইকারের সংখ্যা কম থাকায় অনেক চাষিকে বাধ্য হয়ে কম দামে আম বিক্রি করতে হচ্ছে। ফলে উৎপাদন খরচ উঠবে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন তারা।স্থানীয় আমচাষি জামাল সরদার বলেন, অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এবার আমের ফলন ভালো হয়েছে। কিন্তু বাজারে পাইকার ও ক্রেতা কম থাকায় আমের ন্যায্য মূল্য পাওয়া যাচ্ছে না। বর্তমান পরিস্থিতি চলতে থাকলে লাভ তো দূরের কথা, উৎপাদন খরচ তোলাও কঠিন হয়ে পড়বে।কায়বা ইউনিয়নের আমচাষি রাজ্জাক ও আহমেদ আলী জানান, সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধির কারণে উৎপাদন ব্যয় অনেক বেড়েছে। অথচ বাজারে আমের দাম কম। ফলে চাষিরা বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কা করছেন। তারা বলেন, অন্যান্য বছর মৌসুমের শুরুতে বাজারে পাইকারের উপস্থিতি বেশি থাকলেও এবার তা অনেক কম।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, মৌসুমের শুরুতে অপরিপক্ব আম বাজারজাত হওয়ায় অনেক ভোক্তা আম কেনা থেকে বিরত রয়েছেন। এছাড়া জ্যৈষ্ঠ মাসের মাঝামাঝি সময় এবং ঈদের পর দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আমের চাহিদা বাড়লে বাজার পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।
একাধিক আম ব্যবসায়ী বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে আমের এমন কম দাম অব্যাহত থাকলে অনেক চাষি আমবাগান কেটে ফেলতে বাধ্য হবেন। এতে ভবিষ্যতে এ অঞ্চলে আমচাষে আগ্রহ কমে যেতে পারে।উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, শার্শা উপজেলায় প্রায় ১ হাজার ৬০ হেক্টর জমিতে বাণিজ্যিকভাবে আমের চাষ হচ্ছে। উপজেলায় মোট ৪ হাজার ৬৬৮ জন আমচাষি রয়েছেন। এর মধ্যে হিমসাগর ৩৩৭ হেক্টর, আম্রপালি ২১৫ হেক্টর, ল্যাংড়া ১৫৫ হেক্টর, গোপালভোগ ১৫৫ হেক্টর, গোবিন্দভোগ ৬০ হেক্টরসহ বিভিন্ন জাতের আমের আবাদ রয়েছে। যশোরের শার্শা, ঝিকরগাছা ও চৌগাছা উপজেলা ছাড়াও সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার আমও এ বাজারে বিক্রি হয়।শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দীপক কুমার শাহা বলেন, ঈদের আগে বাজার পরিদর্শনের সময় প্রতি মণ আম ১ হাজার ৬০০ থেকে ৩ হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। তবে বর্তমানে বাজারে দাম কমে গেছে বলে চাষিরা দাবি করছেন।
আমচাষিদের অভিযোগ, বাজার ব্যবস্থাপনায় সমন্বয়ের অভাব ও পর্যাপ্ত পাইকার না থাকায় তারা ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।