নজরুল ইসলাম যশোর প্রতিনিধি: যশোরে বেনাপোলে জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, হামলা ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বেনাপোল ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ী মো. আবুল কাশেম। শনিবার (২৪ অক্টোবর) যশোর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি এসব অভিযোগকে মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন।
লিখিত বক্তব্যে আবুল কাশেম বলেন, গত ২০ অক্টোবর যশোর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে হযরত আলী তাঁর বিরুদ্ধে দখলবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, মাদক ও অস্ত্র ব্যবসা, চোরাচালান এবং ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ করেন। এ ছাড়া গত ৬ সেপ্টেম্বর পিস্তল, রামদা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা, মারধর এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও তোলা হয়। এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন দাবি করে তিনি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।আবুল কাশেমের দাবি, মূলত সরকারি খাসজমি নিয়ে দুটি পরিবারের দীর্ঘদিনের বিরোধকে কেন্দ্র করে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। জমিটি নিয়ে মোখলেছুর রহমান ও জালাল উদ্দীনের পরিবারের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নিলেও পরবর্তী সময়ে আবার বিরোধ দেখা দেয়।
তিনি জানান, উভয় পক্ষ থানায় অভিযোগ করলে পুলিশের দুই উপপরিদর্শক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং সরকারি খাসজমি নিয়ে বিরোধ না করে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি সমাধানের পরামর্শ দেন। তবে পরবর্তী সময়ে এ নিয়ে আর কোনো সালিস বৈঠক হয়নি।
আবুল কাশেমের ভাষ্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে জালাল উদ্দীনের স্ত্রী ওই জমিতে গোয়ালঘর নির্মাণের উদ্দেশ্যে শ্রমিক নিয়ে মাটি খনন করতে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে হযরত আলী আদালতে মামলা করেন। মামলায় যাঁদের আসামি করা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে শিক্ষার্থী, বন্দরশ্রমিক, দিনমজুর ও ব্যবসায়ী রয়েছেন। বিষয়টি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এবং বেনাপোল পোর্ট থানায় তদন্তাধীন রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে আবুল কাশেম আরও বলেন, বিরোধপূর্ণ জমির মালিক তিনি কিংবা হযরত আলী কেউ নন। জমিটি সরকারি খাসজমি। মূলত দুই পরিবারের জমিসংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে তাঁর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ আনা হয়েছে।হযরত আলীর রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও পাল্টা অভিযোগ করেন আবুল কাশেম। তাঁর দাবি, হযরত আলী বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলটির সক্রিয় কর্মী ছিলেন এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। বর্তমানে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাঁকে ও তাঁর দলকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আবুল কাশেম বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসার পাশাপাশি বেনাপোল ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং স্থানীয় মসজিদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ প্রচার করায় ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা অনুসন্ধান করে সত্য তুলে ধরতে সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান আবুল কাশেম।এ সময় আজিজুর রহমান খোকন, শহিদুল ইসলাম, গোলাম মোস্তফা, মোখলেছুর রহমান ও আক্তার হোসেনসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।