এ আর সাইফুল ইসলাম,বিশেষ প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুর জেলার কমলনগর উপজেলার ১নং চর কালকিনি ইউনিয়নের মতিহার্ট সংলগ্ন মেঘনা নদী—এক সময় যে নদী ছিল হাজারো জেলের জীবনের একমাত্র আশ্রয়, আজ সেই নদীই যেন তাদের মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। মাছশূন্য মেঘনায় আজ থমকে গেছে জেলেদের জীবনের চাকা; অনিশ্চয়তার অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে শত শত পরিবার।
সরেজমিনে মতিহার্ট মেঘনা তীর ঘুরে দেখা গেছে, ভোরের আলো ফোটার আগেই নৌকা নিয়ে নদীতে নামেন জেলেরা। বুকভরা আশা নিয়ে জাল ফেলেন স্রোতের বুকে, সারাদিন নদীর সঙ্গে লড়াই করে সন্ধ্যায় ঘরে ফেরেন—কিন্তু হাতে থাকে না মাছ, থাকে শুধু শূন্য জাল আর গভীর হতাশা,এক জেলে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,
“নদী ছাড়া আমাদের আর কোনো পথ নেই। মাছ না থাকলে আমরা কীভাবে বাঁচব? পরিবার নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছি।”
জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে নদীতে মাছ প্রায় নেই বললেই চলে। ফলে সংসার চালানো হয়ে উঠেছে চরম কষ্টকর। অনেক পরিবারে খাবারের অভাব দেখা দিয়েছে, ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা বন্ধ হওয়ার উপক্রম। দোকানে বাকির খাতা লম্বা হচ্ছে, এনজিও ও মহাজনের ঋণের চাপ দিন দিন অসহনীয় হয়ে উঠছে।
জেলেরা জানান, নদীতে গেলেও জাল উঠে ফাঁকা। তেল, সময় ও শ্রম ব্যয় করেও আয় হয় শূন্য। এতে করে প্রতিদিনের ক্ষতির বোঝা আরও ভারী হচ্ছে।
স্থানীয় জেলেদের মতে, নদীতে মাছ কমে যাওয়ার পেছনে রয়েছে একাধিক কারণ—নদী দূষণ,অবৈধ ও নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার,প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়া,নদী ব্যবস্থাপনায় নজরদারির অভাব।
তবে যে কারণই থাকুক, এর দায়ভার আজ গিয়ে পড়েছে অসহায় জেলেদের কাঁধে,মেঘনা তীরের জেলেদের চোখে এখন একটাই প্রশ্ন—এই দুঃসময়ে তাদের পাশে কে দাঁড়াবে?
রাষ্ট্র, প্রশাসন কিংবা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সহযোগিতা না পেলে তাদের জীবন ও জীবিকা চরম সংকটে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। নদীর স্রোত যেমন কখনো শান্ত, কখনো উত্তাল—তেমনি জেলেদের জীবনও আজ দোলাচলে,মেঘনার বুকে তারা এখনো আশার জাল ফেলেই বসে আছেন—কিন্তু সেই আশার স্রোত কবে ফিরবে, তার উত্তর আজও অজানা।