বিশেষ প্রতিনিধিঃ এ আর সাইফুল ইসলাম: আজ রোববার সকাল ১০টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সম্মিলিত এনটিআরসিএ (১–১২তম) নিবন্ধিত নিয়োগ বঞ্চিত শিক্ষক ফেডারেশনের ব্যানারে অবস্থান কর্মসূচি ও লংমার্চ পালন করা হয়েছে। সংগঠনের দাবিতে বলা হয়, ১–১২তম নিবন্ধিত সনদধারী প্রার্থীদের দ্রুত নিয়োগ দিতে প্রধান উপদেষ্টার নির্বাহী আদেশে বিশেষ গণবিজ্ঞপ্তি জারি করতে হবে।
সমাবেশে ফেডারেশনের নির্বাহী নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন গণ-আমির আসহাব, নীলিমা চক্রবর্তী, জিএম ইয়াছিন, আব্দুল মমিন পলাশ, রুহুল আমিন পাখি, শাহ আলম, নাসরীন সুলতানা, পরিচালক, বিভাগীয় প্রতিনিধি, জেলা কমিটির নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ সদস্যরা।
সংগঠন জানায়, ২০২২ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত তারা নিয়োগের আশায় টানা আন্দোলন করে আসছে। দীর্ঘ ২০০ দিনের অনশন শেষে তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি দাবি মেনে নেয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে একাধিক আলোচনা হলেও কোনো দাবি বাস্তবায়িত হয়নি। দাবি পূরণ না হওয়ায় তারা “শূন্য হাতে” ফিরতে বাধ্য হন এবং বিষয়টি আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় বছরের পর বছর ঝুলে থাকে।
সংগঠনের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, ১১ আগস্ট ২০২৪ এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান নিবন্ধিত প্রার্থীদের নিয়োগ প্রসঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ পাঠান। পরবর্তীতে প্রস্তাবনা কমিটি গঠন করে ১–১২তম ব্যাচের শিক্ষকদের জন্য বিশেষ গণবিজ্ঞপ্তির প্রস্তাব করা হয়, যা শিক্ষা উপদেষ্টা অনুমোদন করেন। পরে আইনগত জটিলতার কথা উল্লেখ করে বিষয়টি ৮ সেপ্টেম্বর আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।
এই প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মতামত ও ভোটিংয়ের নামে সময়ক্ষেপণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
২০২৪ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর আন্দোলনের পর শিক্ষা উপদেষ্টা মৌখিক আশ্বাস দিলেও কোনো বাস্তব পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। একইভাবে ২০ অক্টোবর আইন উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে অনুরোধ জানানো হলেও ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। সংগঠনের অভিযোগ, আইনগত মতামতের অজুহাতে বারবার বিষয়টি বিলম্বিত করা হচ্ছে এবং নিয়োগের প্রক্রিয়া জটিল করে তোলা হচ্ছে।
তারা আরও অভিযোগ করেন, ৩৫ বছরের বেশি বয়সের প্রার্থীদের বিভিন্ন অজুহাতে বাদ দেয়া হচ্ছে এবং সনদের মেয়াদ দেখিয়ে অপকৌশল ব্যবহার করে নিয়োগের বাইরে রাখা হচ্ছে। ১ জুন অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকেও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলেও দাবি করা হয়।
নেতৃবৃন্দ বলেন, এনটিআরসিএ গত কয়েক বছরে শূন্যপদ পূরণের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। আবেদনকারীদের পূর্বের আবেদন মূল্যায়ন না করে পরবর্তী গণবিজ্ঞপ্তিতে নতুন করে শূন্যপদ দাবি করা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে বলা হয়েছে যোগ্য প্রার্থী পাওয়া যায়নি, কিন্তু পরে কম নম্বরে বা ভিন্ন পদ্ধতিতে অন্যদের নিয়োগ দেয়া হয়েছে।
এ ছাড়াও আবেদনকারীদের দেয়া “ইয়েস অপশন” থাকার পরও চাকরিতে সুপারিশ না করা—সংগঠনের মতে অনৈতিক ও অমানবিক।
এন্ট্রি-লেভেল বয়সসীমা বিবেচনায় না নেয়ায় বহু নিবন্ধিত প্রার্থী এখন আর কোনো নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারছেন না বলেও অভিযোগ করা হয়। তাদের দাবি, এই প্রক্রিয়ায় অসংখ্য যোগ্য প্রার্থী নিয়োগ বঞ্চিত হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
তারা মনে করেন, প্রশাসনিক জটিলতার কারণে বিষয়টি বারবার বিলম্বিত হচ্ছে এবং নির্বাহী আদেশই একমাত্র সমাধান।
ফেডারেশনের নেতারা বলেন, অল্প সংখ্যক নিবন্ধিত শিক্ষক নিয়োগ বঞ্চিত রয়েছেন, যাদের বেকারত্ব ও মানবেতর জীবন থেকে মুক্তিতে জরুরি ভিত্তিতে বিশেষ নির্বাহী আদেশ প্রয়োজন। তারা আজকের অবস্থান কর্মসূচির পাশাপাশি “লংমার্চ টু যমুনা” কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।